The Dhaka Times
তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে রাখার প্রত্যয়ে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সামাজিক ম্যাগাজিন।

বাংলাদেশের কাছে মার্কিন নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ কেনো

রিপাবলিকান নাকি ডেমোক্র্যাট, ট্রাম্প নাকি বাইডেন, কে জয়ী হলে কেমন প্রভাব পড়তে পারে বাংলাদেশের ওপর?

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ফল পাওয়া যাবে যে কোনো সময়। কে হবেন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপ্রধান, সেই আলোচনা বাংলাদেশেও চলছে। কারণ হলো বেশ কয়েকটি কারণ বাংলাদেশের কাছে মার্কিন নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বাংলাদেশের কাছে মার্কিন নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ কেনো 1

রিপাবলিকান নাকি ডেমোক্র্যাট, ট্রাম্প নাকি বাইডেন, কে জয়ী হলে কেমন প্রভাব পড়তে পারে বাংলাদেশের ওপর? এমন আলোচনাই শোনা যাচ্ছে বর্তমানে। বিষয়টি নিয়ে জার্মান সংবাদমাধ্যম ডয়চে ভেলে একটি প্রতিবেদনও করেছে। আজ (৩ নভেম্বর) হচ্ছে মার্কিন মুলুকের নির্বাচন।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সরকার পরিবর্তন হলেও দেশটির পররাষ্ট্রনীতিতে সাধারণত তেমন কোনো পরিবর্তন আসে না। তবে এবারের নির্বাচনের পর দেশটির দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক নীতিতে কিছুটা পরিবর্তন আসতে পারে বলে মনে করছেন সাবেক রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল (অব.) শহীদুল হক। তার মতে, এই নির্বাচনে যদি ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জো বাইডেন নির্বাচিত হন, তাহলে দেশটির চীন-ভারত বিষয়ক সমীকরণে পরিবর্তন আসতে পারে। যার প্রভাব পড়তে পারে বাংলাদেশেও।

সংবাদ মাধ্যমকে শহীদুল হক বলেন, ‘বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও ক্ষমতায় এলে মুসলিম বিশ্ব নিয়ে তাঁর অবস্থানের পরিবর্তনও ঘটতে পারে। সেটিও বাংলাদেশের জন্যই ভালো হবে। বাংলাদেশের প্রধান উদ্বেগই হলো তৈরি পোশাক রপ্তানি। ডেমোক্র্যাটরা ক্ষমতায় এলে এই খাতে সুবিধা পাবে বাংলাদেশ।’

বিশ্লেষকেরা বলেছেন, বাংলাদেশের সঙ্গে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের কয়েকটি স্থান বেশি গুরুত্বপূর্ণ। সেগুলো হলো:

# করোনা ভাইরাসের ভ্যাকসিন

# শিক্ষার্থী ভিসা

# বৈধ অভিবাসন

# জিএসপি সুবিধা

# রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন

# বঙ্গোপসাগরে তেল-গ্যাস অনুসন্ধান

# ইন্দো-প্যাসিফিক জোট (সম্প্রতি যুক্ত হয়েছে)।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বাংলাদেশের ভূ-রাজনৈতিক গুরুত্বও বাড়ছে। গত মাসে মার্কিন উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্টিফেন ই বিগানের বাংলাদেশ সফরের মধ্যদিয়ে তা আরও স্পষ্ট হয়েছে। সফরে এসে বিগান বলেন, তারা রোহিঙ্গা সমস্যার স্থায়ী সমাধান চান। তারা এই ইস্যুতে সব সময় বাংলাদেশের পাশে থাকবেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ড. ইমতিয়াজ আহমেদ ডয়চে ভেলেকে বলেছেন, ‘দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের মাধ্যমে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কূটনৈতিক সম্পর্ক বিস্তৃতির নীতি অনুসরণ করে আসছিলো। তাতে কিছু পরিবর্তন আসছে। কারণ হলো, ভারতের সঙ্গে প্রতিবেশী দেশগুলোর সম্পর্কও বেশ খারাপ। তাদের রাজনীতিতে হিন্দুত্ববাদের প্রভাবকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র মোটেও ভালো চোখে দেখছে না। যে কারণে যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে সরাসরি সম্পর্ক বাড়াতে আগ্রহী।’

