The Dhaka Times
তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে রাখার প্রত্যয়ে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সামাজিক ম্যাগাজিন।

ঈগল পাখি সম্পর্কে যা আপনি কখনও জানেন না

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ বিশাল এক পাখি হলো ঈগল পাখি। এই পাখিকে আমরা সবাই চিনলেও এই পাখি সম্পর্কে আমরা তেমন কিছুই জানিনা। আজ সেই বিষয়টিই আপনাদের সামনে তুলে ধরা হবে।

ঈগল পাখি সম্পর্কে যা আপনি কখনও জানেন না 1

পাখিদের মধ্যে সব থেকে উপরে যে পাখি ওড়ে তার নামই হলো ঈগল পাখি। তাছাড়াও শিকারী পাখি হিসেবে ঈগলের দক্ষতা নিয়েও রয়েছে অনেক গল্প। তাই ঈগল পাখিকে পাখির রাজা ঈগল বলা হয়ে থাকে। তবে এই পাখি সম্পর্কে আমরা যে বিষয়গুলো জানিনা সেই বিষয়গুলো নিয়েই আজ আলোচনা করা হবে।

# ঈগল পাখি মূলত অনেক উঁচুতে উড়ে এবং এরা কখনই চড়ুই কিংবা অন্য কোনো ছোট পাখিদের সঙ্গে মেশে না, আবার উড়েও না। ঈগল যে ধরনের উচ্চতায় উড়ে বেড়ায়, সেই উচ্চতায় অন্য কোনো পাখি পৌঁছাতেই পারে না। সেজন্যেই একা একাই ওড়ে ঈগল।

# ঈগল পাখির রয়েছে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিশক্তি। তার এই তীক্ষ্ম দৃষ্টির মাধ্যমে সে আকাশে থাকা অবস্থাতে ৫ কিলোমিটার পর্যন্ত অনায়াসে দেখতে পায়, তাও আবার একদমই স্পষ্ট দেখতে পায়! ঈগল পািাখ যখন তার শিকার খোঁজে, তখন সে তার সব ফোকাস সেটার ওপরেই নিয়ে যায় এবং তখন বেরিয়ে পড়ে শিকারের জন্য। যতো বাধা-বিপত্তিই আসুক না কেনো, সেই শিকারটিকে না পাওয়া পর্যন্ত ঈগল কোনোক্রমেই তার চোখ সরায় না।

# ঈগল পাখিকে বলা হয়ে থাকে পাখির রাজা, তাই সর্বদা জীবন্ত প্রাণীকে খাবার হিসেবে খেয়ে থাকে এই পাখিটি। কখনই কোনো মৃত জিনিস খায় না ঈগল পাখি।

# কখনও ঝড় আসলে ঈগল পাখি তা এড়িয়ে না গিয়ে বরংচ ঝড়ের বেগকেই আরও কাজে লাগিয়ে উঁচুতে উড়ে গিয়ে থাকে। অন্যান্য পাখিরা ঝড়ের সময় যখন পাতা ও গাছের আড়ালে লুকিয়ে থাকে, ঈগল পাখি তখন না লুকিয়ে ঝড়ের বিরুদ্ধে তার ডানা ঝাপটাতে থাকে। ঈগল পাখি ঝড়ের বেগকে কাজে লাগিয়ে মেঘকে ভেদ করে উপরে উঠে যায়। এমনকি একবার বাতাসের বেগ পেয়ে গেলেই ঈগল পাখি তার ডানা ঝাপটানো বন্ধ করে দেয় ও স্বয়ংক্রিয়ভাবেই উপরের দিকে উঠতে থাকে।

# ঈগলদের মধ্যে একটা মেয়ে ও ছেলে ঈগলের বন্ধুত্বের বিষয়টি বেশ বিচিত্র ধরনের। যদি তারা কখনও বন্ধু হতে চান, মেয়ে ঈগলটি প্রথমেই ছেলে ঈগলটির কমিটমেন্টের পরীক্ষা নিতে থাকে। দেখা হওয়ার পর তখন মেয়ে ঈগল পাখিটি মাটিতে নেমে এসে গাছের একটি ডাল তুলে নেয়। তখন তার পিছে পিছে ছেলে ঈগল পাখিটিও উড়ে যায়। আর তখন মেয়ে ঈগলটি সেই ডাল নিয়ে উপরের দিকেই উড়ে যায় এবং একটি নির্দিষ্ট উচ্চতায় যাওয়ার পর গাছের সেই ডালটি মেয়ে ঈগলটি নিচে ফেলে দেয়। তার পিছু নেওয়া সেই ছেলে ঈগলটি তা দেখে ডালটি ধরার জন্য দ্রুতই নিচের দিকে নেমে যায়। আর তখন ওই পুরুষ ঈগল পাখিটি ডালটি মেয়ে ঈগলের কাছে ফিরিয়ে আনে।

