The Dhaka Times
তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে রাখার প্রত্যয়ে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সামাজিক ম্যাগাজিন।

১০২টি সম্ভাব্য ভ্যাকসিন তৈরির কাজ এগিয়ে চলেছে

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) তাদের ওয়েবসাইটে এই সংক্রান্ত একটি নথি প্রকাশ করে এই তথ্যটি নিশ্চিত করেছে

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ প্রাণঘাতি করোনা ভাইরাস সংক্রমিত কোভিড-১৯ রোগ প্রতিরোধে বিশ্বজুড়ে ১০২টি সম্ভাব্য ভ্যাকসিন (প্রতিষেধক) তৈরির কাজ এগিয়ে চলেছে।

১০২টি সম্ভাব্য ভ্যাকসিন তৈরির কাজ এগিয়ে চলেছে 1

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) তাদের ওয়েবসাইটে বৃহস্পতিবার এই সংক্রান্ত একটি নথি প্রকাশ করে এই তথ্যটি নিশ্চিত করেছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে যে, বিশ্বজুড়ে গবেষণাধীন সম্ভ্যাব্য এই ১০২টি ভ্যাকসিনের মধ্যে ৮টি ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের অনুমোদনও পেয়েছে। তবে চারদিন আগেও এই সংখ্যা ছিল মাত্র ৭টি। নতুন করে যুক্ত হয়েছে চীনে গবেষণাধীন একটি সম্ভ্যাব্য কোভিড-১৯ ভ্যাকসিনও।

প্রথম ৭টি ভ্যাকসিন মানবদেহে প্রয়োগ (হিউম্যান ট্রায়াল) করা হয়। নতুন করে নথিভূক্ত হওয়া চীনের ওই ভ্যাকসিন এখনও মানবদেহে প্রয়োগ করা হয়েছে কিনা সে সম্পর্কে নিশ্চিত করে কিছুই জানায়নি জাতিসংঘের স্বাস্থ্য বিষয়ক এই সংস্থাটি।

ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের জন্য অনুমোদন পাওয়া ভ্যাকসিনগুলোর মধ্যে চারটিই হলো চীনের। এছাড়াও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যে একটি করে ভ্যাকসিন তৈরির কাজ চলছে। অপরটি যৌথভাবে তৈরির কাজ করছে জার্মানি এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দুটি বায়োটেক কোম্পানির মধ্যে।

গত ১৬ মার্চ প্রথমবারের মতো করোনা ভাইরাসের সম্ভ্যাব্য ভ্যাকসিন মানবদেহে প্রয়োগ করেছে দ্য আমেরিকান ন্যাশনাল হেলথ ইনস্টিটিউট বা এনআইএস। সেই ভ্যাকসিন এখনও পরীক্ষা-নিরিক্ষার সব ধাপ অতিক্রম করতে পারেনি। সেই ভ্যাকসিন নিয়ে কাজ চলছে।

এরপর একে একে আরও ৬টি গবেষণা প্রতিষ্ঠান বা বায়োটেক কোম্পানি তাদের তৈরি কোভিড-১৯ এর সম্ভ্যাব্য ভ্যাকসিন মানবদেহে প্রয়োগও করেছে। দীর্ঘ পরীক্ষা-নিরিক্ষা শেষে কার্যকরীতার প্রমাণ পাওয়া গেলে তা বাজারে আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

কোভিড-১৯ কোনো ওষুধ কিংবা প্রতিষেধক এখনও তৈরি হয়নি। গবেষক ও বিশেষজ্ঞরা বিদ্যমান ওষুধ প্রয়োগ করে করোনা রোগীদের সুস্থ করা যায় কিনা তা নিয়েই গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে সেসবের কোনোটি এখন পর্যন্ত নিরাপদে ব্যবহারযোগ্য বা কার্যকরী হিসেবে প্রমাণিত হয়নি।

এদিকে পরীক্ষামূলক ওষুধ রেমডেসিভির নিয়ে আশার কথা শুনিয়েছেন মার্কিন গবেষকরা। তারা বলেছেন, ওষুধটি নিয়ে ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে দেখা গেছে যে, ৩০ শতাংশ খুব দ্রুতই সেরে উঠছেন কোভিড-১৯ রোগীরা। এদিকে বাংলাদেশে এই ওষুধটি তৈরির জন্য বেক্সিমকো ফার্মা, স্কয়ারসহ দেশের ৬টি ওষুধ কোম্পানীকে অনুমোদন দিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

তবে যুক্তরাজ্যভিত্তিক প্রভাবশালী চিকিৎসা সাময়িকী ল্যানচেটে এ সংক্রান্ত একটি গবেষণা নিবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। তাতে দাবি করা হচ্ছে যে, গবেষণা করে তারা দেখতে পেয়েছেন করোনায় এই ওষুধের নাকি কোনো সুফলই নেই।

তথ্যসূত্র: সিএনএন

করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে করণীয়

# সব সময় ঘরে থাকি।
# জরুরি প্রয়োজনে বাইরে বের হলে নিয়মগুলো মানি, মাস্ক ব্যবহার করি।
# তিন লেয়ারের সার্জিক্যাল মাস্ক ইচ্ছে করলে ধুয়েও ব্যবহার করতে পারি।
# বাইরে থেকে ঘরে ফেরার পর পোশাক ধুয়ে ফেলি। কিংবা না ঝেড়ে ঝুলিয়ে রাখি অন্তত চার ঘণ্টা।
# বাইরে থেকে এসেই আগে ভালো করে (অন্তত ২০ সেকেণ্ড ধরে) হাত সাবান বা লিকুইড দিয়ে ধুয়ে ফেলি।
# প্লাস্টিকের তৈরি পিপিই বা চোখ মুখ, মাথা একবার ব্যবহারের পর অবশ্যই ডিটারজেন্ট দিয়ে ভালো করে ধুয়ে শুকিয়ে ব্যবহার করা যেতে পারে।
# কাপড়ের তৈরি পিপিই বা বর্ণিত নিয়মে পরিষ্কার করে পরি।
# চুল সম্পূর্ণ ঢাকে এমন মাথার ক্যাপ ব্যবহার করি।
# হাঁচি কাশি যাদের রয়েছে সরকার হতে প্রচারিত সব নিয়ম মেনে চলি। এছাড়াও খাওয়ার জিনিস, তালা চাবি, সুইচ ধরা, মাউস, রিমোট কন্ট্রোল, মোবাই, ঘড়ি, কম্পিউটার ডেক্স, টিভি ইত্যাদি ধরা ও বাথরুম ব্যবহারের আগে ও পরে নির্দেশিত মতে হাত ধুয়ে নিন। যাদের হাত শুকনো থাকে তারা হাত ধোয়ার পর Moisture ব্যবহার করি। সাবান বা হ্যান্ড লিকুইড ব্যবহার করা যেতে পারে। কেনোনা শুকনো হাতের Crackle (ফাটা অংশ) এর ফাঁকে এই ভাইরাসটি থেকে যেতে পারে। অতি ক্ষারযুক্ত সাবান বা ডিটারজেন্ট ব্যবহার থেকে বিরত থাকাই ভালো।

Loading...