The Dhaka Times
তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে রাখার প্রত্যয়ে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সামাজিক ম্যাগাজিন।

বিধ্বস্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ স্কুলভবনে শিক্ষা কার্যক্রম!

ঢাকা টাইমস্‌ ডেস্ক ॥ শিক্ষা খাতে সরকারি অগ্রাধিকার সেটি শুধুই কাগজে কলমে সীমাবদ্ধ। কারণ বাস্তবে এর চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। বাস্তবে দেখা যায় ঝুঁকিপূর্ণ অথবা বিধ্বস্ত ভবনে শিক্ষার্থীরা ক্লাস করছে। এমনই দুটি ঘটনার খবর পাওয়া গেছে নড়াইল ও লক্ষ্মীপুরে।
বিধ্বস্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ স্কুলভবনে শিক্ষা কার্যক্রম! 1
দক্ষিণাঞ্চলের একটি জেলা নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার পালপাড়া রেজিস্টার্ড প্রাথমিক বিদ্যালয় ও লক্ষ্মীপুরের বালাশপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলছে শিক্ষা কার্যক্রম। বিদ্যালয় দুটির জরাজীর্ণ ভবনের ছাদের পলেস্তরা খসে পড়ছে। এতে প্রতিনিয়ত ঘটছে ছোটখাটো দুর্ঘটনা।

নড়াইল

নড়াইলে জরাজীর্ণ ভবনে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ক্লাস করে যাচ্ছেন লোহাগড়া উপজেলার পালপাড়া রেজিস্টার্ড বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। আর সন্তানদের স্কুলে পাঠিয়ে প্রতিনিয়ত উৎকণ্ঠায় থাকতে হয় অভিভাবকদের। বারবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে সংকট নিরসনের আবেদন জানিয়েও কোন কাজ হয়নি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, স্কুলে শিশুদের লেখাপড়া ও অফিসের কাজ চালিয়ে যাওয়ার জন্য একটিমাত্র একতলা ভবন রয়েছে। এর চারটি কক্ষের মধ্যে তিনটিকে শ্রেণীকক্ষ এবং অপরটিকে অফিস কক্ষ হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। কিন্তু প্রতিটি কক্ষেরই ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ছে এবং তা এখনও অব্যাহত রয়েছে। এছাড়া ছাদের ভিম, বারান্দার পিলার ও দেয়ালে ফাটল ধরেছে। আর এর মাঝে ক্লাস করতে হচ্ছে শিক্ষকদের। ঝুঁকি থাকায় ক্লাসে শিশুদের বই-খাতা ও ব্লাকবোর্ডের পাশাপাশি দেয়াল ও ছাদের দিকেই নজর রাখতে হয় বেশি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ১৯৫৫ সালে ৩৩ শতাংশ জমির ওপর এ স্কুলটি গড়ে ওঠে। স্কুলের বর্তমান শিক্ষক সংখ্যা তিনজন ও শিক্ষার্থী ১৪৮।
– এ বিদ্যালয়ে ১৯৯৩-৯৪ সালে একটি একতলা ভবন নির্মিত হয়। এলাকাবাসীর অভিযোগ, ভবন নির্মাণের সময় ঠিকাদার নিম্নমানের কাজ করায় এর এমন করুণদশা হয়েছে। স্কুলের সহকারী শিক্ষক রহিমা খানম জানান, প্রায়ই ক্লাস চলাকালে ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ছে।

লক্ষ্মীপুর

লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার বালাশপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ধসে পড়া ভবনের অবশিষ্ট অংশের দুটি রুমে ৮৭ ছাত্রছাত্রী জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত ক্লাস করছে। যে কোন মুহূর্তে এ দুটি রুমের ছাদ ও দেয়াল ধসে বড় ধরনের প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ভবন নির্মাণ প্রক্রিয়াধীন আশ্বাস দিলেও বাস্তবে এর কোন প্রতিফলন নেই। জেলা শহর থেকে মাত্র ১২ কিঃ মিঃ দূরে সদর উপজেলার বশিকপুর ইউনিয়নে ১৯২০ সালে বালাশপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি স্থাপিত হয়। প্রায় শত বছরের পুরনো এ স্কুলটি ২০০৮ থেকে পঞ্চম শ্রেণীর সমাপনী পরীক্ষায় (পিএসসি) ২০১১ সাল পর্যন্ত বিদ্যালয়টি পরীক্ষার ফলাফল সন্তোষজনক। বিদ্যালয়ে মোট ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা ২৬০ জন। সম্প্রতি রাতে বিদ্যালয়ের পুরনো ভবনের দুটি কক্ষের ছাদ ভেঙ্গে পড়ে। বর্তমানে একটি ভবনে তিনটি ক্লাস নিয়োমিত করলেও স্থান সংকুলানের অভাবে জরাজীর্ণ ভেঙ্গে পড়া ভবনের অবশিষ্ট অংশের দুটি রুমে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পাঠদান করানো হচ্ছে। এ ছাড়াও আসবাবপত্রের অভাবে ভবনের মেঝেতে বসে লেখাপড়া করতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের।

এই যদি স্কুলের অবস্থা হয় তাহলে এখান থেকে কোমলমতি শিশুরা কি শিক্ষা গ্রহণ করবে। আমারা আশা করি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো
Loading...