The Dhaka Times
তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে রাখার প্রত্যয়ে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সামাজিক ম্যাগাজিন।

বাংলাদেশী শুভ রয়ের আবিষ্কার: আগামী বছর বাজারে আসছে কৃত্তিম কিডনী!

কিডনী প্রতিস্থাপনে বর্তমানে যে খরচ পড়ে, তার থেকে অনেক কম খরচে মানুষ অচল কিডনী জনিত সমস্যাগুলো হতে খুব সহজে মুক্তি পাবেন

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ বাঙালি বিজ্ঞানী শুভ রায় কৃত্রিম কিডনি তৈরি করেছেন। খুব শীঘ্রই বাজারে আসছে এই কৃত্রিম কিডনি। কম খরচে কিডনির সমস্যার চটজলদি সমাধান হবে এটি।

বাংলাদেশী শুভ রয়ের আবিষ্কার: আগামী বছর বাজারে আসছে কৃত্তিম কিডনী! 1

এই কৃত্রিম কিডনির আবিষ্কারক শুভ রয়ের দাবি হলো, কিডনী প্রতিস্থাপনে বর্তমানে যে খরচ পড়ে, তার থেকে অনেক কম খরচে মানুষ অচল কিডনী জনিত সমস্যাগুলো হতে খুব সহজে মুক্তি পাবেন।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্ণিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের এই গবেষকের জন্ম ১৯৬৯ সালের নভেম্বর, ঢাকায়। যদিও তিনি পড়াশোনা করেছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেই।

জানা গেছে, ক্যালিফোর্ণিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বিখ্যাত ওই প্রকল্পের নাম দেওয়া হয়েছে কিডনী প্রজেক্ট। সেখানে বাঙালি শুভ রয়ের সঙ্গে এই আবিষ্কারে আরও হাত লাগিয়েছেন নেফ্রোলজিষ্ট উইলিয়াম এইচ ফিসেল। ইতিমধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বহু কিডনী বিকল রোগীর শরীরে স্থাপন করা হয়েছে এই কৃত্তিম কিডনী। এই কিডনির আকার হাতের মুঠোর সমান। খরচ তুলনামূলকভাবে অনেকটাই কম। মানব দেহের দুটি কিডনি বিকল হলে রক্ত শোধনে ঘাটতি দেখা দেয়। শরীরে বিষাক্ত বর্জ্য জমার কারণে রক্ত দূষিত হয়।

বর্তমানে এই সমস্যা সমাধানের জন্য ডায়ালিসিস প্রক্রিয়ার সাহায্যে কৃত্রিম উপায়ে রক্ত শোধন করা হয়ে থাকে। এজন্য রোগীকে বার বার হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়। শুধু তা-ই নয়, ডায়ালাইসিস চলাকালীন বা পরে অধিকাংশ রোগী ডায়াবেটিস এবং হাইপার টেনশনে ভুগে থাকেন। যে কারণে সমস্যা আরও জটিল করে তোলে। বিকল কিডনির পরিবর্তে রোগীর দেহে সুস্থ কিডনি প্রতিস্থাপনও হয়ে থাকে। তবে তা মোটেও সহজলভ্য নয়, বরং ব্যায় সাপেক্ষ। এই সব সমস্যার সমাধানে এই দশকের মধ্যেই বাজারে আসছে এই কৃত্রিম কিডনি। এই কৃত্রিম কিডনি স্বাভাবিক কিডনির সব কাজ করতে সক্ষম।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ও এই যন্ত্রের সহ-আবিষ্কারক শুভ রায় জানিয়েছেন যে, চলতি দশকের শেষ বা নয়া দশকের গোড়ার দিকে বাজারে পাওয়া যাবে এই কিডনি। আমেরিকায় তৈরি এই যন্ত্র আপাতত দেশটির কয়েক হাজার রোগীর দেহে পরীক্ষামূলকভাবে বসানোও হয়েছে।

জানা গেছে, শারীরিক সুরক্ষা ও সর্বাঙ্গীন সাফল্যের পরীক্ষায় পাস করলে তা বাজারে ছাড়ার অনুমতি দেবে মার্কিন খাদ্য এবং ওষুধ নিয়ন্ত্রক সংস্থা এফডিএ।

কীভাবে কাজ করে এই কিডনিটি? এই প্রশ্নে শুভ রায় জানিয়েছেন,যন্ত্রটি খুব সহজের পেটের ভিতরে স্থাপন করা যাবে। স্বাভাবিক কিডনির মতোই রক্ত শোধন করা ছাড়াও হরমোন উত্পাদন এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম এই কৃত্রিম কিডনিটি।

শুভ রয় জানিয়েছে, সাধারণ হিমোডায়ালিসিস প্রক্রিয়ার মতো রক্ত হতে বিষাক্ত বর্জ্য বাদ দেওয়া এবং জীবন্ত কিডনি কোষ দিয়ে তৈরি বায়ো রিঅ্যাক্টর এবং সূক্ষ্ণ পর্দার মাধ্যমে রক্ত শোধনের কাজ নিখুঁতভাবে করতে পারে এই কৃত্রিম কিডনি।

ডায়ালাইসিস ছাড়াও ৬০ হাজারের বেশি মানুষ কিডনিতে পাথর ও মূত্রাশয়ের চিকিত্সা করিয়েছেন। কৃত্রিম কিডনির সঠিক খরচের হিসাব এখনই না জানালেও শুভ রায়ের দাবি হলো, ডায়ালিসিস এবং কিডনি প্রতিস্থাপনের চেয়ে অনেক কম খরচে বসানো যাবে এই কৃত্রিম কিডনি।

সূত্র: ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্ণিয়া, উইকিপিডিয়া ও গুগল। (https://mukulauthor.blogspot.com)

Loading...