The Dhaka Times
তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে রাখার প্রত্যয়ে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সামাজিক ম্যাগাজিন।

হারিয়ে যাওয়া দু’টি মসজিদের কথা

বহু ঐতিহাসিক মসজিদও রয়েছে যেগুলো পরবর্তী সময়ে সংস্কার করে এর ঐতিহ্য বজায় রাখা হয়েছে

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ শুভ সকাল। শুক্রবার, ১১ জানুয়ারী ২০১৯ খৃস্টাব্দ, ২৮ পৌষ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, ৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরি। দি ঢাকা টাইমস্ -এর পক্ষ থেকে সকলকে শুভ সকাল। আজ যাদের জন্মদিন তাদের সকলকে জানাই জন্মদিনের শুভেচ্ছা- শুভ জন্মদিন।

হারিয়ে যাওয়া দু’টি মসজিদের কথা 1

বাংলাদেশে বহু মসজিদ রয়েছে। বহু ঐতিহাসিক মসজিদও রয়েছে যেগুলো পরবর্তী সময়ে সংস্কার করে এর ঐতিহ্য বজায় রাখা হয়েছে। তবে আজ রয়েছে এমন দুটি মসজিদের কথা যে মসজিদ হারিয়ে গেছে।

নারায়ণগঞ্জের শনমান্দি ইউনিয়ন। এই গ্রামের পাশ দিয়ে ব্রক্ষ্মপুত্র নদী এঁকেবেঁকে বয়ে গিয়েছে। মুঘল আমলে এই নদীটিই ছিল এই গ্রামের প্রাণদায়িনী, তবে খানিকটা মজে গেলেও-এখনও চরিত্রের বদল হয়নি। বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটির বই ‘সোনারগাঁও-পানাম’ থেকে জানা যায়, এই ইউনিয়নে রয়েছে মুঘল আমলের দু’টি মসজিদ।

এশিয়াটিক সোসাইটির বইয়ে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এই মসজিদটি সবার প্রথমে নজরে আসে ফকির ফারুক এবং হাসান সাইমুমের ফিল্ডওয়ার্কের সময়। মসজিদটির স্থাপত্য-কৌশল ও নকশা পর্যবেক্ষণ করে তারা এই মসজিদটি সপ্তদশ কিংবা অষ্টাদশ শতকে তৈরি বলে রায় দেন।

১৯৯৯ সালে প্রকাশিত বইয়ে লেখা হয়েছিল যে, এই মসজিদ বেশ কয়েকবার সংস্কার এবং পরিবর্ধনের কাজ করা হয়েছে। উত্তর ও দক্ষিণ দু’দিকে দরজা ও পশ্চিমদিক বাদ দিয়ে বাকি তিনদিকে বারান্দা যোগ হয়। তবে এই মসজিদের বেশিরভাগ সংস্কার কাজই হয়েছে ১৯৪৫ সালের সময়। মসজিদটি জামে মসজিদ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে এবং এখানকার একটি মাদ্রাসা কমিটি এর পরিচালনায় নিয়োজিত রয়েছে।

বর্গাকৃতির এই মসজিদটির মাথায় একটি গম্বুজ ছিল, সঙ্গে ৪টি অষ্টাভুজ কর্নার টাওয়ার। ভেতরে আদিতে ২.২৫ বর্গমিটার জায়গা থাকলেও প্লাস্টার, পেইন্টিং ও অন্যান্য পরিবর্তন-পরিবর্ধনে আদি পরিমাপ মোটেও বজায় ছিল না। আদি নকশায় কেবল পূর্ব দিকের দেওয়ালে প্রবেশপথ ছিল। ভেতরের মেহরাবে পেইন্ট করা হয়েছে, গম্বুজে ঝুলন্ত নকশা। ভেতরে ৬ জন মানুষের একসঙ্গে নামাজ পড়ার ব্যবস্থা ছিল। মূল প্রবেশদ্বারের উল্টোদিকে পশ্চিম দেওয়ালে ৩টি মেহরাব ছিল, যার মাঝেরটি ছিল বড় ও দু’দিকেরটা অপেক্ষাকৃত ছোট। উত্তরদিকের মেহরাব ক্লোসেট হিসেবে ব্যবহার হতো বলে উল্লেখ রয়েছে। বাইরের দেওয়ালে প্লাস্টার এবং চুনকাম করা ও মুঘল রীতিতে সারিবদ্ধ আয়তাকার প্যানেল দিয়ে সাজানো রয়েছে। এই মসজিদের গম্বুজ ছিল অর্ধবৃত্তাকার, পদ্ম ও কলসের এবং কার্নিশে সারিবদ্ধ পদ্মপাপড়ির নকশা দিয়ে অলংকৃত ছিল।

আরও একটি মসজিদ হলো দড়িকান্দি মসজিদ। এক নিম্নভূমির পাড়ে এই মসজিদের অবস্থান। বাইরে অযুখানা, সঙ্গে ঝা-চকচকে বৈশিষ্ট্যবিহীন এক একতলা দালান রয়েছে। ভেতরটা সাদা টাইলসে আবরিত। তবে মেহরাবও নতুন। পাশেই থাকা মাদ্রাসার বড় হুজুর জানালেন, এটাই হলো সেই দড়িকান্দি মসজিদ। ২০০২-০৩ সালে মাদ্রাসার পৃষ্ঠপোষকতায় এই মসজিদটি পূনরায় তৈরি করা হয়েছে। তবে সেই আদি দালানের কি হলো? পুরোটাই ভেঙে সম্পূর্ণ নতুনভাবে তৈরি করা হয়েছে এই দালানটি। আগেকার ইট স্থানীয়ভাবে বিক্রি করেও কিছু খরচের যোগান করা হয়েছে।

আগের মসজিদে স্থান সংকুলান হতো মাত্র ৬ জনের, এখন সেখানে ৫০-৬০ জনের মতো হয়। দড়িকান্দির মতো এই মসজিদেও আর কোনও গম্বুজ বা মিনার বসানো হয়নি, ভবিষ্যৎ বিস্তৃতির কথা চিন্তা করেনি কেও। যেখানে অতীত ঐতিহ্য বহাল রেখে আরও দুর্দান্তভাবে মসজিদটির প্রসার ঘটার কথা ছিলো সেখানে নির্জিব হয়ে হারিয়ে যেতে বসেছে ঐতিহ্যবাহী মসদিদ দুটি।

তথ্যসূত্র: https://nagorik.com

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো
Loading...