The Dhaka Times
তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে রাখার প্রত্যয়ে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সামাজিক ম্যাগাজিন।

মহান স্বাধীনতার ৫০ বছর

মার্চ মাস এলেই সেই ১৯৭১ এর উত্তাল দিনগুলোর কথা আমাদের মনে পড়ে যায়

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ দেখতে দেখতে আমাদের মহান স্বাধীনতা দিবস ৫০ বছর পূর্ণ করলো। এই মার্চ মাস এলেই সেই ১৯৭১ এর উত্তাল দিনগুলোর কথা আমাদের মনে পড়ে যায়। সেই অগ্নিঝরা মার্চ! আমাদের আজকের এই আয়োজন মহান স্বাধীনতা দিবসকে নিয়েই।

মহান স্বাধীনতার ৫০ বছর 1

আমাদের জাতীয় জীবনে আজকের এই দিনটি একটি বিশেষ দিন। কারণ এবার স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্ণ করলো। মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষ্যে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাণী প্রদান করেছেন।

এই মার্চেই আমাদের বাঙালিদের জীবনে অনেক অপ্রত্যাশিত ঘটনার কারণে আজকে আমরা এই কাঙ্ক্ষিত স্বাধীনতার মাস পেয়েছি। বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ হতে শুরু করে খাজা নাজিমুদ্দিনের সাথে চুক্তি, ২১ মার্চে জিন্নাহর রেসকোর্সের দাম্ভিক ভাষণ, অপারেশন সার্চ লাইট, ২৫ মার্চের গণহত্যার পথ পেরিয়ে অবশেষে আসে আমাদের সেই ২৬ মার্চ, স্বাধীনতা দিবস। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ মধ্যরাতে বর্বর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী বাঙালি জাতির কণ্ঠ চিরতরে স্তব্ধ করে দেওয়ার লক্ষ্যে রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে অপারেশন সার্চ লাইটের নামে নিরস্ত্র বাঙালিদের ওপর অত্যাধুনিক অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে নির্মম হামলার মাধ্যমে বাঙালি জাতির জীবনে যে বিভীষিকাময় যুদ্ধ চাপিয়ে দিয়েছিল- দীর্ঘ ৯ মাস যুদ্ধ করে আমরা অবশেষে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে ঠিকই পৌঁছেছিলাম।

১৯৭০এর সাধারণ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে জয়লাভ করা এবং রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পরেও পাকিস্তানী সেনারা নির্বিচারে আমাদের দেশের অসংখ্য মানুষ, বুদ্ধিজীবী, নারী-শিশু সহ রাজনৈতিক নেতা-কর্মী, সামরিক অফিসারদের হত্যা করে। সেনা অভিযানের শুরুতেই হানাদার বাহিনী বঙ্গবন্ধুকে তাঁর ধানমন্ডির বাসভবন হতে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারের আগে বঙ্গবন্ধু ২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন এবং যে কোনো মূল্যে শত্রুর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে বলা হয় যে মেজর জিয়া, বাংলাদেশ লিবারেশন আর্মির প্রাদেশিক কমাণ্ডার-ইন-চিফ, শেখ মুজিবর রহমানের পক্ষে বাংলাদেশের স্বাধীনতা বার্তা দিচ্ছেন। আরও জানানো হয় যে, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের অধীনে একটি সার্বভৌম ও আইনসিদ্ধ সরকার গঠন করা হয়েছে যা আইন ও সংবিধান অনুযায়ী কর্মকাণ্ড চালিয়ে যেতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ থাকবে। আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে এই সরকার জোট-নিরপেক্ষ নীতি মেনে চলতে বদ্ধপরিকর থাকবে। এ রাষ্ট্র সকল জাতির সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখে চলবে এবং বিশ্বশান্তির জন্য প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে। সকল দেশের সরকারকে তাদের নিজ নিজ দেশে বাংলাদেশের নৃশংস গণহত্যার বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তোলার আহ্বানও জানানো হয় এ বার্তায়। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের সরকার একটি সার্বভৌম ও আইনসম্মত সরকার এৰং বিশ্বের সকল গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের স্বীকৃতি পাবার দাবিদার বলে দাবি করা হয় এই বার্তায়।

আমরা আমাদের সেই কাঙ্ক্ষিত বিজয় ছিনিয়ে এনেছি, একটি স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা পেয়েছি। এসব তথ্য কম বেশি আমাদের সকলেরই জানা, অন্তত একজন বাঙালি হিসাবে আমাদের এবং আমাদের পরবর্তী প্রজন্মের কাছে স্বাধীনতার সঠিক ইতিহাস তুলে ধরার দায়িত্ব আমাদেরই।

