The Dhaka Times
তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে রাখার প্রত্যয়ে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সামাজিক ম্যাগাজিন।

বহুল আলোচিত জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ড: ১০০ বছরেও ক্ষমা চাইনি ব্রিটেন!

জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ড ভারতীয় উপমহাদেশের ইতিহাসে এক অন্যতম কুখ্যাত গণহত্যা

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের একশ বছর পূর্ণ হয়েছে গত ১৩ এপ্রিল। অর্থাৎ শতবর্ষ আগে ১৯১৯ সালের ১৩ এপ্রিল ভারতের পাঞ্জাব প্রদেশের অমৃতসর শহরে নিরস্ত্র বিক্ষোভকারীদের বর্বরতম গুলি চালায় ব্রিটিশ সেনারা। সেই ঘটনায় আজও ক্ষমা চাইনি ব্রিটেন!

বহুল আলোচিত জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ড: ১০০ বছরেও ক্ষমা চাইনি ব্রিটেন! 1

জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ড ছিলো ভারতীয় উপমহাদেশে ব্রিটেনের ঘৃণ্য ঔপনিবেশিক শাসনের নিকৃষ্ট ও জঘন্যতম ঘটনা বা হত্যাকাণ্ড।

বর্বরোচিত এই হত্যাকাণ্ডের জন্য ব্রিটিশ সরকারের পক্ষ হতে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানিয়ে আসছে উপমহাদেশ। ১০০ বছর পরও ক্ষমা চাইলো না ক্ষয়িষ্ণু ব্রিটেন। গত বুধবার ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মে দুঃখপ্রকাশ করেন! তবে তিনি ক্ষমা চাননি। পার্লামেন্টে দাঁড়িয়ে ওই হত্যাকাণ্ডের শতবর্ষে তেরেসা মে বলেন, ‘আমরা গভীরভাবে দুঃখপ্রকাশ করছি সেদিনের ওই ঘটনার জন্য।’

জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ড ভারতীয় উপমহাদেশের ইতিহাসে এক অন্যতম কুখ্যাত গণহত্যা। অবিভক্ত ভারতের পাঞ্জাব প্রদেশের অমৃতসর শহরে নিরাপত্তা এবং শৃঙ্খলার দায়িত্বে ছিলেন ইংরেজ সেনানায়ক ব্রিগেডিয়ার রেগিনাল্ড এডওয়ার্ড হ্যারি ডায়ার। শহরে যে কোনো ধরনের জনসভা নিষিদ্ধ করেন তিনি।

নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ১৩ এপ্রিল জালিয়ানওয়ালাবাগের উঁচু দেওয়ালঘেরা চত্বরে জড়ো হয় প্রায় ১০ হাজার ভারতীয় বিক্ষোভকারী। কয়েক ডজন সেনা নিয়ে সভাস্থলে পৌঁছান অমৃতসরের কসাই হিসেবে খ্যাত ডায়ার। এই সময় একমাত্র প্রবেশপথ আটকে দেন তিনি। বিক্ষোভকারীদের কোনোরূপ সতর্ক না করেই সমাবেশের ওপর অতর্কিত গুলি চালানোর নির্দেশ দেন তিনি। ব্রাশফায়ারে ঝাঁঝরা হয়ে ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়ে ৩৭৯টি তাজা প্রাণ। গুরুতর জখম হয় আরও অন্তত ১ হাজার সাধারণ মানুষ।

এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তখন ইংরেজ সরকারের দেওয়া ‘নাইটহুড’ উপাধি ত্যাগ করেন। পার্লামেন্টের ওয়েস্টমিনস্টার হলে বিষয়টি নিয়ে হাউস অব কমন্সে বিতর্কও ছিল। নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার প্রস্তাব আনেন ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ পার্টির এক এমপি। তবে ব্রিটিশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এশিয়া-প্যাসিফিকবিষয়ক ভারপ্রাপ্ত মন্ত্রী মার্ক ফিল্ড বলেন, ‘ক্ষমা চাওয়ার সঙ্গেই আর্থিক দায়বদ্ধতা জড়িত রয়েছে।’

অনেকের ধারণা মতে, ব্রিটিশ পাঠ্যসূচিতে পাঞ্জাবের ওই হত্যাকাণ্ডের ঘটনার অন্তর্ভুক্তি, হতাহতদের উত্তরাধিকারীদের জন্য ক্ষতিপূরণ ইত্যাদি দাবি বিতর্কে ওঠে। অনেকের ধারণা মতে, সেই কারণেই মন্ত্রী আর্থিক প্রসঙ্গ টেনেছিলেন।

তিনি আরও বলেন, ‘আমি একটু গোঁড়ামনস্ক, ঔপনিবেশিক ইতিহাসের জন্য ক্ষমা চাইতে আমারও একটু অনীহা রয়েছে। তাছাড়া সরকারি দফতরের ক্ষমা চাওয়ার সঙ্গে আর্থিক দায়বদ্ধতা চাপতে পারে বলেও একটা চিন্তা রয়েছে মাথায়।’ তবে এই ঘটনায় নিঃশর্ত ক্ষমা চান প্রধান বিরোধী দল লেবার পার্টির নেতা জেরেমি করবিন। ইতিপূর্বে সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরুন ২০১৩ সালে জালিয়ানওয়ালা বাগ পরিদর্শনের সময়ও ওই ঘটনার জন্য কোনো ক্ষমা চাননি।

এই বর্বর হত্যাকাণ্ডের শতবর্ষ উপলক্ষে এদিন জালিয়ানওয়ালাবাগে শহীদদের সমাধিতে ফুল দেন ভারতের ব্রিটিশ হাইকমিশনার ডমিনিক আসকুইথ। ক্ষমা চাওয়া প্রসঙ্গে ব্রিটেনের রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথের বক্তব্য উল্লেখ করে তিনি বলেন যে, ‘আপনি নতুন করে ইতিহাস লিখতে চাইতেই পারেন। তবে বাস্তবে এটি কখনও সম্ভব না। আপনি যা করতে পারেন, সেটি হলো ইতিহাস হতে শিক্ষা নিতে পারেন।’

Loading...