The Dhaka Times
তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে রাখার প্রত্যয়ে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সামাজিক ম্যাগাজিন।

নতুন বছর থেকে উইন্ডোজ সেভেন কতোটা নিরাপদ?

উইন্ডোজ সেভেনের অফিশিয়াল এক্সটেন্ডেড সাপোর্ট ২০২০-এর জানুয়ারি মাসের ১৪ তারিখে শেষ হয়ে যাবে

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ আপনার নিশ্চয়ই জানা আছে উইন্ডোজ সেভেন কতোটা জনপ্রিয় অপারেটিং সিস্টেম। প্রথমে মানুষ উইন্ডোজ এক্সপি ছাড়তেই পারছিল না। বর্তমানে উইন্ডোজ সেভেন অনেকেই ছাড়তে পারছে না। তবে উইন্ডোজ সেভেন কতোটা নিরাপদ? সেই প্রশ্ন এসেই যাচ্ছে।

নতুন বছর থেকে উইন্ডোজ সেভেন কতোটা নিরাপদ? 1

সবকিছুর একটা শেষ রয়েছে। উইন্ডোজ সেভেনের অফিশিয়াল এক্সটেন্ডেড সাপোর্ট ২০২০-এর জানুয়ারি মাসের ১৪ তারিখে শেষ হয়ে যাবে। অর্থাৎ ১ মাসও সময় নেই। কেনো উইন্ডোজ সেভেন ব্যাড আইডিয়া, কেনো উইন্ডোজ টেন ব্যবহার করা উচিত ও উইন্ডোজের সাপোর্ট সাইকেল কীভাবে কাজ করে থাকে ইত্যাদি ট্রফিকগুলো নিয়েই আলোচনা করা হয়েছে এই লেখাতে।

উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেম সাপোর্ট টাইম লাইন প্রসঙ্গ

মাইক্রোসফট উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেমের যে কোনো ভার্শনের উইন্ডোজ সাধারণত ১০ বছরের সাপোর্ট পেয়ে থাকে। যার মধ্যে প্রথম ৫ বছর হলো মেইনস্ট্রিম সাপোর্ট; যেখানে ফিচার আপডেট, ডিজাইন আপডেট, ইউআই আপডেট, সিকিউরিটি আপডেট, বাগ ফিক্স ইত্যাদি প্রদান করা হয়। সত্যি কথা বলতে কি মাইক্রোসফট খুবই ভালো মেইনস্ট্রিম সাপোর্ট প্রদান করে এবং এটা তারা অ্যাক্টিভভাবেই হ্যান্ডেল করে থাকেন।

মেইনস্ট্রিম সাপোর্ট শেষ হওয়ার পরের ৫ বছরে এরা এক্সটেন্ডেড সাপোর্ট প্রদান করে থাকে। যেখানে শুধু বাগ ফিক্স ও সিকিউরিটি আপডেট প্রদান করা হয়ে থাকে। নতুন কোনো ফিচার কিংবা ডিজাইন আপগ্রেড করা হয় না। উইন্ডোজ সেভেনের মেইনস্ট্রিম সাপোর্ট ২০১৫ তে শেষ হয়ে যায়। যেহেতু এটি অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি অপারেটিং সিস্টেম তাই এর মেইনস্ট্রিম সাপোর্ট কিছুটা বাড়ানো হয়। জানুয়ারি ২০২০ এ এর এক্সটেন্ডেড সাপোর্টও শেষ হতে চলেছে।

উইন্ডোজ সেভেনে হ্যাকারদের মজা অনেক

আর মাত্র এক মাসের মতো, তারপর উইন্ডোজ সেভেন ইউজ করা সত্যিই অনেক রিস্কি ব্যাপার হয়ে যাবে। এমন কোনো অপারেটিং সিস্টেম যেটার সিকিউরিটি আপডেট ও বাগ ফিক্স বন্ধ হয়ে গিয়েছে। সেটা ব্যবহার করতে আমরা নিশ্চয় কখনই রেকোমেন্ড করবো না। হ্যাকাররা তো এটাই চায়, এরকম কম্পিউটারকেই হ্যাকার টার্গেট বানাবে ও যা ইচ্ছা ম্যালিসিয়াস কার্যক্রম চালাবে। এরকম অপারেটিং সিস্টেম তো হ্যাকারের কাছে অনেকটা স্বর্গ সমতুল্য।

এখনও উইন্ডোজ সেভেন ব্যবহার করা মোটামুটি সেফ। তবে সেটি আর মোটেও সেফ থাকবে না। ঠিক যখন থেকে এর সাপোর্ট শেষ হবে তখন থেকেই বাগ ও সিকিউরিটি ভালনেরাবিলিটি খুঁজে পাওয়ার অপেক্ষায় থাকবে হ্যাকাররা। যেহেতু এখনও অনেক ইউজার উইন্ডোজ সেভেনই ব্যবহার করেন এবং অবশ্যই এর সাপোর্ট শেষ হওয়ার পরেও ব্যবহার করবে, তাই হ্যাকারের কাছে উইন্ডোজ সেভেন ব্যবহার অনেকটা স্বপ্নের অপারেটিং সিস্টেমে পরিণত হতে পারে।

আরও তিন বছরের এক্সট্রা এক্সটেন্ডেড সাপোর্ট

উইন্ডোজ এর কাহিনী এখানেই শেষ নয়। যদিও ২০২০ হতে এর এক্সটেন্ডেড সাপোর্ট বন্ধ করে দেওয়া হবে, তবে মাইক্রোসফট আরও তিন বছরের পেইড এক্সটেন্ডেড সাপোর্ট প্রদান করবে বলে জানিয়েছে। অর্থাৎ মোটামুটি ২০২৩ সাল পর্যন্ত এর সিকিউরিটি আপডেটগুলো রিলিজ হবে, তবে আপনি এক্সট্রা টাকা পে না করলে সেটি ডাউনলোড করে অ্যাপ্লাই করে নিতেও পারবেন না।

