The Dhaka Times
তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে রাখার প্রত্যয়ে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সামাজিক ম্যাগাজিন।

শাহনাজ রহমতুল্লাহর দাফন সম্পন্ন: কিছু অজানা কথা

শাহনাজ রহমত উল্লাহ ১৯৯২ সালে একুশে পদকে ভূষিত হন

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ খ্যাতিমান সংগীতশিল্পী শাহনাজ রহমতুল্লাহ আমাদের মাঝে আর নেই (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। শনিবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টায় রাজধানীর বারিধারায় হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে নিজ বাসায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।

শাহনাজ রহমতুল্লাহর দাফন সম্পন্ন: কিছু অজানা কথা 1

বারিধারার পার্ক মসজিদে নামাজে জানাজা শেষে বনানীর সামরিক কবরস্থানে তাঁকে সমাহিত করা হয়। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৬৭ বছর। মৃত্যুর সময় তিনি স্বামী, এক ছেলে ও এক মেয়ে রেখে গেছেন।তাঁর স্বামী মেজর (অব.) আবুল বাশার রহমত উল্লাহ একজন ব্যবসায়ী। মেয়ে নাহিদ রহমত উল্লাহ থাকেন লন্ডনে ও ছেলে এ কে এম সায়েফ রহমত উল্লাহ মর্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এক বিশ্ববিদ্যালয় হতে এমবিএ করে এখন কানাডায় বসবাস করেন।

১৯৫২ সালে জন্ম নেন এই সংগীত শিল্পী জনপ্রিয় চলচ্চিত্র নায়ক জাফর ইকবাল এবং বরেণ্য সুরকার আনোয়ার পারভেজের বোন। তিনি মুক্তিযুদ্ধে শহীদ আলতাফ মাহমুদের পরিবারেরও একজন ঘনিষ্ঠ ছিলেন। সেই সুবাদে শিশু বয়সেই গানের জগতে স্থান করে নেন শিল্পী শাহনাজ রহমত উল্লাহ।

প্রতিথযশা এই সংগীতশিল্পী শাহনাজ রহমতুল্লাহর ডাক নাম শাহীন। যিনি গান শুরু করেছিলেন মায়ের অনুপ্রেরণাতে। তাঁর পরিবারের ঘনিষ্ঠ দেশের আরেক বরেণ্য গীতিকার গাজী মাজহারুল আনোয়ার। শাহনাজ রহমত উল্লাহ ষাটের দশকেই চলচ্চিত্র, টেলিভিশন ও গ্রামোফোন রেকর্ডেও সমানভাবে স্থান করে নিয়েছিলেন কিছুটা ব্যতিক্রমী কণ্ঠের কারণে।

তিনি ১০ বছর বয়স থেকেই গান শুরু করেন। খেলাঘর হতে শুরু করা এই শিল্পীর কণ্ঠ শুরু থেকেই ছিল বেশ পরিণত। তিনি গজল সম্রাট মেহদী হাসানের শিষ্য হয়েছিলেন। তবে শাহনাজ রহমত উল্লাহ খুব অল্প বয়সে তুমুল জনপ্রিয়তা পেয়েছিলেন কী করে? এমন প্রশ্নে হয়তো অনেকেরই থাকতে পারে।

আসলে সুরের সঙ্গে একটা শাস্ত্রীয় কাজ থাকতো তাঁর সব সময়। তাঁর গলার ঢং ছিলো রেওয়াজি। এটিই তাঁকে জনপ্রিয়তা এনে দিয়েছিলো। মুক্তিযুদ্ধে বিজয় লাভের মুহূর্তে শাহনাজ রহমত উল্লাহর কণ্ঠেই ধ্বনিত হয়েছিলো ‘জয় বাংলা-বাংলার জয়’ গানটি।

এ গানটিসহ শাহনাজ রহমত উল্লাহর গাওয়া ৩টি গান ঠাঁই পেয়েছিলো বিবিসির শ্রোতাদের ভোটে মনোনীত সর্বকালের শ্রেষ্ঠ ২০টি বাংলা গানের তালিকাতে।

ষাটের দশকে এসে তৎকালীন পাকিস্তান টেলিভিশনের ঢাকা কেন্দ্রের শুরুর দিকেই প্রযোজক হিসেবে কাজ শুরু করেছিলেন টেলিভিশন ব্যক্তিত্ব মোস্তফা কামাল সৈয়দ, তার অনুষ্ঠানেই শাহনাজ রহমত উল্লাহ অনেকগুলো কালজয়ী গান গেয়ে অগণিত মানুষের হৃদয় জয় করেছেন।

শাহনাজ রহমত উল্লাহ ১৯৯২ সালে একুশে পদকে ভূষিত হন। ১৯৯০ সালে ‘ছুটির ফাঁদে’ সিনেমাতে গান গেয়ে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান শাহনাজ রহমত উল্লাহ। তাছাড়া ২০১৬ সালে ‘চ্যানেল আই মিউজিক অ্যাওয়ার্ড’ আয়োজনে আজীবন সম্মাননা, ২০১৩ সালে সিটি ব্যাংক হতে গুণীজন সংবর্ধনা দেওয়া হয় শাহনাজ রহমত উল্লাহকে। গান গেয়ে আরও অসংখ্য পুরস্কার ও সম্মাননা পেয়েছেন শাহনাজ রহমত উল্লাহ।

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো
Loading...