The Dhaka Times
তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে রাখার প্রত্যয়ে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সামাজিক ম্যাগাজিন।

শিশুদের মানসিক বিকাশে ক্ষতি করছে করোনা ভাইরাস

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ করোনা মহামারীর সময় শিশুরা বাড়িতে বন্দি অবস্থায় থাকার কারণে শারীরিক ও মানষিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

শিশুদের মানসিক বিকাশে ক্ষতি করছে করোনা ভাইরাস 1

করোনার থাবায় নাজেহাল হয়ে পড়েছে গোটা বিশ্ব। বিভিন্ন দেশে হু হু করে বেড়েই চলেছে কোভিড-১৯ সংক্রমণ। সম্প্রতি এই তালিকায় প্রথম সারিতে রয়েছে আমাদের প্রতিবেশী দেশ ভারত। ভারতে প্রতিদিন ৪ লক্ষের উপরে গিয়ে ঠেকেছিলো। তবে বর্তমানে একটু কমেছে। বর্তমানে ২ লক্ষ ৪০ হাজার করে প্রতিদিন আক্রান্ত হচ্ছে দেশটিতে। তবে মৃত্যুর মিছিল যেনো থামছেই না। এখনও প্রতিদিন চার হাজারের উপরে মানুষ মারা যাচ্ছে। বাড়ছে সংকটজনক রোগীর সংখ্যার পরিমাণ।

গত বছর অর্থাৎ প্রথমবারের থেকে করোনা ভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউয়ে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে শিশুরা। সেই কারণে শিশুদের কথা ভেবে অনেক অভিভাবক বাড়ির বাইরে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে। তবে শিশুদের সুরক্ষার উপায়গুলি সন্ধান করার সঙ্গে সঙ্গে অভিভাবকদের খেয়াল রাখতে হবে শিশুদের মানসিক বিষয়টি।

শিশু বিশেষজ্ঞদের মতে, মহামারীর সময় বাচ্চারা বাড়িতে থাকার কারণে শারীরিক ও মানষিকভাবে বেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অনলাইন পড়াশোনা, আইসোলেশন, বাড়িতে কোয়ারেন্টাইন, সামাজিক যোগাযোগ হতে বিছিন্ন থাকা ও খেলাধুলার অভাবের মতো বিষয়ের কারণে শিশুরা হতাশ ও ভীতু হয়ে পড়ছে। বেশিরভাগ অভিভাবক পরিবারকে সুরক্ষিত রাখার জন্য সমস্ত প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন, তবে শিশুদের মানসিক চাহিদার বিষয়টা উপেক্ষিত থেকে যাচ্ছে।

অনেকেই মনে করেন, মহামারীর সময় শিশুদের টিপিক্যাল গ্রোথ, শিক্ষা, মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ ও অনুভূতির ক্ষেত্রে এক অদ্ভুত পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। এর কারণ হতে পারে স্কুলে বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানোর অভাবের মতো বিষয়গুলো।

বাচ্চাদের মধ্যে মানসিক সমস্যা ভবিষ্যতে একটি খারাপ রূপও নিতে পারে, সেই কারণে অভিভাবকদের উচিত বাচ্চাদের সঙ্গে কথা বলে সেই সমস্ত সমস্যাগুলোর সমাধান করা। আগামী দিনে যাতে করে শারীরিক সুরক্ষার সঙ্গে শিশুদের মানষিক সুরক্ষাও ঠিক থাকে সেই দিকে নজর দিতে হবে। কারণ হলো এই মানসিক বিষাদ শিশুদের নিয়ে যেতে পারে অন্ধকারের দিকে। কীভাবে শিশুদের এই মানসিক ক্ষতি থেকে বের করা যায়, সেই বিষয়গুলো এখানে উল্লেখ করা হলো।