আর এই ঘটনাটি চলতে থাকে কয়েক ঘণ্টা ধরেই। যতোক্ষণ না পর্যন্ত মেয়ে ঈগল আশ্বস্ত হয় যে ছেলে ঈগলটি ওই ডালটি ফিরিয়ে আনার কাজটি আত্মস্থ করতে পেরেছে। এটা তার কাছে ছেলে ঈগলটির ‘প্রতিজ্ঞাবদ্ধতা’ বা পরীক্ষার পরিচয় তুলে ধরে। একমাত্র ‘প্রতিজ্ঞাবদ্ধতার’ পরিচয় দিতে পারলে তবেই তারা দুজন বন্ধু হতে পারে।

# মা ঈগলের ডিম পাড়ার সময় হলে বাবা ও মা ঈগল পাহাড়ের এমন একটি উঁচু জায়গা বেছে নেন যেখানে কোনো শিকারির হামলা করার সুযোগ একেবারেই থাকে না। বাসা তৈরির সময় আসলে ছেলে ঈগলটি এই বাসা নির্মাণের জন্য প্রথমে কিছুটা কাঁটা বিছায়, তার উপর গাছের ছোট ছোট ডাল, তার উপর আবার কিছুটা কাঁটা দিয়ে একদম শেষে কিছু নরম ঘাস বিছিয়ে দেয় তারা। ছোট্ট আবাসটির নিরাপত্তার জন্য বাইরের দিকে তারা কাঁটা এবং শক্ত ডালা-পালা বিছিয়ে রাখে। বাচ্চা হওয়ার পর যখন বাচ্চা ঈগলগুলোর উড়তে শেখার সময় হয়, তখন মা ঈগল তাদেরকে বাইরে ছুঁড়ে দেয় ও পড়ে যাওয়ার ভয়ে ছানাগুলো তখন ফিরে আসে। মা ঈগল তখন সব নরম ঘাস সরিয়ে ফেলে পুনরায় তাদের বাইরে ছুঁড়ে দেয়। তাই ছানাগুলো যখন ফিরে আসে, কাঁটার সঙ্গে আঘাত পেয়ে তারা নিজেই বাইরে ঝাঁপ দেয় এই ভেবে, এতো প্রিয় মা-বাবা কেনো তার সঙ্গে এমন করছে সেই প্রশ্ন দেখা দেয় তাদের মনে।

তখন বাবা ঈগল নিয়োজিত হয় তাদের উদ্ধার করার জন্য। নিচে পড়ে যাওয়ার আগেই সে তার পিঠে করে ছানাগুলোকে ফিরিয়ে আনে। যতোদিন পর্যন্ত ছানাগুলো তাদের ডানা ঝাঁপটানো না শুরু করবে, ততোদিন এই প্রক্রিয়াটি চলতেই থাকবে।

# বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই ঈগল পাখির ডানার পালকগুলোও দুর্বল হয়ে পরে, যে কারণে সে আগের মতো আর খুব দ্রুত গতিতে উড়তে পারে না। দুর্বল বোধ করলে সে এমন একটি জায়গায় আশ্রয় গ্রহণ করে যেখানে পাথর রয়েছে। সেখানে সে তার শরীরের প্রতিটি পালক টেনে ছিঁড়ে একেবারে উঠিয়ে ফেলে। নতুন পালক না গজানো পর্যন্ত সেই দুর্বল ঈগলটি কোথাও আর বের হয় না। নতুন পালক গজিয়ে গেলেই সে আবারও বজ্র গতিতে উড়ে বেড়াতে থাকে। এভাবেই একটি বাচ্চা ঈগল পাখি সাবালোকে পরিণত হয়।

Loading...