The Dhaka Times
তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে রাখার প্রত্যয়ে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সামাজিক ম্যাগাজিন।

সারাদিন গোয়ালঘরে পড়াশোনা করে হলেন বিচারক!

রাতে ঘুমনো ছাড়া সারা দিনই গোয়ালেই কাটতো তার সময়

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ সত্যিই কিছু ঘটনা আমাদের বিস্মিত করে। মানুষ কি না পারে! এমনই একটি ঘটনা হলো জনৈকা নারী সারাদিন গোয়ালঘরে পড়াশোনা করে হলেন বিচারক!

সারাদিন গোয়ালঘরে পড়াশোনা করে হলেন বিচারক! 1

রাতে ঘুমনো ছাড়া সারা দিনই গোয়ালেই কাটতো তার সময়। গরু ও গরুর পাশে জড়ো করে রাখা গোবরের মাঝেই চলতো পড়াশোনার অক্লান্ত পরিশ্রম। দু’চোখে ভরা ছিলো বিচারক হওয়ার স্বপ্ন। সেই স্বপ্নে ভর করেই গোয়ালে বসেই দিন-রাত এক করে আইন নিয়ে পড়াশোনা করতেন তিনি।

সেই পরিশ্রমেরই ফল পেতে চলেছেন এবার। মাত্র ২৬ বছর বয়সে প্রথম চেষ্টাতেই রাজস্থান সেশনস আদালতে প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট হিসাবে কাজে যোগ দিতে চলেছেন ভারতের সোনাল শর্মা।

ভারতের রাজস্থানের উদয়পুরের মেয়ে সোনাল শর্মা। তার বাবা দুধ বেচে জীবিকা নির্বাহ করেন। দুধ বেচার টাকাতেই সংসারের যাবতীয় খরচ চালান তার বাবা। তার উপর ছেলে-মেয়েদের পড়াশোনার খরচও চলতো এই দুধ বেচা টাকাতেই। ছোট থেকেই বাবাকে কাজে সাহায্য করেন সোনাল শর্মা। প্রতিদিন ভোর ৪টায় ঘুম ভাঙে তার। উঠে বাবার সঙ্গে গোয়ালে চলে যান সোনাল শর্মা।

তারপর সারাদিন গোয়ালেই কাটে তার সময়। যেমন গোবর তোলা, গরুকে স্নান করানো, খাওয়ানোর কাজ সেরে নিজেও আবার পড়তে বসেন। গোয়ালেরই এক কোণায় তেলের টিনের ফাঁকা বাক্স পাশাপাশি সাজিয়ে টেবিল বানিয়ে নিয়েছেন। তাতে বই-খাতা রেখে চলে তার পড়াশোনা। গরুর ডাক, গোবরের গন্ধ কোনও কিছুই তাকে যেনো দমাতে পারেনি। শুধু খাবার সময়টুকু গোয়াল থেকে বার হতেন তিনি।

অভাবের সংসারে কোনওদিন কোচিং সেন্টার কিংবা টিউশন নিতেও পারেননি। সাইকেল চালিয়ে সময়ের অনেক আগেই কলেজে পৌঁছে যেতেন সোনাল। সেখানে লাইব্রেরিতে বসেই নোট নিতেন। পড়াশোনা এগিয়েছিল ঠিক এ ভাবেই। তার কলেজের নাম মোহনলাল সুখোদিয়া বিশ্ববিদ্যালয়। কলেজের পরীক্ষাতেও ভালো ফল করেছিলেন সোনাল। ২০১৮ সালে রাজস্থান জুডিশিয়াল সার্ভিস পরীক্ষায় বসেন তিনি। মাত্র ১ নম্বরের জন্য চূড়ান্ত তালিকায় জায়গা করতে পারেননি তিনি।

