দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ এক চীনা নারী অ্যাপল স্টোর থেকে আইফোন চুরি করার অভিযোগে আটক হয়েছেন। দক্ষিণ চীনের ফুজিয়ান প্রদেশের একটি অ্যাপল স্টোরের ঢুকে তিনি ৯৬০ ডলার মূল্যের আইফোন ১৪ প্লাস চুরি করেছিলেন।
এই সময় তিনি ফোনের চুরি রোধক তার (অ্যান্টি থেফট কেবল) কামড়ে ছিড়ে ফেলেন বলেও জানা যায়! সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, কিউইউ নামে ওই নারী ডিভাইসটি নিয়ে দোকান থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ঠিক আধা ঘণ্টা পর পুলিশের হাতে ধরা পড়ে যায়।
চীনা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া এক সিসিটিভি ক্যামেরার ভিডিওতে কিউকে স্মার্টফোনের ডিসপ্লে স্ট্যান্ডের সামনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। এরপর তিনি কাউন্টারে হেলান দেন ও তার ডান হাতটি ফোনের ওপর রাখেন। ফোনটি হাতে নিয়ে কিছুক্ষণ দেখার পরই সেটি তিনি কৌশলে ব্যাগে ঢুকিয়ে ফেলেন। ফোনটি চুরির পূর্বে তাকে বেশ কয়েকবার দাঁত দিয়ে নিরাপত্তা তার কামড়াতে দেখা যায়।
স্টোর ম্যানেজার ওয়াং বলেছেন যে, এই ঘটনার সময় একটি অ্যালার্ম বেজেছিল। তবে তখন কর্মচারীরা তদন্ত করে সন্দেহজনক কিছুই পায়নি।
পুলিশ অফিসার ঝাং জিনহং বলেছেন, কিউ অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে এই কাজটি করেছেন। তাকে আর দশজন সাধারণ ক্রেতার মতোই মনে হয়েছিলো। দেখে বোঝার উপায় ছিল না যে, সে চুরি করতে এসেছে। তিনি ফোন নিয়ে বেরিয়ে যাওয়ার পর কর্মচারীরা দেখতে পান যে, একটি তার ছেড়া ও সেটি কেও দাঁত দিয়ে কামড়েছে। এটি দেখার পরই তারা পুলিশকে জানান। সিসিটিভি ফুটেজ দেখে পুলিশ তাকে শনাক্ত করেন। পরে তাকে বাড়ি হতে গ্রেফতার করা হয়।
ধরা পড়ার পর কিউ পুলিশকে বলেছেন, তার ফোনটি হারিয়ে যাওয়ার পর দোকান থেকে নতুন ফোন কিনতে চেয়েছিলেন তিনি। তবে ফোনের দাম দেখে তার আশা ভেঙ্গে গিয়েছিলো। তাই তিনি চুরি করার পরিকল্পনা করেছিলেন।
পুলিশ জানিয়েছে যে, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে আটক রাখা হবে। ভিডিওটি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর অনেকেই অবাক হন। একজন মন্তব্য করেছেন যে, ‘সে কি জানে না সব জায়গায় সিকিউরিটি ক্যামেরা রয়েছে?’ আরেকজন মজার ছলে বলেছেন যে, ‘তার শক্ত দাঁত রয়েছে!’
>>>>>>>>>>>>>>
ডেঙ্গু প্রতিরোধ করবেন যেভাবে
মশা বাহিত একপ্রকার ভাইরাস জ্বর হলো ডেঙ্গু। এই জ্বর অন্যান্য ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়াজনিত জ্বর থেকে ভিন্ন। অবশ্য এই জ্বর কোনোভাবেই ছোঁয়াচে নয়। এই ভাইরাস জ্বর এককভাবে বা অন্যান্য ভাইরাস (চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, বার্মা ফরেস্ট, ফ্লু, রেসপাইরেটরি সিনসাইটিয়াল) এবং ব্যাকটেরিয়া (নিউমোক্কাস)-এর সঙ্গেও হতে পারে।
লক্ষণ ও জ্বরের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গুজ্বরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে।
১. সাধারণ ডেঙ্গুজ্বর
২. রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বর।
সাধারণ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে চোখে পড়ে মূলত নিচের এই লক্ষণগুলো-
১. হঠাৎ করে তীব্র জ্বর ও তা ২ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হওয়া।
২. তীব্র মাথাব্যথা হওয়া।
৩. চোখের পেছনের অংশে ব্যথা হওয়া।
৪. জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি চোখে পড়া।
৫. সম্পূর্ণ শরীরে তীব্র ব্যথা ও সেইসঙ্গে কোমরে ব্যথা।
৬. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।
৭. ত্বকে র্যাশ বা লাল দানা দানা দেখা দেওয়া।
রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে :
১. ২ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তীব্র জ্বর সঙ্গে নাক, মুখ বা বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া।
২. জ্বরের পাশাপাশি বুকে বা পেটে পানি জমে যাওয়া।
এইসব লক্ষণের যে কোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।
অপরদিকে
জ্বরের প্রথম ৩ দিন বাড়িতে অপেক্ষা করুন। অপরদিকে সারা শরীর পানি দিয়ে স্পঞ্জ করুন কিছুক্ষণ পরপর। এতে করে জ্বরের মাত্রা কমে আসবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান ও বিশ্রাম নিতে হবে। এরপরেও জ্বর না কমলে বা কিছু সময় পরপর বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়:
১. বাড়ির আশপাশ যতোটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করুন।
২. ঘরের ভেতরে থাকা ফুলের টব বা ভাঙা প্লাস্টিকের বোতল, ডাবের খোসা, টায়ার অথবা পলিথিন থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলুন ও ফুলের টব থেকে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করুন।
৩. মশা নিধনের জন্য সপ্তাহে অন্তত ৩ বার স্প্রে বা ফগিং করুন।
৪. বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় মশা নিধনে ব্যবহৃত ক্রিম সঙ্গে রাখতে পারেন।
৫. সন্ধ্যার পর বাড়ির ছোট থেকে বড় সদস্যরা মশারি ব্যবহার করুন।
৬. যেখানে-সেখানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি পরিষ্কার করে ফেলুন, কারণ এতে এডিস মশা ডিম পেড়ে থাকে এই সময়।
৭. অপরদিকে মশার প্রকোপ থেকে বাঁচতে মশারির সঙ্গে সঙ্গে ম্যাট ব্যবহার করতে পারেন।
৮. এডিস মশা যেহেতু দিনের বেলা কামড়ায় তাই দিনের বেলায় ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টানিয়ে ঘুমানোর দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সূত্র: https://dmpnews.org