মহান স্বাধীনতা দিবসের পথ ধরে বিশ্ব মানচিত্রে ঠাঁই করে নেয় স্বাধীন বাংলাদেশ। আমরা অর্জন করি লাল-সবুজ পতাকা। যদিও আমাদের পতাকায় আগে লাল সূর্যের মাঝে হলুদে আঁকা বাংলাদেশের মানচিত্র শোভা পেতো। অন্যান্য আন্তর্জাতিক দিবসের মতো আমাদের স্বাধীনতা দিবসও এখন পৃথিবীর বুকে একটি পরিচিতি পেয়েছে গুগলের কল্যাণে। গুগলের সুবাদে পৃথিবীর কোটি কোটি মানুষ জেনে যায় আমাদের স্বাধীনতার কথা।

প্রবাসী বাঙালিরাও প্রতিনিয়ত দেশের বাইরে আমাদের স্বাধীনতার চেতনাকে সমুন্নত করে চলেছেন। তবে প্রত্যেকটি অর্জনের পেছনেই থাকে একটি জাতির সুদীর্ঘ ইতিহাস; প্রাপ্তি ও অপ্রাপ্তির।

তবে এ বছরের স্বাধীনতা দিবসের গুরুত্ব ও তাৎপর্য অন্যান্য বছরের চেয়ে ভিন্ন আমেজের। কারণ এবার স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্ত্তি হলো। দেশের আপামর জন সাধারণকে দুর্ভোগে রেখে এবং দেশের অস্তিত্ব অস্বীকার এবং অপশক্তির সাথে হাত মিলিয়ে অনেক যুদ্ধাপরাধী বুক ফুলিয়ে স্বাধীন বাংলায় বসবাস করে আসছিলো। কিন্তু স্বাধীনতা বিরোধী ঘৃণ্য যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের মাধ্যমে স্বাধীনতা দিবস জাতীয় জীবনে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

অনেক নাম না জানা মুক্তিযোদ্ধা বা সাধারণ মানুষ এ যুদ্ধে বিভিন্নভাবে অংশ নিয়েছিলেন। কিন্তু তাদের অনেকেই সঠিক পুনর্বাসনের অভাবে যথাযোগ্য বীরের মর্যাদা পান নি। যদিও প্রতি বছর এ দিবসকে কেন্দ্র করে রাষ্ট্রীয়ভাবে অনেক ধরণের কর্মসূচি হাতে নেয়া হয় কিন্তু প্রকৃত যারা যোদ্ধা কিংবা তাদের পরিবার তাদের প্রতি প্রকৃত সহযোগিতার আন্তরিক ইচ্ছা নিয়ে সরকার সহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন বা ব্যক্তি পর্যায়ে আমাদেরই এগিয়ে যেতে হবে।

করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে করণীয়

# সব সময় ঘরে থাকি।
# জরুরি প্রয়োজনে বাইরে বের হলে নিয়মগুলো মানি, মাস্ক ব্যবহার করি।
# তিন লেয়ারের সার্জিক্যাল মাস্ক ইচ্ছে করলে ধুয়েও ব্যবহার করতে পারি।
# বাইরে থেকে ঘরে ফেরার পর পোশাক ধুয়ে ফেলি। কিংবা না ঝেড়ে ঝুলিয়ে রাখি অন্তত চার ঘণ্টা।
# বাইরে থেকে এসেই আগে ভালো করে (অন্তত ২০ সেকেণ্ড ধরে) হাত সাবান বা লিকুইড দিয়ে ধুয়ে ফেলি।
# প্লাস্টিকের তৈরি পিপিই বা চোখ মুখ, মাথা একবার ব্যবহারের পর

অবশ্যই ডিটারজেন্ট দিয়ে ভালো করে ধুয়ে শুকিয়ে ব্যবহার করা যেতে পারে।
# কাপড়ের তৈরি পিপিই বা বর্ণিত নিয়মে পরিষ্কার করে পরি।
# চুল সম্পূর্ণ ঢাকে এমন মাথার ক্যাপ ব্যবহার করি।
# হাঁচি কাশি যাদের রয়েছে সরকার হতে প্রচারিত সব নিয়ম মেনে চলি। এছাড়াও খাওয়ার জিনিস, তালা চাবি, সুইচ ধরা, মাউস, রিমোট কন্ট্রোল, মোবাই, ঘড়ি, কম্পিউটার ডেক্স, টিভি ইত্যাদি ধরা ও বাথরুম ব্যবহারের আগে ও পরে নির্দেশিত মতে হাত ধুয়ে নিন। যাদের হাত শুকনো থাকে তারা হাত ধোয়ার পর Moisture ব্যবহার করি। সাবান বা হ্যান্ড লিকুইড ব্যবহার করা যেতে পারে। কেনোনা শুকনো হাতের Crackle (ফাটা অংশ) এর ফাঁকে এই ভাইরাসটি থেকে যেতে পারে। অতি ক্ষারযুক্ত সাবান বা ডিটারজেন্ট ব্যবহার থেকে বিরত থাকাই ভালো।

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো
Loading...