দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করা এবং দুর্নীতিসহ নানা অভিযোগে ৪ দেশের ৩৯ ব্যক্তির বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এই নিষেধাজ্ঞার কারণে এই ব্যক্তিরা আর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে পারবেন না। এই দেশগুলো হলো- এল সালভাদর, নিকারাগুয়া, গুয়াতেমালা এবং হন্ডুরাস।
গতকাল বুধবার (২০ জুলাই) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত ‘সেকশন ৩৫৩ করাপশন অ্যান্ড আনডেমোক্রেটিক অ্যক্টরস রিপোর্ট: ২০২৩’-এ ১১ পৃষ্ঠার রিপোর্টে এই নিষেধাজ্ঞার কথা বলা হয়েছে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই নিষেধাজ্ঞার তালিকায় এল সালভাদরের ৬ জন, গুয়াতেমালার ১০ জন, হন্ডুরাসের ১০ জন এবং নিকারাগুয়ার ১৩ জন ব্যক্তির নাম রয়েছে।
কংগ্রেসের কাছে জমা দেওয়া ওই রিপোর্ট অনুযায়ী দেখা যায়, এইসব ব্যক্তি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা পাওয়ার বৈধতা হারিয়েছেন। এবং কারও কাছে বর্তমানে মার্কিন ভিসা থাকলে সেটিও তাৎক্ষণিকভাবে তাও বাতিল করা হয়েছে।
এছাড়াও নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত এই ব্যক্তিদের অন্য যে কোনো ধরনের বৈধ ভিসা কিংবা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের কোনো ডকুমেন্ট থাকলে তা-ও বাতিল করা হয়।
রিপোর্টে আরও বলা হয়, এইসব ব্যক্তি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া কিংবা প্রতিষ্ঠানকে বাধাগ্রস্তও করেছেন, উল্লেখযোগ্য দুর্নীতি করেছেন ও দুর্নীতির তদন্তে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছেন। এছাড়াও তারা সরকারি কাজের চুক্তি পেতে ঘুষ, চাঁদা দাবি, দুর্নীতিতে সহযোগিতা করা; অর্থ পাচার করা; সহিংসতা, হয়রানি এবং ভীতি প্রদর্শন করার সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন।
>>>>>>>>>>>>>>
ডেঙ্গু প্রতিরোধ করবেন যেভাবে
মশা বাহিত একপ্রকার ভাইরাস জ্বর হলো ডেঙ্গু। এই জ্বর অন্যান্য ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়াজনিত জ্বর থেকে ভিন্ন। অবশ্য এই জ্বর কোনোভাবেই ছোঁয়াচে নয়। এই ভাইরাস জ্বর এককভাবে বা অন্যান্য ভাইরাস (চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, বার্মা ফরেস্ট, ফ্লু, রেসপাইরেটরি সিনসাইটিয়াল) এবং ব্যাকটেরিয়া (নিউমোক্কাস)-এর সঙ্গেও হতে পারে।
লক্ষণ ও জ্বরের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গুজ্বরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে।
১. সাধারণ ডেঙ্গুজ্বর
২. রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বর।
সাধারণ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে চোখে পড়ে মূলত নিচের এই লক্ষণগুলো-
১. হঠাৎ করে তীব্র জ্বর ও তা ২ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হওয়া।
২. তীব্র মাথাব্যথা হওয়া।
৩. চোখের পেছনের অংশে ব্যথা হওয়া।
৪. জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি চোখে পড়া।
৫. সম্পূর্ণ শরীরে তীব্র ব্যথা ও সেইসঙ্গে কোমরে ব্যথা।
৬. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।
৭. ত্বকে র্যাশ বা লাল দানা দানা দেখা দেওয়া।
রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে :
১. ২ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তীব্র জ্বর সঙ্গে নাক, মুখ বা বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া।
২. জ্বরের পাশাপাশি বুকে বা পেটে পানি জমে যাওয়া।
এইসব লক্ষণের যে কোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।
অপরদিকে
জ্বরের প্রথম ৩ দিন বাড়িতে অপেক্ষা করুন। অপরদিকে সারা শরীর পানি দিয়ে স্পঞ্জ করুন কিছুক্ষণ পরপর। এতে করে জ্বরের মাত্রা কমে আসবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান ও বিশ্রাম নিতে হবে। এরপরেও জ্বর না কমলে বা কিছু সময় পরপর বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়:
১. বাড়ির আশপাশ যতোটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করুন।
২. ঘরের ভেতরে থাকা ফুলের টব বা ভাঙা প্লাস্টিকের বোতল, ডাবের খোসা, টায়ার অথবা পলিথিন থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলুন ও ফুলের টব থেকে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করুন।
৩. মশা নিধনের জন্য সপ্তাহে অন্তত ৩ বার স্প্রে বা ফগিং করুন।
৪. বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় মশা নিধনে ব্যবহৃত ক্রিম সঙ্গে রাখতে পারেন।
৫. সন্ধ্যার পর বাড়ির ছোট থেকে বড় সদস্যরা মশারি ব্যবহার করুন।
৬. যেখানে-সেখানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি পরিষ্কার করে ফেলুন, কারণ এতে এডিস মশা ডিম পেড়ে থাকে এই সময়।
৭. অপরদিকে মশার প্রকোপ থেকে বাঁচতে মশারির সঙ্গে সঙ্গে ম্যাট ব্যবহার করতে পারেন।
৮. এডিস মশা যেহেতু দিনের বেলা কামড়ায় তাই দিনের বেলায় ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টানিয়ে ঘুমানোর দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সূত্র: https://dmpnews.org