The Dhaka Times
তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে রাখার প্রত্যয়ে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সামাজিক ম্যাগাজিন।

মুখের ব্রণ থেকে পরিত্রাণের উপায় কী?

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ বয়ঃসন্ধিকাল থেকে শুরু করে প্রাপ্তবয়স্ক বয়সেও মুখে ব্রণ হতে পারে। কারও ক্ষেত্রে কয়েকটি ছোট ব্রণ দেখা যায়, আবার কারও মুখে দীর্ঘদিন ধরে ব্ল্যাকহেড, হোয়াইটহেড কিংবা গভীর এবং ব্যথাযুক্ত ব্রণ হতে পারে।

মুখের ব্রণ থেকে পরিত্রাণের উপায় কী? 2

ব্রণ শুধু ত্বকের সৌন্দর্য নষ্ট করে না; দীর্ঘদিন থাকলে আত্মবিশ্বাসেও প্রভাব ফেলতে পারে। তবে সঠিক পরিচর্যা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসার মাধ্যমে ব্রণ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

ব্রণের অন্যতম কারণ হলো ত্বকের রোমকূপ বন্ধ হয়ে যাওয়া। অতিরিক্ত তেল, মৃত কোষ ও প্রদাহের কারণে রোমকূপে সমস্যা তৈরি হতে পারে। হরমোনের পরিবর্তনও ব্রণের সঙ্গে সম্পর্কিত। তাই শুধু মুখ নোংরা থাকার কারণেই ব্রণ হয়- এমন ধারণা সঠিক নয়।

ব্রণ কমানোর প্রথম ধাপ হলো মুখ পরিষ্কার রাখা। তবে খুব ঘন ঘন বা শক্তভাবে মুখ ঘষে পরিষ্কার করা উচিত নয়। আমেরিকান একাডেমি অব ডার্মাটোলজি বা AAD-এর পরামর্শ অনুযায়ী, কোমল এবং ঘষামুক্ত ক্লিনজার দিয়ে দিনে সর্বোচ্চ দুইবার ও ঘাম হওয়ার পর মুখ পরিষ্কার করা যেতে পারে। অতিরিক্ত স্ক্রাবিং ত্বকে জ্বালা সৃষ্টি করে ব্রণ আরও খারাপ করতে পারে।

ব্রণ উঠলে অনেকেই হাত দিয়ে চেপে ফাটিয়ে ফেলেন। এটি এড়িয়ে চলা উচিত। ব্রণ চেপে ধরলে প্রদাহ বাড়তে পারে এবং ত্বকে কালো দাগ বা স্থায়ী দাগ হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। AAD-ও ব্রণ না চেপে চিকিৎসা এবং কোমল ত্বক পরিচর্যার ওপর গুরুত্ব দেয়।

ত্বকের জন্য ব্যবহৃত প্রসাধনী বেছে নেওয়ার সময় ‘oil-free’ কিংবা ‘non-comedogenic’ লেখা পণ্য বেছে নেওয়া ভালো। এগুলো সাধারণত রোমকূপ বন্ধ করার সম্ভাবনা কম এমনভাবে তৈরি করা হয়। একইসঙ্গে অতিরিক্ত তেলযুক্ত প্রসাধনী কিংবা চুলের কিছু পণ্য কপাল এবং চুলের গোড়ায় ছোট ছোট ব্রণ তৈরি করতে পারে।

চুল পরিষ্কার রাখাও গুরুত্বপূর্ণ। তৈলাক্ত চুলের তেল কপালের ত্বকে এসে রোমকূপ বন্ধ করতে পারে। তাই চুলের ধরন অনুযায়ী নিয়মিত শ্যাম্পু করা ও চুল মুখ থেকে দূরে রাখা উপকারী হতে পারে।

ব্রণের চিকিৎসায় বিভিন্ন উপাদান ব্যবহার করা হয়। হালকা ব্রণের ক্ষেত্রে কিছু ওভার-দ্য-কাউন্টার পণ্যে থাকা বেঞ্জয়েল পারঅক্সাইড কিংবা স্যালিসাইলিক অ্যাসিড উপকারী হতে পারে। অ্যাডাপালিনও কিছু ধরনের ব্রণে ব্যবহৃত হয়। তবে সবার ত্বকের জন্য একই চিকিৎসা উপযোগী নয়। বিশেষ করে গর্ভাবস্থা কিংবা অন্য কোনো বিশেষ শারীরিক অবস্থায় চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ব্রণের ওষুধ ব্যবহার করা মোটেও উচিত নয়।

