The Dhaka Times
তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে রাখার প্রত্যয়ে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সামাজিক ম্যাগাজিন।

নকল হ্যান্ড স্যানিটাইজার চিনবেন কীভাবে?

করোনার এই সময়টা হাতকে জীবাণুমুক্ত করতে সকলের প্রয়োজনের ঊর্ধ্বে রয়েছে এই হ্যান্ড স্যানিটাইজার

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ নকলের ভিড়ে আসলকে চেনাটা সত্যিই দুস্কর। করোনা ভাইরাসের এই সংকটকালে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী করোনা প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় সুরক্ষা সামগ্রীতে নকলের ছোয়া লাগিয়ে আমাদের জন্য বিপদজনক পরিস্থিতিতে ফেলেছেন। নকল হ্যান্ড স্যানিটাইজার চিনবেন কীভাবে? আজ জেনে নিন বিষয়টি।

নকল হ্যান্ড স্যানিটাইজার চিনবেন কীভাবে? 1

করোনার এই সময়টা হাতকে জীবাণুমুক্ত করতে সকলের প্রয়োজনের ঊর্ধ্বে রয়েছে এই হ্যান্ড স্যানিটাইজার। এই চাহিদাকে অসাধু ব্যবসায়ীরা নিজেদের ব্যবসার বড় পুজি ধরে নিয়ে বাজারে ছাড়ছেন নকল হ্যান্ড স্যানিটাইজার।

করোনা প্রতিরোধে যেনোতেনো হ্যান্ড স্যানিটাইজারে কাজ হবে না। করোনা হতে বাঁচতে হলে ব্যবহার করতে হবে এমন সব হ্যান্ড স্যানিটাইজার, যেগুলোতে অ্যালকোহলের মাত্রা অনেক বেশি থাকে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, যেসব হ্যান্ড স্যানিটাইজারে ৬০ হতে ৯৫ শতাংশ পর্যন্ত অ্যালকোহল থাকে, শুধুমাত্র সেগুলোই এই পরিস্থিতিতে হাত জীবাণুমুক্ত করতে সক্ষম হবে। এদিকে নকল হ্যান্ড স্যানিটাইজারের মোড়কে ৬০-৭০ শতাংশের বেশি অ্যালকোহলের উপস্থিতির দাবি করা হয়ে থাকে।

আপনি কীভাবে চিনবেন কোন হ্যান্ড স্যানিটাইজার সবচেয়ে কার্যকর ও নিরাপদ? আসুন জেনে নেওয়া যাক, তেমনই ৩টি ঘরোয়া উপায়:

১) একটি পাত্রে সামান্য হ্যান্ড স্যানিটাইজার নিয়ে হেয়ার ড্রায়ার মেশিন দিয়ে সেটি শুকানোর চেষ্টা করুন। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই এটি শুকিয়ে গেলে বুঝবেন যে, ওই হ্যান্ড স্যানিটাইজার খাঁটি। নকল কিংবা অ্যালকোহলের মাত্রা কম হলে সেটি শুকোতে সময় লাগবে অনেক বেশি।

২) টিস্যু পেপারে কলমের দাগ দেওয়ার পর ওই দাগের উপর কয়েক ফোঁটা স্যানিটাইজার ঢালুন। কালি দ্রুত টিস্যু পেপারে ছড়িয়ে গেলে বুঝতে হবে যে, ওই স্যানিটাইজারটি নকল বা এতে অ্যালকোহলের মাত্রা অনেকটা কম। টিস্যু পেপারে কালি ছড়িয়ে না পড়ে সেটি মুহূর্তেই শুকিয়ে গেলে আপনাকে বুঝতে হবে, সেটি অত্যন্ত কার্যকর হ্যান্ড স্যানিটাইজার!

৩) একটি ছোট পাত্রে সামান্য পরিমাণ ময়দা নিয়ে তাতে কিছুটা হ্যান্ড স্যানিটাইজার দিয়ে মাখতে শুরু করুন। ময়দা যদি দলা পাকিয়ে যায় তাহলে বুঝতে হবে ওই স্যানিটাইজারটি নকল কিংবা এতে অ্যালকোহলের মাত্রা অনেক কম। খাঁটি স্যানিটাইজারের ক্ষেত্রে এমনটা কখনও হবে না।

করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে করণীয়

# সব সময় ঘরে থাকি।
# জরুরি প্রয়োজনে বাইরে বের হলে নিয়মগুলো মানি, মাস্ক ব্যবহার করি।
# তিন লেয়ারের সার্জিক্যাল মাস্ক ইচ্ছে করলে ধুয়েও ব্যবহার করতে পারি।
# বাইরে থেকে ঘরে ফেরার পর পোশাক ধুয়ে ফেলি। কিংবা না ঝেড়ে ঝুলিয়ে রাখি অন্তত চার ঘণ্টা।
# বাইরে থেকে এসেই আগে ভালো করে (অন্তত ২০ সেকেণ্ড ধরে) হাত সাবান বা লিকুইড দিয়ে ধুয়ে ফেলি।
# প্লাস্টিকের তৈরি পিপিই বা চোখ মুখ, মাথা একবার ব্যবহারের পর

অবশ্যই ডিটারজেন্ট দিয়ে ভালো করে ধুয়ে শুকিয়ে ব্যবহার করা যেতে পারে।
# কাপড়ের তৈরি পিপিই বা বর্ণিত নিয়মে পরিষ্কার করে পরি।
# চুল সম্পূর্ণ ঢাকে এমন মাথার ক্যাপ ব্যবহার করি।
# হাঁচি কাশি যাদের রয়েছে সরকার হতে প্রচারিত সব নিয়ম মেনে চলি। এছাড়াও খাওয়ার জিনিস, তালা চাবি, সুইচ ধরা, মাউস, রিমোট কন্ট্রোল, মোবাই, ঘড়ি, কম্পিউটার ডেক্স, টিভি ইত্যাদি ধরা ও বাথরুম ব্যবহারের আগে ও পরে নির্দেশিত মতে হাত ধুয়ে নিন। যাদের হাত শুকনো থাকে তারা হাত ধোয়ার পর Moisture ব্যবহার করি। সাবান বা হ্যান্ড লিকুইড ব্যবহার করা যেতে পারে। কেনোনা শুকনো হাতের Crackle (ফাটা অংশ) এর ফাঁকে এই ভাইরাসটি থেকে যেতে পারে। অতি ক্ষারযুক্ত সাবান বা ডিটারজেন্ট ব্যবহার থেকে বিরত থাকাই ভালো।

Loading...