The Dhaka Times
তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে রাখার প্রত্যয়ে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সামাজিক ম্যাগাজিন।

ভারত করোনার দীর্ঘ যুদ্ধের মুখোমুখি

দেশটিতে একদিনে সর্বোচ্চ ৭ হাজার ৯৬৪ জন করোনা আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয় শনিবার

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ সর্বোচ্চ সংক্রমণ ও মৃত্যুর দিনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছেন যে, মহামারি করোনার দীর্ঘ লড়াইয়ের মুখোমুখি হয়েছে ভারত। জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক খোলা চিঠিতে তিনি এই মন্তব্য করেন।

ভারত করোনার দীর্ঘ যুদ্ধের মুখোমুখি 1

মোদি বলেছেন যে, সীমিত সম্পদ এবং ব্যাপক জনগোষ্ঠীকে নিয়ে আমাদের দেশ ভয়াবহ এক সঙ্কটের মুখোমুখি। করোনা ভাইরাস বিধি-নিষেধের কারণে দেশের কোটি কোটি দিনমজুর ও অভিবাসী শ্রমিক চরম ভোগান্তির শিকার হয়েছেন বলে স্বীকার করেন ভারতের এই প্রধানমন্ত্রী।

দেশটিতে একদিনে সর্বোচ্চ ৭ হাজার ৯৬৪ জন করোনা আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয় শনিবার; যেদিন করোনা ভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে জারিকৃত লকডাউনের মেয়াদ পঞ্চম দফায় আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত বৃদ্ধির ঘোষণা দেওয়া হলো।

ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা ছাড়া অন্যান্য স্থানে শপিংমল, রেস্টুরেন্ট ও উপাসনালয় আগামী ৮ জুন হতে খোলার অনুমতি দিয়েছে করোনায় মৃত্যুতে দক্ষিণ এশিয়ায় শীর্ষ স্থানে অবস্থান করা ভারত।

দেশটিতে চতুর্থ দফায় বাড়ানো লকডাউনের মেয়াদ শনিবার (৩০ মে) থেকে শেষ হওয়ার কথা। সেদিনই দেশটির ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকার পঞ্চম দফায় আরও এক মাস লকডাউন বৃদ্ধির ঘোষণা দিয়ে বলেছে যে, পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে সিনেমা হল, স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ও আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।

করোনার সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে ও মানুষের জীবনযাত্রা স্বাভাবিক করতে দেশটির বিভিন্ন এলাকাকে কয়েক ক্যাটেগরিতে ভাগ করা হয়। ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে রেড জোন এলাকাগুলোতে বিধি-নিষেধে আরও কড়াকড়ি আরোপ করা হয়। এছাড়াও কমঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করে সেখানে সবকিছু ধীরে ধীরে স্বাভাবিক করার কথাও জানানো হয়।

উল্লেখ্য, করোনা ভাইরাসের বিস্তার রোধে গত ২৫ মার্চ কঠোর লকডাউনে চলে যায় ভারত। প্রথম লকডাউন আরোপের পর এই নিয়ে চারবারের মতো মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়েছে। প্রতিবেশি চীনের উহান হতে ছড়িয়ে পড়া এই ভাইরাসে ভারতে এখন আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ১ লাখ ৭০ হাজার। ইতিমধ্যেই মারা গেছেন প্রায় ৫ হাজার মানুষ।

করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে করণীয়

# সব সময় ঘরে থাকি।
# জরুরি প্রয়োজনে বাইরে বের হলে নিয়মগুলো মানি, মাস্ক ব্যবহার করি।
# তিন লেয়ারের সার্জিক্যাল মাস্ক ইচ্ছে করলে ধুয়েও ব্যবহার করতে পারি।
# বাইরে থেকে ঘরে ফেরার পর পোশাক ধুয়ে ফেলি। কিংবা না ঝেড়ে ঝুলিয়ে রাখি অন্তত চার ঘণ্টা।
# বাইরে থেকে এসেই আগে ভালো করে (অন্তত ২০ সেকেণ্ড ধরে) হাত সাবান বা লিকুইড দিয়ে ধুয়ে ফেলি।
# প্লাস্টিকের তৈরি পিপিই বা চোখ মুখ, মাথা একবার ব্যবহারের পর অবশ্যই ডিটারজেন্ট দিয়ে ভালো করে ধুয়ে শুকিয়ে ব্যবহার করা যেতে পারে।
# কাপড়ের তৈরি পিপিই বা বর্ণিত নিয়মে পরিষ্কার করে পরি।
# চুল সম্পূর্ণ ঢাকে এমন মাথার ক্যাপ ব্যবহার করি।
# হাঁচি কাশি যাদের রয়েছে সরকার হতে প্রচারিত সব নিয়ম মেনে চলি। এছাড়াও খাওয়ার জিনিস, তালা চাবি, সুইচ ধরা, মাউস, রিমোট কন্ট্রোল, মোবাই, ঘড়ি, কম্পিউটার ডেক্স, টিভি ইত্যাদি ধরা ও বাথরুম ব্যবহারের আগে ও পরে নির্দেশিত মতে হাত ধুয়ে নিন। যাদের হাত শুকনো থাকে তারা হাত ধোয়ার পর Moisture ব্যবহার করি। সাবান বা হ্যান্ড লিকুইড ব্যবহার করা যেতে পারে। কেনোনা শুকনো হাতের Crackle (ফাটা অংশ) এর ফাঁকে এই ভাইরাসটি থেকে যেতে পারে। অতি ক্ষারযুক্ত সাবান বা ডিটারজেন্ট ব্যবহার থেকে বিরত থাকাই ভালো।

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো
Loading...