ব্রণের চিকিৎসায় ধৈর্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এক সপ্তাহে ফল না পেয়ে বারবার নতুন পণ্য ব্যবহার করলে ত্বকে জ্বালা বাড়তে পারে। AAD-এর তথ্য অনুযায়ী, কোনো চিকিৎসা কাজ করছে কি-না বুঝতে সাধারণত কয়েক সপ্তাহ সময় লাগতে পারে; অনেক ক্ষেত্রে উন্নতি দেখতে ৬ থেকে ৮ সপ্তাহ সময় লাগে।

গভীর, ব্যথাযুক্ত ব্রণ, বারবার বড় ফোঁড়ার মতো ব্রণ, দ্রুত ছড়িয়ে পড়া ব্রণ কিংবা দাগ তৈরি হতে থাকলে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। বিশেষজ্ঞ প্রয়োজন অনুযায়ী ওষুধ, চিকিৎসা কিংবা ত্বকের উপযোগী পরিচর্যার পরিকল্পনা দিতে পারেন।

তবে মনে রাখতে হবে, ব্রণ কোনো অপরাধ কিংবা লজ্জার বিষয় নয়। ত্বক পরিষ্কার রাখা, ব্রণ না চেপে ধরা, উপযুক্ত প্রসাধনী ব্যবহার, নিয়মিত চিকিৎসা ও ধৈর্য- এই কয়েকটি বিষয় মেনে চললে ব্রণ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে।

>>>>>>>>>>>>>>

ডেঙ্গু প্রতিরোধ করবেন যেভাবে

মশা বাহিত একপ্রকার ভাইরাস জ্বর হলো ডেঙ্গু। এই জ্বর অন্যান্য ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়াজনিত জ্বর থেকে ভিন্ন। অবশ্য এই জ্বর কোনোভাবেই ছোঁয়াচে নয়। এই ভাইরাস জ্বর এককভাবে বা অন্যান্য ভাইরাস (চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, বার্মা ফরেস্ট, ফ্লু, রেসপাইরেটরি সিনসাইটিয়াল) এবং ব্যাকটেরিয়া (নিউমোক্কাস)-এর সঙ্গেও হতে পারে।

লক্ষণ ও জ্বরের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গুজ্বরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে-

১. সাধারণ ডেঙ্গুজ্বর।

২. রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বর।

সাধারণ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে চোখে পড়ে মূলত নিচের এই লক্ষণগুলো-

১. হঠাৎ করে তীব্র জ্বর ও তা ২ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হওয়া।

২. তীব্র মাথাব্যথা হওয়া।

৩. চোখের পেছনের অংশে ব্যথা হওয়া।

৪. জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি চোখে পড়া।

৫. সম্পূর্ণ শরীরে তীব্র ব্যথা ও সেইসঙ্গে কোমরে ব্যথা।

৬. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।

৭. ত্বকে র‌্যাশ বা লাল দানা দানা দেখা দেওয়া।

রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে :

১. ২ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তীব্র জ্বর সঙ্গে নাক, মুখ বা বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া।

২. জ্বরের পাশাপাশি বুকে বা পেটে পানি জমে যাওয়া।

এইসব লক্ষণের যে কোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।

অপরদিকে

জ্বরের প্রথম ৩ দিন বাড়িতে অপেক্ষা করুন। অপরদিকে সারা শরীর পানি দিয়ে স্পঞ্জ করুন কিছুক্ষণ পরপর। এতে করে জ্বরের মাত্রা কমে আসবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান ও বিশ্রাম নিতে হবে। এরপরেও জ্বর না কমলে বা কিছু সময় পরপর বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়:

১. বাড়ির আশপাশ যতোটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করুন।

২. ঘরের ভেতরে থাকা ফুলের টব বা ভাঙা প্লাস্টিকের বোতল, ডাবের খোসা, টায়ার অথবা পলিথিন থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলুন ও ফুলের টব থেকে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করুন।

৩. মশা নিধনের জন্য সপ্তাহে অন্তত ৩ বার স্প্রে বা ফগিং করুন।

৪. বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় মশা নিধনে ব্যবহৃত ক্রিম সঙ্গে রাখতে পারেন।

৫. সন্ধ্যার পর বাড়ির ছোট থেকে বড় সদস্যরা মশারি ব্যবহার করুন।

৬. যেখানে-সেখানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি পরিষ্কার করে ফেলুন, কারণ এতে এডিস মশা ডিম পেড়ে থাকে এই সময়।

৭. অপরদিকে মশার প্রকোপ থেকে বাঁচতে মশারির সঙ্গে সঙ্গে ম্যাট ব্যবহার করতে পারেন।

৮. এডিস মশা যেহেতু দিনের বেলা কামড়ায় তাই দিনের বেলায় ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টানিয়ে ঘুমানোর দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সূত্র: https://dmpnews.org

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

bn_BDBengali