এইচএসসি পরীক্ষা শুরু ॥ ভয়াবহ লোডশেডিং-এর কবলে ৯ লাখ পরীক্ষার্থী

ঢাকা টাইমস্‌ রিপোর্ট ॥ লোডশেডিং এর কবলে পড়েছে দেশের ৯ লাখ পরীক্ষার্থী। সরকারের কর্তা ব্যক্তিরা অবশ্য বলেছিলেন, পরীক্ষার সময় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের কথা। কিন্তু সেটি এখন শুধুই কথার কথা।

পরীক্ষা শুরুর আগের রাত ৩১ মার্চ ঘণ্টায় ঘণ্টায় লোডশেডিংয়ের মধ্য দিয়ে ৯ লাখেরও বেশি পরীক্ষার্থীকে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে হয়েছে। ল্যাম্পপোস্ট আর মোমবাতি জ্বালিয়ে অসহনীয় গরমের মধ্যে পড়াশোনা করতে হয়েছে শিক্ষার্থীদের। রাজধানী ঢাকাসহ সাব শহরেই লোডশেডিংয়ের প্রায় একই অবস্থা বিরাজ করেছে। তবে গ্রামাঞ্চলে লোডশেডিংয়ের অবস্থা আরও ভয়াবহ। চরম লোডশেডিংয়ের কারণে পরীক্ষার্থীদের রীতিমতো হয়রানির মধ্যে পড়তে হয়েছে। আজ ১ এপ্রিল পরীক্ষার হলে বিদ্যুৎ থাকার ব্যপারেও উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে দেশের লাখ লাখ শিক্ষার্থীর অভিভাবকরা।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছে, বর্তমানে বিদ্যুতের চাহিদার তুলনায় ঘাটতি রয়েছে প্রায় দু’হাজার মেগাওয়াট। এছাড়া ভ্যাপসা গরম আর ইরি সেচের কারণে বিদ্যুতের চাহিদা বেড়ে গেছে। সব মিলিয়ে দেশে বিদ্যুতের চরম সংকট বিরাজ করছে। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে ২৯ মার্চ চট্টগ্রামে ৩০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার তিনটি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন পর্যন্ত নতুন বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষমতা বেড়েছে তিন হাজার ৫৮৬ মেগাওয়াট। আরও কয়েকটি নতুন কেন্দ্র পরীক্ষামূলক উৎপাদনে আছে। সেখান থেকেও কিছু বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে পাওয়া যায়। এসব মিলে বর্তমানে দেশে বিদ্যুতের উৎপাদন ক্ষমতা দাঁড়িয়েছে আট হাজার ৩০৫ মেগাওয়াটে। কিছু কেন্দ্র সব সময়ই মেরামত-রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বন্ধ থাকে। কোন কোন কেন্দ্রে, বিশেষ করে পুরনো কেন্দ্রগুলোতে কারিগরি কারণে উৎপাদন ব্যাহত হয়। এজন্য সরকার মোট উৎপাদন ক্ষমতার ২০ শতাংশ প্রতিদিনের উৎপাদনের হিসাব থেকে বাদ দিয়ে রাখে। তাই উৎপাদন ক্ষমতা কমে দাঁড়ায় ছয় হাজার ৬৪০ মেগাওয়াটে।

অপর একটি সূত্র জানিয়েছে, গ্যাস সংকটের কারণে উৎপাদন কম হয় প্রায় ৬০০ মেগাওয়াট। তেলচালিত কেন্দ্রগুলোর যান্ত্রিক সমস্যা ও সরকারের জ্বালানি সাশ্রয় নীতির কারণে উৎপাদন কম হয় আরও অন্তত ৪০০ মেগাওয়াট। শেষ পর্যন্ত নিশ্চিত উৎপাদনক্ষমতা দাঁড়ায় পাঁচ হাজার ৬৪০ মেগাওয়াটের মতো। বর্তমানে প্রতিদিনের গড় উৎপাদন এ রকমই। সরকারি হিসাবেই এখন প্রতিদিন বিদ্যুতের সর্বোচ্চ চাহিদা প্রায় সাড়ে সাত হাজার মেগাওয়াট। এর মধ্যে সরকার এখন এক হাজার মেগাওয়াটের মতো চাহিদা কমিয়ে ফেলছে ডিমান্ড সাইড ম্যানেজমেন্টের (ডিএসএম) মাধ্যমে। সন্ধ্যায় দোকানপাট বন্ধ, একেক এলাকার শিল্প ও বিপণি বিতানের সাপ্তাহিক ছুটি আলাদা আলাদা দিনে ভাগ করে দেয়া (হলিডে স্ট্যাগারিং), সন্ধ্যাকালীন সর্বোচ্চ চাহিদার সময় পানির পাম্প, এসি, বৈদ্যুতিক ইস্ত্রি প্রভৃতি চালাতে নিষেধ করা এবং সর্বশেষ সন্ধ্যা ৬টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত শিল্প-কারখানা বন্ধ রাখা প্রভৃতিই ডিএসএম। ডিএসএমের পর চাহিদা থাকে প্রায় সাড়ে ছয় হাজার মেগাওয়াট। উৎপাদন করা হচ্ছে কমবেশি সাড়ে পাঁচ হাজার মেগাওয়াট। প্রতিদিন সর্বোচ্চ চাহিদার সময় লোডশেডিং করা হচ্ছে প্রায় এক হাজার মেগাওয়াট। চাহিদার তুলনায় দুই হাজার মেগাওয়াট ঘাটতির এক হাজার মেগাওয়াট ডিএসএম করে এবং এক হাজার মেগাওয়াট লোডশেডিং করে পরিস্থিতি সামাল দেয়া হচ্ছে। বিদ্যুৎ খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের বরাত দিয়ে দৈনিক যুগান্তর জানায়, বর্তমানে দৈনিক লোডশেডিং হচ্ছে প্রায় দু’হাজার মেগাওয়াট।

রাজধানী শহরসহ বিভিন্ন শহরের তুলনায় লোডশেডিংয়ের কারণে বেশি দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে গ্রামের মানুষ। কারণ, সেখানে আইপিএস বা জেনারেটর সংযোগের সুবিধা নেই। তাছাড়া একবার বিদ্যুৎ গেলে তা আবার কখন ফিরে আসবে তার আর খবর থাকে না। পাশাপাশি বিদ্যুতের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ না থাকায় ইরি সেচ কার্যক্রমও বিঘ্নিত হচ্ছে বলে জানা গেছে। ফলে একদিকে ইরি সেচ, অন্যদিকে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় বিঘ্ন ঘটার কারণে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে গ্রামের মানুষ। এই অবস্থা চলতে থাকলে উৎপাদনে যেমন ব্যাপক প্রভাব পড়বে তেমনি দেশের অর্থনীতিতে এর বিরূপ প্রভাব পড়বে বলে অভিজ্ঞ মহলের ধারনা।

Advertisements
আপনি এটাও পছন্দ করতে পারেন
Loading...