The Dhaka Times
তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে রাখার প্রত্যয়ে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সামাজিক ম্যাগাজিন।

সেল্ফ আইসোলেশন: যে বিষয়গুলো জানা অত্যন্ত জরুরি

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বলেছেন, যারা বাড়িতে চিকিৎসা নিচ্ছেন তারা কিছু বিধিনিষেধ মেনে চললেই করোনা হতে স্বাভাবিক হওয়া সম্ভব

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ করোনা ভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউ রোধে যথেষ্ট পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বর্তমান সরকার। এমন পরিস্থিতিতে দেশের নাগরিক হিসেবে আমাদেরও কিছু নৈতিক দায়িত্ব রয়েছে। সেল্ফ আইসোলেশনের যে বিষয়গুলো আজ আমরা জানবো।

সর্বাত্মক লকডাউন চলছে পুরো দেশজুড়ে। দেশের সকল নাগরিকের দায়িত্ব এই লকডাউনকে সফল করা। এদিকে যে সকল মানুষের মধ্যে করোনার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে তাদের নিয়ে আতঙ্কিত না হতে বলা হয়েছে।

এই বিষয়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বলেছেন, যারা বাড়িতে চিকিৎসা নিচ্ছেন তারা কিছু বিধিনিষেধ মেনে চললেই করোনা হতে স্বাভাবিক হওয়া সম্ভব হবে। গুরুতরদের ক্ষেত্রে দেশের হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসার জন্য যথেষ্ট সক্ষমতা রয়েছে।

করোনার লক্ষণ দেখা গেলেই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী অবশ্যই আপনাকে চিকিৎসা নিতে হবে। যে সকল বিধিনিষেধ দেওয়া হবে তা অবশ্যই পালন করতে হবে। এক্ষেত্রে রোগীকে সেল্ফ আইসোলেশনসহ অন্যান্য কিছু বিষয়ে খুবই সতর্ক এবং সচেতন থাকাটা অত্যন্ত জরুরি। আসুন সেই বিষয়ে আলোচনা করি:

সেল্ফ আইসোলেশন কিভাবে করবেন

করোনার লক্ষণ দেখা গেলেই বা চিকিৎসক সেল্ফ আইসোলেশনের কথা বললেই একটি ফাঁকা ঘরে একাকি থাকা শুরু করুন। চিকিৎসা বা অন্যান্য বিশেষ কোনো কারণ ছাড়া কখনও বাইরে বের হবেন না। কোনো করোনা সংক্রমিত ব্যক্তির সান্নিধ্যে আসার পরও আপনি এমনটা করবেন না। পরিবারের কাওকে কখনও আপনার সান্নিধ্যে আসতে দিবেন না। এভাবে অন্তত ১৪ দিন আইসোলেশনে থাকতে হবে। তারপর আবার করোনা টেস্ট করে নেগেটিভ এলে তখন স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে পারবেন।

যে বিষয়গুলো খেয়াল রাখা জরুরি

আপনার সেল্ফ আইসোলেশনের জন্য এমন একটি কক্ষ নির্বাচন করতে হবে যেখানে সহজেই বাইরের কেও শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে আপনাকে খাবার সামগ্রীসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী সরবরাহ করতে পারেন। হাঁসি-কাশির সময় অবশ্যই নাকে-মুখে রুমাল কিংবা কোনো কাপড় ধরবেন। পরে রুমাল কিংবা সেই কাপড়টি অবশ্যই ধুয়ে দিবেন। এক্ষেত্রে মাস্ক পরার বিকল্প কিছুই নেই। বাড়ির কারও কিছু ব্যবহারও করবেন না। আপনার ব্যবহার করা কোনো জিনিসও তাদেরকে ব্যবহার করতে দিবেন না। কারও সংস্পর্শ হলেই সাবান দিয়ে ভালো করে ধুয়ে নিতে হবে এবং স্যানিটাইজার ব্যবহার করতে হবে।

বাথরুম ব্যবহার করবেন যেভাবে

একজন করোনা রোগির সেল্ফ আইসোলেশনের সময় রোগীর জন্য পৃথক একটি শৌচালয়ের ব্যবস্থা দরকার। যদি সেটি করা সম্ভব না হয়, অর্থাৎ পরিবারের সব সদস্য একই বাথরুম ব্যবহার করেন তাহলে কিছু বিষয়ে অবশ্যই সতর্ক থাকতে হবে। নিজের ব্যবহৃত টাওয়েল, ব্রাশ, সাবান, শ্যাম্পু ইত্যাদি আপনি কেবলমাত্র নিজেই ব্যবহার করুন। বাথরুমে এগুলো ব্যবহারের পর আপনার ঘরে আবার নিয়ে আসুন। যাতে করে এগুলো অন্য কারও ছোঁয়া না লাগে। প্রতিবারই বাথরুম ব্যবহারের পর আপনাকে বাথরুম ফ্লাশ করতে হবে। এছাড়াও অন্য যে সকল সদস্য রয়েছেন তারা যখন বাথরুমে যাবেন শুরুতেই কয়েক মগ পানি ঢেলে নেওয়া দরকার এবং বাথরুমের কল থেকে শুরু করে যেসব জিনিস করোনা রোগী ধরেছে সেগুলো সেনিটাইজ করে তারপর ব্যবহার করবেন।

করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে করণীয়

# সব সময় ঘরে থাকি।
# জরুরি প্রয়োজনে বাইরে বের হলে নিয়মগুলো মানি, মাস্ক ব্যবহার করি।
# তিন লেয়ারের সার্জিক্যাল মাস্ক ইচ্ছে করলে ধুয়েও ব্যবহার করতে পারি।
# বাইরে থেকে ঘরে ফেরার পর পোশাক ধুয়ে ফেলি। কিংবা না ঝেড়ে ঝুলিয়ে রাখি অন্তত চার ঘণ্টা।
# বাইরে থেকে এসেই আগে ভালো করে (অন্তত ২০ সেকেণ্ড ধরে) হাত সাবান বা লিকুইড দিয়ে ধুয়ে ফেলি।
# প্লাস্টিকের তৈরি পিপিই বা চোখ মুখ, মাথা একবার ব্যবহারের পর

অবশ্যই ডিটারজেন্ট দিয়ে ভালো করে ধুয়ে শুকিয়ে ব্যবহার করা যেতে পারে।
# কাপড়ের তৈরি পিপিই বা বর্ণিত নিয়মে পরিষ্কার করে পরি।
# চুল সম্পূর্ণ ঢাকে এমন মাথার ক্যাপ ব্যবহার করি।
# হাঁচি কাশি যাদের রয়েছে সরকার হতে প্রচারিত সব নিয়ম মেনে চলি। এছাড়াও খাওয়ার জিনিস, তালা চাবি, সুইচ ধরা, মাউস, রিমোট কন্ট্রোল, মোবাই, ঘড়ি, কম্পিউটার ডেক্স, টিভি ইত্যাদি ধরা ও বাথরুম ব্যবহারের আগে ও পরে নির্দেশিত মতে হাত ধুয়ে নিন। যাদের হাত শুকনো থাকে তারা হাত ধোয়ার পর Moisture ব্যবহার করি। সাবান বা হ্যান্ড লিকুইড ব্যবহার করা যেতে পারে। কেনোনা শুকনো হাতের Crackle (ফাটা অংশ) এর ফাঁকে এই ভাইরাসটি থেকে যেতে পারে। অতি ক্ষারযুক্ত সাবান বা ডিটারজেন্ট ব্যবহার থেকে বিরত থাকাই ভালো।

Loading...