যদিও এই এক্সট্রা সময় দেওয়ার পেছনে বেশ কিছু কারণও রয়েছে। অনেক কোম্পানি এখন পর্যন্ত উইন্ডোজ সেভেন ব্যবহার করে থাকে, তাদের সকল সফটওয়্যার কিংবা কার্যক্রম সেই অনুসারেই সেট করা রয়েছে। আপনি হয়তো হোম কম্পিউটার কয়েক মিনিটের পৃথক অপারেটিং সিস্টেমে আপগ্রেড করে নিতে পারবেন, তবে কোম্পানিদের ক্ষেত্রে ব্যাপারটা মোটেও সেই রকম ইজি হবে না।

অনেক কোম্পানিতে অনেক কম্পিউটার রয়েছে, সেগুলোকে আপগ্রেড করতে সময় সাপেক্ষ একটি ব্যাপার। বিজনেসে ডাউন টাইম অর্থই হলো অনেক টাকার লোকসান। তাছাড়া নতুন অপারেটিং সিস্টেম আপগ্রেড করলে কর্মচারীদের নতুন করে ট্রেইনিং প্রদান করার বিষয়টিও রয়েছে। তবে আপনি ও আমি হয়তো ভাবছি এটা আবার কোনো ব্যাপার হলো? উইন্ডোজের সকল অপারেটিং সিস্টেম একই রকম প্রায়, একটা ইউজ করলেই আরেকটা আরামে ইউজ করা যেতে পারে। তবে বিশ্বাস করুন,এমন অনেক লোক রয়েছে যারা মুখস্থ করে কম্পিউটার ইউজ করে থাকে, তাদের সামনে ‘My Computer’ এর স্থানে ‘This PC’ হয়ে গেলেই হবে।

শুধু তাই নয়, অনেক সফটওয়্যার রয়েছে যেগুলো হয়তো নতুন অপারেটিং সিস্টেমে ঠিকঠাক মতো কাজই করবে না। হতে পারে ওই সফটওয়্যার অনেক গভীরভাবে প্রোগ্রামিং করা কিংবা হতে পারে আদিম যুগের সফটওয়্যার যেটা নতুন অপারেটিং সিস্টেমের যোগ্যই নয়। তাহলে কাজের সফটওয়্যার ব্যবহার না করা গেলে তো কোম্পানিগুলোর লস! তাই এই সকল কথা বিবেচনা করেই উইন্ডোজ সেভেন আরও ৩ বছর এক্সট্রা সাপোর্ট দেওয়া হবে।

তবে এই ৩ বছরের এক্সটেন্ডেড সাপোর্ট মোটেও কম দামের নয়, আপনি কোনো উইন্ডোজ এডিশন ইউজ করছেন সে অনুসারে আপনাকে প্রত্যেক বছরে ডাবল টাকা পে করতেই হবে। যেমন ধরুন উইন্ডোজ সেভেন প্রো-এর ক্ষেত্রে প্রথম বছরে ৫০ ডলার, দ্বিতীয় বছরে ১০০ ডলার ও তৃতীয় বছরে ২০০ ডলার পে করতে হবে এক্সটেন্ডেড সিকিউরিটি আপডেট পাওয়ার ক্ষেত্রে। এছাড়া উইন্ডোজ সেভেন এন্টারপ্রাইজের ক্ষেত্রে প্রথম বছর দিতে হবে ২৫ ডলার, দ্বিতীয় বছর ৫০ ডলার ও তৃতীয় বছরের জন্য আপনাকে দিতে হবে ১০০ ডলার।

বর্তমানে কতোজন উইন্ডোজ সেভেন ব্যবহার করছে?

এখনও অনেক বেশি ইউজার উইন্ডোজ সেভেন ব্যবহার করে। একটি অনলাইন ওয়েবসাইট statcounter.com অনুসারে এখনও ৩৫ শতাংশ টোটাল ইন্টারনেট ইউজার এখনও উইন্ডোজ সেভেন ব্যবহার করে থাকেন। তারা আসলে ওয়েব ব্রাউজার হতে ডাটা কালেক্ট করে যে কোনো অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহার করে। সেই অনুসারে এই ডাটা তৈরি করেছে।

তাদের এই অ্যানালাইজ করা ডাটা অনুসারে ৫৩ শতাংশ টোটাল ইন্টারনেট ইউজার উইন্ডোজ ১০ ব্যবহার করে থাকে বর্তমানে। তাহলে তো বুঝতেই পারছেন এখনও সম্পূর্ণ ইন্টারনেট ট্র্যাফিকের প্রায় ৩ ভাগের ১ ভাগ উইন্ডোজ সেভেন ইউজার বিদ্যমান। গত বছরের তুলনায় মাত্র ১০ শতাংশ ইউজার উইন্ডোজ সেভেন হতে উইন্ডোজ ১০ এ আপগ্রেড করেছেন। তাহলে তো বুঝতেই পারছেন, উইন্ডোজ সেভেন সাপোর্ট অফ হয়ে যাওয়ার পর এই ৩ ভাগের ১ ভাগ ইউজার কতোটা বেশি সিকিউরিটি রিস্কের মধ্যে পড়ে যাবেন, হ্যাকার ভালনেরাবিলিটি খুঁজে পাওয়া মাত্রই অ্যাটাক দেবে এটা প্রায় নিশ্চিত করেই বলা যায়।

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো
Loading...