The Dhaka Times
তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে রাখার প্রত্যয়ে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সামাজিক ম্যাগাজিন।

টিকা নেওয়ার আগে ও পরে যা খেতে হবে

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ করোনা নিয়ে দুশ্চিন্তার শেষ নেই। তবে এই করোনা প্রতিরোধের উত্তম একটি পন্থা হলো টিকা। প্রথম টিকা দেওয়ার পর দুয়েকটি বিচ্ছিন্ন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ছাড়া তেমন কিছু হচ্ছে না। টিকা নেওয়ার আগে ও পরে যা খেতে হবে তা আজ জেনে নিন।

যে কোনো প্রতিষেধকের কোনো না কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া শরীরে হতেই পারে। কোভিডের টিকাও এর ব্যতিক্রম নয়। এই টিকার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াগুলো দেখা যাচ্ছে অত্যন্ত স্বাভাবিক। হয়তো সামান্য জ্বর বা হাতে ব্যাথা দেখা যায়। এটি খুবই স্বাভাবিক বিষয়। টিকা নিলে একদিকে যেমন নিজে সুস্থ থাকা যাবে, তেমনি নিরাপদ রাখা যাবে প্রিয়জনদেরও।

টিকা দেওয়ার পর শরীরে বিশেষ করে হাতে সামান্য ব্যথা, অবসাদ কিংবা ক্লান্তি অনুভব হতে পারে। সাময়িকভাবে দুর্বলতাও পেয়ে বসতে পারে। এতে চিন্তার কিছুই নেই। খাওয়াদাওয়ার দিকে একটু নজর দিলেই তা কাটিয়ে উঠতে পারবেন। টিকা নেওয়ার আগে ও পরের দুয়েকদিন একটা ব্যালান্সড ডায়েট খাওয়া উচিত। কয়েকদিন কী খাবেন তা জেনে নিন:

টিকার আগে ও পরে যা খাবেন

# টিকা নেওয়ার দিন কয়েক আগে থেকে সকালটা রসুন ভেজানো পানি খেয়ে শুরু করুন। এক্ষেত্রে রসুনের কোয়া একটু থেঁতলে নিয়ে পানিতে ভিজিয়ে রাখতে হবে আগের দিন রাতে। এছাড়াও ভেষজ চা খাবেন দিনে ২/৩বার। ভেষজ চা বলতে আদা, লবঙ্গ, দারুচিনি, তুলসিপাতা, তালমিছরি, গোলমরিচ দিয়ে চা বানিয়ে খেতে পারেন। নাস্তায় আটার রুটি, সিদ্ধ ডিম এবং সবজির তরকারিও রাখুন।

# প্যাকেটজাত খাবার এই সময় না খাওয়ায় ভালো। বেশি তেল-ঝাল-মশলা দিয়ে রান্না করা খাবার থেকেও বিরত থাকুন। গরুর মাংস, খাসির মাংস এড়িয়ে চলায় ভালো। বেশি করে মাছের পাতলা ঝোল খান। ভাত, ডাল-তরকারি, খিচুড়ি, মুরগি, মাছ, শাক-সবজি প্রতিদিন সাধারণভাবে যা যা রান্না হয় সেগুলো খাবেন। খাবার শেষে দইও খেতে পারেন। কারণ হলো দইয়ে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে গুড ব্যাকটেরিয়া।

# বেশি করে পানি পান করুন। এই সময় শরীরে পানির খুব প্রয়োজন হয়। একে তো গরম তার উপর কোভিড ভ্যাকসিনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াতো রয়েছেই। তাই মৌসুমী বিভিন্ন রসালো ফলের জুস কিংবা আস্ত ফল খাবেন। তবে বাইরেরর কোনো জুস না খাওয়ায় ভালো। সকাল-বিকাল ডাবের পানিও খেতে পারেন।

# বিকালে ভেষজ চা খেতে পারেন। ময়দার বিস্কুট না খেয়ে একমুঠো বাদাম কিংবা ড্রাই ফ্রুটও খেতে পারেন। চিনিযুক্ত খাবার না খাওয়ায় ভালো। কয়েকদিন প্রসেসড সুগার, কেক, পেস্ট্রি, কুকি এগুলো একেবারেই খাবেন না। তেল-মসলা ছাড়া মুড়িমাখা খাওয়া যেতে পারে। তবে ছোলা ভুনা, পুরি, আলুর চপ, সিঙ্গারা, সমুচা-এগুলো এড়িয়ে চলায় ভালো। এছাড়াও চিপস এবং পপকর্ন যেমন খাবেন না তেমনি বিয়ার এবং মদ্যপান করবেন না। বেশি করে পানি পান করুন।

# রাতের খাবার বেশি দেরি করে খাবেন না। ঘুমানোর অন্তত ২ ঘণ্টা আগে রাতের খাবার খেয়ে নিন। ইচ্ছে করলে সবজি খিচুড়ি, রুটি-তরকারি খেতে পারেন। খাওয়ার পর কিছুটা সময় পায়চারি করে নিলে খাবারগুলো হজমে সুবিধা হবে।

করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে করণীয়

# সব সময় ঘরে থাকি।
# জরুরি প্রয়োজনে বাইরে বের হলে নিয়মগুলো মানি, মাস্ক ব্যবহার করি।
# তিন লেয়ারের সার্জিক্যাল মাস্ক ইচ্ছে করলে ধুয়েও ব্যবহার করতে পারি।
# বাইরে থেকে ঘরে ফেরার পর পোশাক ধুয়ে ফেলি। কিংবা না ঝেড়ে ঝুলিয়ে রাখি অন্তত চার ঘণ্টা।
# বাইরে থেকে এসেই আগে ভালো করে (অন্তত ২০ সেকেণ্ড ধরে) হাত সাবান বা লিকুইড দিয়ে ধুয়ে ফেলি।
# প্লাস্টিকের তৈরি পিপিই বা চোখ মুখ, মাথা একবার ব্যবহারের পর

অবশ্যই ডিটারজেন্ট দিয়ে ভালো করে ধুয়ে শুকিয়ে ব্যবহার করা যেতে পারে।
# কাপড়ের তৈরি পিপিই বা বর্ণিত নিয়মে পরিষ্কার করে পরি।
# চুল সম্পূর্ণ ঢাকে এমন মাথার ক্যাপ ব্যবহার করি।
# হাঁচি কাশি যাদের রয়েছে সরকার হতে প্রচারিত সব নিয়ম মেনে চলি। এছাড়াও খাওয়ার জিনিস, তালা চাবি, সুইচ ধরা, মাউস, রিমোট কন্ট্রোল, মোবাই, ঘড়ি, কম্পিউটার ডেক্স, টিভি ইত্যাদি ধরা ও বাথরুম ব্যবহারের আগে ও পরে নির্দেশিত মতে হাত ধুয়ে নিন। যাদের হাত শুকনো থাকে তারা হাত ধোয়ার পর Moisture ব্যবহার করি। সাবান বা হ্যান্ড লিকুইড ব্যবহার করা যেতে পারে। কেনোনা শুকনো হাতের Crackle (ফাটা অংশ) এর ফাঁকে এই ভাইরাসটি থেকে যেতে পারে। অতি ক্ষারযুক্ত সাবান বা ডিটারজেন্ট ব্যবহার থেকে বিরত থাকাই ভালো।

Loading...