The Dhaka Times
তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে রাখার প্রত্যয়ে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সামাজিক ম্যাগাজিন।

শিরোচ্ছেদের হাত থেকে বাঁচানো যাবে কী সেই মুর্তজাকে!

১৩ বছর বয়স হতে সৌদি কারাগারে বন্দি রয়েছে এই কিশোর

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ ১০ বছর বয়সে করা অপরাধে শেষ পর্যন্ত শিরোচ্ছেদ হতে চলেছে এক সৌদি কিশোরের। তার অপরাধ, সে গণতন্ত্রকে ভালোবাসে। সে সৌদির রাজতন্ত্রকে উপড়ে ফেলতে চায়। তার জন্য শান দেওয়া হচ্ছে জল্লাদের খড়গ! শেষ পর্যন্ত কী হবে এই কিশোরের?

শিরোচ্ছেদের হাত থেকে বাঁচানো যাবে কী সেই মুর্তজাকে! 1

১৩ বছর বয়স হতে সৌদি কারাগারে বন্দি রয়েছে এই কিশোর। তার নাম হলো মুর্তজা কুরেইরিস। গত ৮ জুন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম সিএনএনে এই বিষয়ে একটি অনুসন্ধানী রিপোর্ট প্রকাশের পর সারাবিশ্বময় উত্তাল হয়ে ওঠে।

মুর্তজার ওপর ঝুলন্ত মৃতুদণ্ডাদেশ রোহিত করতে অনুরোধ জানানো হতে থাকে বিশ্বের নানা প্রান্ত হতে। শিরোশ্ছেদের পূর্বে তাকে বাঁচাতে ঝাঁপিয়ে পড়েছে বিশ্ব, তার জন্য কাঁদছে পুরো আরব মায়েরা।

অবশ্য এখন পর্যন্ত মন গলেনি সৌদি সরকারের। মুর্তজা কুরেইরিসের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হলে ১১১ বছর পর আবারও রচিত হবে আরেক ক্ষুদিরাম কাহিনী।

১৯০৮ সালে বিপ্লবী ক্ষুদিরাম বসুর ফাঁসি কার্যকর করেছিলো ব্রিটিশ সরকার। ফাঁসিতে ঝোলার পূর্বে ক্ষুদিরামের বয়স ছিল মাত্র ১৮ বছর, ৭ মাস ও ১১ দিন।

ওই ঘটনার ঠিক ১১১ বছর পর সৌদি আরবে শিরোশ্ছেদ হতে চলেছে কিশোর মুর্তাজা কুরেইরিসের। বর্তমানে যার বয়স ১৮ বছর। ক্ষুদিরামের মতোই রাজদ্রোহীতার অভিযোগ আনা হয়েছে মুর্তজার কুরেইরিসের ওপর।

সিএনএনের রিপোর্ট অনুযায়ী মুর্তজা কুরেইরিসের বিরুদ্ধে সৌদি সরকারের অভিযোগ হলো, ২০১১ সালে আরব বসন্ত চলাকালীন সৌদিতে গণতন্ত্রের দাবিতে ৩০ জন বন্ধু-বান্ধবদের জড়ো করে গণবিক্ষোভে নামে মুর্তজা। এক সাইকেল রাইডে অংশ নিয়ে সৌদি সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছিল মুর্তজার নেতৃত্বে থাকা কিশোররা। সে সময় মর্তুজার বয়স ছিল মাত্র ১০ বছর।

মর্তুজার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, মুর্তাজার ভাই আলী কুরেইরিস মোটরসাইকেলেযোগে সৌদির পূর্বাঞ্চলীয় শহর আওয়ামিয়ার এক থানায় পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ করে। সেই সময় তার সঙ্গে মুর্তাজাও ছিল। ওই ঘটনার ৩ বছর পর মুর্তাজাকে বাহরাইন সীমান্তে গ্রেফতার করে সৌদি আরবের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। সেদিন পরিবারের সঙ্গে সৌদি ছেড়ে প্রতিবেশী দেশ বাহরাইনে পালিয়ে যাচ্ছিল মুর্তজা কুরেইরিস।

সিএনএনের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গ্রেফতারের সময় মুর্তজার বয়স ছিলো মাত্র ১৩ বছর। সৌদি রাজতন্ত্রের বিরুদ্ধে আন্দোলনে অংশ নেয় সে। রাজদ্রোহীতার অভিযোগে গ্রেফতার হলেও বয়স কম হওয়ার কারণে মুর্তজাকে মৃতুদণ্ড দেয়নি সৌদি আরবের আদালত। যে কারণে চার বছর ‘বিচার-পূর্ব কারাভোগ’করানো হয় মর্তুজাকে। বর্তমানে তার বয়স ১৮ বছর। এখন মর্তুজার মৃতুদণ্ড কার্যকর করতে চায় সৌদি সরকার।

শেষ পর্যন্ত বাঁচানো যাবে কী মুর্তাজাকে!

বর্তমানে বিশ্বব্যাপী আলোচিত এক নাম হলো এই মুর্তাজা কুরেইরিস। কারাগারে বসে নিজের মৃত্যুদণ্ডের দিন গুণছে। এদিকে মুর্তাজাকে বাঁচানোর জন্য ঝাঁপিয়ে পড়েছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালসহ সমগ্রবিশ্বের মানবাধিকার সংগঠনগুলো। তার মৃত্যুদণ্ড রদ করতে আবেদন জানিয়েছে সৌদি আরবের কাছে। তবে ওই সিদ্ধান্তে এখনও অনড় সৌদি সরকার।

তাই এই বিষয়ে বেশ আশংকা প্রকাশ করছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালসহ বিশ্বের সকল মানবাধিকার সংঘঠনগুলো।

তাদের ধারণা মতে, মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা না করার বিষয়ে বিশ্বের আবেদনে এখন পর্যন্ত সাড়া দেয়নি সৌদি আরব। এছাড়া মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার দিক থেকে বিশ্বের প্রথম ৫টি দেশের মধ্যে সৌদি আরবের স্থান তৃতীয়তে।

উল্লেখ্য, শুধু গতবছর ১৪৯ জনের শিরোশ্ছেদ করা হয় সৌদিতে। চলতি বছর এ পর্যন্ত ১০০ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে সৌদি আরব।

বিশ্ব রাজনীতি বিশ্লেষকের ধারণা মতে, রাজতন্ত্রের ওপর হুমকি আসতে পারে এমন কোনো কিছুই বরদাস্ত করে না সৌদি সরকার। সমূলেই সেই বিজ উপড়ে ফেলে তারা। ২০১০ সালের আরব বসন্তের জোয়ারে মিসর, তিউনিসিয়ার মতো দেশ ভেসে গেলেও খুব সফলভাবেই সেই জোয়ার আটকে দিতে পারে সৌদি আরব।

এই সফলতার হাতিয়ারই হলো রাজনৈতিক ও সামাজিক বিদ্রোহ দমনের জন্য সৌদি আইন মৃত্যুদণ্ড। সেই মানুষটি যে বয়েসেরই হোক তার শেষ পরণতি হয় মৃত্যুদণ্ড।

তাই অবস্থা দেখে বোঝা যাচ্ছে মুর্তজা কুরেইরিসের ঘাড়েও জল্লাদের শানিত অস্ত্রই পড়তে চলেছে বলে শংকা করছে বিশ্ববাসী- মানবিকতার কোনো দামই হয়তো থাকবে না সৌদি সরকারের কাছে।

Loading...