অধ্যাপক ড. ইমতিয়াজ আহমেদ আরও বলেছেন, ‘মূল বিষয়ই হলো অর্থনীতি। এই করোনার মধ্যেও বাংলাদেশের অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াচ্ছে। এটি যদি এভাবে অব্যাহত থাকে, যে কারণে যুক্তরাষ্ট্রে যারাই ক্ষমতায় আসুক, তাদের কাছে বাংলাদেশের গুরুত্ব আরও বাড়বে।’

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কারা ক্ষমতায় এলো, তার ওপর ভিত্তি করে বাংলাদেশের রাজনীতিতে কোনো প্রভাব পড়ে কিনা জানতে চাইলে অধ্যাপক ইমতিয়াজ বলেছেন যে, ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় এলে যা হচ্ছিল তা-ই হবে। বাইডেন ক্ষমতায় এলে ট্রাম্পের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের যেসব ক্ষতি হয়েছে, বিশেষ করে অর্থনীতি ও ভাবমূর্তি তা কাটিয়ে উঠতেই ব্যস্ত থাকতে হবে। যে কারণে বহির্বিশ্ব নিয়ে ভাবার তেমন একটা সময় তাদের হাতে থাকবে না।’

অধ্যাপক ইমতিয়াজের মতে, গণতন্ত্র, মানবাধিকার এবং সহনশীলতায় যুক্তরাষ্ট্র নিজেই বর্তমানে অনেকটা পিছিয়ে গেছে। তাই অন্য দেশের গণতন্ত্র এবং মানবাধিকার নিয়ে তারা ভবিষ্যতে কবে কতোটুকু কথা বলতে পারবে, তা নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেন তিনি। অধ্যাপক ইমতিয়াজ বলেন, ‘বাংলাদেশকে শুধু মাথা ঠাণ্ডা রেখে উন্নয়নটা ধরে রাখতে হবে।’

অপরদিকে শহীদুল হক বলেছেন, ‘বাইডেন ক্ষমতায় এলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বায়ন নিয়ে ভাববে। তবে সেটি সময় নিয়েই। তার সেই ভাবনায় বাংলাদেশ লাভবান হবে।’

করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে করণীয়

# সব সময় ঘরে থাকি।
# জরুরি প্রয়োজনে বাইরে বের হলে নিয়মগুলো মানি, মাস্ক ব্যবহার করি।
# তিন লেয়ারের সার্জিক্যাল মাস্ক ইচ্ছে করলে ধুয়েও ব্যবহার করতে পারি।
# বাইরে থেকে ঘরে ফেরার পর পোশাক ধুয়ে ফেলি। কিংবা না ঝেড়ে ঝুলিয়ে রাখি অন্তত চার ঘণ্টা।
# বাইরে থেকে এসেই আগে ভালো করে (অন্তত ২০ সেকেণ্ড ধরে) হাত সাবান বা লিকুইড দিয়ে ধুয়ে ফেলি।
# প্লাস্টিকের তৈরি পিপিই বা চোখ মুখ, মাথা একবার ব্যবহারের পর

অবশ্যই ডিটারজেন্ট দিয়ে ভালো করে ধুয়ে শুকিয়ে ব্যবহার করা যেতে পারে।
# কাপড়ের তৈরি পিপিই বা বর্ণিত নিয়মে পরিষ্কার করে পরি।
# চুল সম্পূর্ণ ঢাকে এমন মাথার ক্যাপ ব্যবহার করি।
# হাঁচি কাশি যাদের রয়েছে সরকার হতে প্রচারিত সব নিয়ম মেনে চলি। এছাড়াও খাওয়ার জিনিস, তালা চাবি, সুইচ ধরা, মাউস, রিমোট কন্ট্রোল, মোবাই, ঘড়ি, কম্পিউটার ডেক্স, টিভি ইত্যাদি ধরা ও বাথরুম ব্যবহারের আগে ও পরে নির্দেশিত মতে হাত ধুয়ে নিন। যাদের হাত শুকনো থাকে তারা হাত ধোয়ার পর Moisture ব্যবহার করি। সাবান বা হ্যান্ড লিকুইড ব্যবহার করা যেতে পারে। কেনোনা শুকনো হাতের Crackle (ফাটা অংশ) এর ফাঁকে এই ভাইরাসটি থেকে যেতে পারে। অতি ক্ষারযুক্ত সাবান বা ডিটারজেন্ট ব্যবহার থেকে বিরত থাকাই ভালো।

Loading...