ওয়েটিং লিস্টে ছিলেন সোনাল। পরবর্তী পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতিও নিতে শুরু করেছিলেন তিনি। তবে চূড়ান্ত তালিকা হতে ৭ জন চাকরিতে যোগ দেননি। পদ ফাঁকা থাকার কারণে ওয়েটিং লিস্ট হতে আরও ৭ জন ডাক পান। সেই তালিকায় রয়েছেন সোনালও। খুব তাড়াতাড়ি সেশনস আদালতে প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট হিসাবে কাজে যোগ দেবেন সোনাল।

তবে এখন লক্ষ্য পূরণ হয়নি তার। কাজে যোগ দেওয়ার পর তার প্রথম কাজ হবে মা-বাবাকে একটি ভালো জীবন উপহার দেওয়া। তাদের যাতে আর দুধ বেচে সংসার চালাতে না হয় সেটি দেখা।

সোনাল জানিয়েছেন, প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট হিসাবে এমন একটি সুযোগ পাওয়ার পর শৈশবের দিনগুলির কথা খুব বেশি করে মনে পড়ছে তার। অনেক সময় তিনি স্কুলে যেতেন, জুতোয় গোবর লেগে থাকতো। সারা গায়েও যেনো গোবরের গন্ধ মিশে থাকতো সারাদিন। দুধওয়ালার মেয়ে হিসাবে শুনতে হয়েছে অনেক কটাক্ষও। অথচ এখন এই পরিচয়ই তার গর্বের কারণ। শুধুমাত্র তার পরিবারের কাছেই নয়, সারা দেশের অনুপ্রেরণা হয়েছেন সোনাল শর্মা।

তথ্যসূত্র : আনন্দবাজার পত্রিকা

করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে করণীয়

# সব সময় ঘরে থাকি।
# জরুরি প্রয়োজনে বাইরে বের হলে নিয়মগুলো মানি, মাস্ক ব্যবহার করি।
# তিন লেয়ারের সার্জিক্যাল মাস্ক ইচ্ছে করলে ধুয়েও ব্যবহার করতে পারি।
# বাইরে থেকে ঘরে ফেরার পর পোশাক ধুয়ে ফেলি। কিংবা না ঝেড়ে ঝুলিয়ে রাখি অন্তত চার ঘণ্টা।
# বাইরে থেকে এসেই আগে ভালো করে (অন্তত ২০ সেকেণ্ড ধরে) হাত সাবান বা লিকুইড দিয়ে ধুয়ে ফেলি।
# প্লাস্টিকের তৈরি পিপিই বা চোখ মুখ, মাথা একবার ব্যবহারের পর

অবশ্যই ডিটারজেন্ট দিয়ে ভালো করে ধুয়ে শুকিয়ে ব্যবহার করা যেতে পারে।
# কাপড়ের তৈরি পিপিই বা বর্ণিত নিয়মে পরিষ্কার করে পরি।
# চুল সম্পূর্ণ ঢাকে এমন মাথার ক্যাপ ব্যবহার করি।
# হাঁচি কাশি যাদের রয়েছে সরকার হতে প্রচারিত সব নিয়ম মেনে চলি। এছাড়াও খাওয়ার জিনিস, তালা চাবি, সুইচ ধরা, মাউস, রিমোট কন্ট্রোল, মোবাই, ঘড়ি, কম্পিউটার ডেক্স, টিভি ইত্যাদি ধরা ও বাথরুম ব্যবহারের আগে ও পরে নির্দেশিত মতে হাত ধুয়ে নিন। যাদের হাত শুকনো থাকে তারা হাত ধোয়ার পর Moisture ব্যবহার করি। সাবান বা হ্যান্ড লিকুইড ব্যবহার করা যেতে পারে। কেনোনা শুকনো হাতের Crackle (ফাটা অংশ) এর ফাঁকে এই ভাইরাসটি থেকে যেতে পারে। অতি ক্ষারযুক্ত সাবান বা ডিটারজেন্ট ব্যবহার থেকে বিরত থাকাই ভালো।

Loading...