The Dhaka Times
তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে রাখার প্রত্যয়ে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সামাজিক ম্যাগাজিন।

ভ্যাকসিন নেওয়ার পূর্বে ও পরে যা করা যাবে না

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ মার্কিন ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানি মডার্নার তৈরি করোনা ভাইরাসের ভ্যাকসিন নিয়ে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার শিকার হয়েছেন কসমেটিক ফেসিয়াল ফিলার ব্যবহারকারীরা। সম্প্রতি এই বিষয়ে সকলকে সতর্ক করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন।

ভ্যাকসিন নেওয়ার পূর্বে ও পরে যা করা যাবে না 1

এই বিষয়ে প্লাস্টিক সার্জন ডা. আমির করম স্থানীয় সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, মডার্নার ভ্যাকসিন ট্রায়ালে অংশ নেওয়া কিছু মানুষের মুখ ফুলে যাওয়ার মতো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। তাই ভ্যাকসিন গ্রহণের পূর্বে অবশ্যই কিছু সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

ভ্যাকসিন গ্রহণের বিষয়ে গবেষকরা সতর্ক করে বলেছেন যে, যারা ভ্যাকসিন নিতে চাচ্ছেন তাদের ভ্যাকসিন গ্রহণের পূর্বে ও পরে অ্যালকোহল গ্রহণ করা যাবে না। কারণ হলো অ্যালকোহল গ্রহণের পর শরীরের ইমিউন রেসপন্স কমে যেতে পারে।

ডেইলি মেইলের খবরে বলা হয়েছে, ব্যাকটেরিয়া বা ভাইরাসের সঙ্গে লড়াই করা থেকে বিরত রাখতে পারে এমন লাখ লাখ মাইক্রোঅর্গ্যানিজমকে নষ্ট করে দিতে পারে এই অ্যালকোহল। যে কারণে ভাইরাসের ওপর আক্রমণকারী অ্যান্টিবডি তৈরি হয় যে লিম্ফোসাই’টে সেটিও নষ্ট হয়ে যেতে পারে।

জরুরি ওষুধ বিষয়ক বিশেষজ্ঞ ডা. রনক্স ইখারিয়া এই বিষয়ে একটি গবেষণাও চালিয়েছেন। ওই গবেষণার রিপোর্ট অনুযায়ী দেখা যায়, অ্যালকোহল নেওয়ার পূর্বে ও পরে তারা রক্তের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করে দেখেছেন যে, তিন গ্লাস অ্যালকোহল খেলে রক্তে লিম্ফোসাইটের কোষ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে।

ইউনিভার্সিটি অব ম্যানচেস্টারের ইমিউনোলজিস্টের অধ্যাপক শীনা ক্রুকস্যাংক এই বিষয়ে জানিয়েছেন, লিম্ফোসাইট কমে গেলে শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেতে পারে। তাই ভ্যাকসিন নেওয়ার পর এর ফল পেতে হলে অ্যালকোহল না খাওয়াই ভালো। অন্তত ভ্যাকসিন নেওয়ার পূর্বে এবং পরে অ্যালকোহল জাতীয় যে কোনো কিছু থেকেই দূরে থাকা উচিত বলে জানান তিনি।

এদিকে সম্প্রতি ভারতে জরুরি ব্যবহারের জন্য দু’টি ভ্যাকসিনের জরুরি ভিত্তিতে অনুমোদন দিয়েছে ড্রাগস কন্ট্রোলার জেনারেল অব ইন্ডিয়া (ডিসিজিআই)। এর একটি হলো অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি ও অ্যাস্ট্রাজেনেকার তৈরি কোভিশিল্ড, অপরটি হলো ভারত বায়োটেকের ভ্যাক্সিন কোভ্যাক্সিন। অক্সফোর্ডের অনুমতি নিয়ে কোভিশিল্ড উৎপাদন করছে ভারতের সিরাম ইনস্টিটিউট।

ভারতের ড্রাগস কন্ট্রোলার জেনারেল অব ইন্ডিয়া ডিসিজিআই জানিয়েছে, কোভিশিল্ড ৭০ শতাংশের বেশি নিরাপদ। তাছাড়াও কোভিশিল্ড ও কোভ্যাকসিন ২ হতে ৮ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড তাপমাত্রায় সংরক্ষণ করা যাবে। অন্যদিকে কোভ্যাক্সিন এখন পর্যন্ত এর তৃতীয় পর্যায়ের ট্রায়ালই শেষ করতে পারেনি।

করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে করণীয়

# সব সময় ঘরে থাকি।
# জরুরি প্রয়োজনে বাইরে বের হলে নিয়মগুলো মানি, মাস্ক ব্যবহার করি।
# তিন লেয়ারের সার্জিক্যাল মাস্ক ইচ্ছে করলে ধুয়েও ব্যবহার করতে পারি।
# বাইরে থেকে ঘরে ফেরার পর পোশাক ধুয়ে ফেলি। কিংবা না ঝেড়ে ঝুলিয়ে রাখি অন্তত চার ঘণ্টা।
# বাইরে থেকে এসেই আগে ভালো করে (অন্তত ২০ সেকেণ্ড ধরে) হাত সাবান বা লিকুইড দিয়ে ধুয়ে ফেলি।
# প্লাস্টিকের তৈরি পিপিই বা চোখ মুখ, মাথা একবার ব্যবহারের পর

অবশ্যই ডিটারজেন্ট দিয়ে ভালো করে ধুয়ে শুকিয়ে ব্যবহার করা যেতে পারে।
# কাপড়ের তৈরি পিপিই বা বর্ণিত নিয়মে পরিষ্কার করে পরি।
# চুল সম্পূর্ণ ঢাকে এমন মাথার ক্যাপ ব্যবহার করি।
# হাঁচি কাশি যাদের রয়েছে সরকার হতে প্রচারিত সব নিয়ম মেনে চলি। এছাড়াও খাওয়ার জিনিস, তালা চাবি, সুইচ ধরা, মাউস, রিমোট কন্ট্রোল, মোবাই, ঘড়ি, কম্পিউটার ডেক্স, টিভি ইত্যাদি ধরা ও বাথরুম ব্যবহারের আগে ও পরে নির্দেশিত মতে হাত ধুয়ে নিন। যাদের হাত শুকনো থাকে তারা হাত ধোয়ার পর Moisture ব্যবহার করি। সাবান বা হ্যান্ড লিকুইড ব্যবহার করা যেতে পারে। কেনোনা শুকনো হাতের Crackle (ফাটা অংশ) এর ফাঁকে এই ভাইরাসটি থেকে যেতে পারে। অতি ক্ষারযুক্ত সাবান বা ডিটারজেন্ট ব্যবহার থেকে বিরত থাকাই ভালো।

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো
Loading...