# শিশুদের মানসিক বিষাদ ও হতাশা কাটাতে পারে তাদের অভিভাবকরা। সে ক্ষেত্রে বন্ধুর মতো শিশুদের সঙ্গে মিশে তাদের সমস্যাগুলি ভালো করে বুঝতে হবে এবং জানতে হবে। সেইসঙ্গে এই সমস্যার একটি সমাধানের পথও তৈরি করে তা আলোচনা করতে হবে বাচ্চাদের সঙ্গেই।

# বাড়িতে দাদা-দাদি থাকলে তাদের সঙ্গে একটা সুন্দর মুহূর্ত কাটানোর জন্য বাচ্চাদের অবশ্যই ছেড়ে দিতে হবে। কারণ হলো একা একা থাকার কারণে মানসিক বিষাদের মতো সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে বাচ্চাদের মধ্যে।

# বাড়িতে থাকলেও একটা নির্দিষ্ট রুটিন করতে হবে। যাতে করে এই রুটিন অনুযায়ী বাচ্চাদের সঙ্গে অনেকটা সময় কাটানোর সঙ্গে সঙ্গে বাড়ির মধ্যে নানা কাজ, শিক্ষা ও বিভিন্ন স্বাস্থ্যকর অভ্যাস অনুসরণ এবং সামাজিক দূরত্বের মতো বিষয়গুলো অবগত করাতে হবে বাচ্চাদের মধ্যে।

# বাচ্চাদের নিযুক্ত করাতে হবে ইনডোর প্লে ও সৃজনশীল ক্রিয়াকলাপে। এই ক্রিয়াকলাপগুলো ছাড়াও, বাচ্চাদের বাড়ির কাজে জড়িত থাকার পরামর্শ দেওয়া যেতে পারে। এতে করে তাদের মানসিক দিকটা সুস্থ্য রাখার জন্য বিশেষ ভূমিকা রাখবে।

করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে করণীয়

# সব সময় ঘরে থাকি।
# জরুরি প্রয়োজনে বাইরে বের হলে নিয়মগুলো মানি, মাস্ক ব্যবহার করি।
# তিন লেয়ারের সার্জিক্যাল মাস্ক ইচ্ছে করলে ধুয়েও ব্যবহার করতে পারি।
# বাইরে থেকে ঘরে ফেরার পর পোশাক ধুয়ে ফেলি। কিংবা না ঝেড়ে ঝুলিয়ে রাখি অন্তত চার ঘণ্টা।
# বাইরে থেকে এসেই আগে ভালো করে (অন্তত ২০ সেকেণ্ড ধরে) হাত সাবান বা লিকুইড দিয়ে ধুয়ে ফেলি।
# প্লাস্টিকের তৈরি পিপিই বা চোখ মুখ, মাথা একবার ব্যবহারের পর অবশ্যই ডিটারজেন্ট দিয়ে ভালো করে ধুয়ে শুকিয়ে ব্যবহার করা যেতে পারে।
# কাপড়ের তৈরি পিপিই বা বর্ণিত নিয়মে পরিষ্কার করে পরি।
# চুল সম্পূর্ণ ঢাকে এমন মাথার ক্যাপ ব্যবহার করি।
# হাঁচি কাশি যাদের রয়েছে সরকার হতে প্রচারিত সব নিয়ম মেনে চলি। এছাড়াও খাওয়ার জিনিস, তালা চাবি, সুইচ ধরা, মাউস, রিমোট কন্ট্রোল, মোবাই, ঘড়ি, কম্পিউটার ডেক্স, টিভি ইত্যাদি ধরা ও বাথরুম ব্যবহারের আগে ও পরে নির্দেশিত মতে হাত ধুয়ে নিন। যাদের হাত শুকনো থাকে তারা হাত ধোয়ার পর Moisture ব্যবহার করি। সাবান বা হ্যান্ড লিকুইড ব্যবহার করা যেতে পারে। কেনোনা শুকনো হাতের Crackle (ফাটা অংশ) এর ফাঁকে এই ভাইরাসটি থেকে যেতে পারে। অতি ক্ষারযুক্ত সাবান বা ডিটারজেন্ট ব্যবহার থেকে বিরত থাকাই ভালো।

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো
Loading...