The Dhaka Times
তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে রাখার প্রত্যয়ে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সামাজিক ম্যাগাজিন।

মঠবাড়িয়ার বুড়িরচর গ্রামের মমিন মসজিদ

২০০৩ সালে বাংলাদেশ সরকারের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ এটিকে সংরক্ষিত পুরাকীর্তি ঘোষণা দিয়ে এর রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব গ্রহণ করে

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ শুভ সকাল। শুক্রবার, ৩ জানুয়ারী ২০২০ খৃস্টাব্দ, ২০ পৌষ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ৬ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১ হিজরি। দি ঢাকা টাইমস্ -এর পক্ষ থেকে সকলকে শুভ সকাল। আজ যাদের জন্মদিন তাদের সকলকে জানাই জন্মদিনের শুভেচ্ছা- শুভ জন্মদিন।

মঠবাড়িয়ার বুড়িরচর গ্রামের মমিন মসজিদ 1

যে ছবিটি আপনারা দেখছেন সেটি পিরোজপুর জেলার মঠবাড়িয়ার বুড়িরচর গ্রামের মমিন মসজিদ। এই মসজিদটি নতুন দেখা গেলেও এটি একটি ঐতিহাসিক মসজিদ।

১৯১৩ সালে মঠবাড়িয়ার বুড়িরচর গ্রামের মমিন উদ্দিন আকন নিজ বাড়িতে এই মসজিটি নির্মাণ কাজ শুরু করেন। ২১ জন কারিগর, ৭ বছরে এই মসজিদটির নির্মাণ কাজ শেষ করেন।

জানা যায়, ২০০৩ সালে বাংলাদেশ সরকারের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ এটিকে সংরক্ষিত পুরাকীর্তি ঘোষণা দিয়ে এর রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব গ্রহণ করে। ২০০৮ সালে মসজিদটির সংস্কার কাজ করা হয়েছে। এই সময় লোহার ব্যবহারসহ মূল ডিজাইনের বেশ কিছু পরিবর্তনও করা হয় বলে অভিযোগ তোলা হয়। উল্লেখ্য যে, এই ধরনের কাঠের তৈরি মসজিদ একসময় ভারতের কাশ্মীরেও একটি ছিল; তবে ১৮৮৫ সালের ভূমিকম্পে সেটি ধ্বংসপ্রাপ্ত হলে মঠবাড়িয়ার মমিন মসজিদই এই ধরনের একমাত্র নিদর্শনে পরিণত হয় বলে জানা যায়।

দূরের মসজিদে নামাজ পড়তে যেতে কষ্ট হয় বলে যুবক মমিন উদ্দিন আকন নিজ বাড়িতেই একটি মসজিদ নির্মাণের কথা চিন্তা করেন। এই উপলক্ষে তিনি বিভিন্ন মসজিদ পরিদর্শনের মাধ্যমে সেগুলোর ডিজাইন এবং ক্যালিগ্রাফি সম্পর্কে ধারণা অর্জন করলেন।

সাধারণভাবে দেখা যায়, বাংলাদেশে বেশিরভাগ মসজিদই তৈরি ইট কিংবা পাথরের দ্বারা। এগুলোর বেশিরভাগই মুঘল আমলে তৈরি। এরই ধারাবাহিকতায় মমিন উদ্দিন আকন নিজেই ইটভাটায় ইট তৈরি করে মসজিদটি নির্মাণ শুরু করেন। কিছুদিন পরে তিনি মসজিদটিকে সম্পূর্ণ কাঠ দিয়ে তৈরির পরিকল্পনা গ্রহণ করেন। ওই গ্রামের বেশিরভাগ বাড়িই তখন কাঠের তৈরি ছিলো।

এ ছাড়াও গ্রামটি ছিল বিভিন্ন কাঠ এবং ফলগাছে পরিপূর্ণ। সে কারণে তিনি মসজিদটি বিভিন্ন ধরনের গাছের পাতা, ফুল এবং আনারসের মতো ফলের ডিজাইনে করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেন। দুষ্প্রাপ্য লোহাকাঠ এবং বার্মা সেগুনকাঠের ওপর এসব ডিজাইনে ব্যবহার করা হয় নানা প্রাকৃতিক রং।

জানা যায়, যুবক মমিন উদ্দিন আকন তার আরবি ভাষা, ইসলামিক সংস্কৃতি এবং ক্যালিগ্রাফির জ্ঞানকে এক্ষেত্রে কাজে লাগিয়েছেন। তিনি নিজে বসবাস করতেন গ্রামের একটি সাধারণ ঘরে ও তিনি সাদামাটা জীবনযাপনে অভ্যস্ত ছিলেন। তিনি তত্কালীন বরিশাল জেলার স্বরূপকাঠি থেকে ২১ জন কারিকর ও চট্টগ্রাম এবং বার্মা থেকে কাঠ সংগ্রহ করেন। মসজিদটির পুরো পকিল্পনা, নকশা এবং ক্যালিগ্রাফির কাজ করা হয় মমিন উদ্দিন আকনের তত্ত্বাবধানেই। মসজিদের প্রবেশদ্বারে একটি এবং মেহরাবে একটি ক্যালিগ্রাফির নকশাও বসানো হয়।

গত শতকের শেষের দুই দশক ধরে বৃষ্টির পানির কারণে ও যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে মসজিদটির কারুকাজ এবং রংয়ের ক্ষতি হতে থাকে। এই সময় মমিন আকনের নাতি মোহাম্মদ শহিদুল্লাহ বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় মসজিদটির প্রত্নতাত্ত্বিক মূল্য ও রক্ষণাবেক্ষণের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে লেখালেখি করতে থাকেন। এই সময় তিনি ‘মমিন মসজিদ: স্মৃতি বিস্মৃতির খাতা’ নামে একটি বইও রচনা করেন। যে কারণে ২০০৩ সালে সরকারের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ এটিকে সংরক্ষিত পুরাকীর্তি ঘোষণা করে।

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো
Loading...