The Dhaka Times
তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে রাখার প্রত্যয়ে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সামাজিক ম্যাগাজিন।

ভাতের সঙ্গে ঘি খেলেও কী মেদ কমতে পারে?

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ ভাতের সঙ্গে সামান্য ঘি খাওয়ার প্রচলন দক্ষিণ এশিয়ার বহু পরিবারেই রয়েছে। ঘির গন্ধ এবং স্বাদ খাবারকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলে।

ভাতের সঙ্গে ঘি খেলেও কী মেদ কমতে পারে? 1

তবে ওজন কমানোর চেষ্টা করছেন এমন অনেকেই প্রশ্ন করেন- ভাতের সঙ্গে ঘি খেলেও কি শরীরের মেদ কমানো সম্ভব? এই প্রশ্নের উত্তর হলো, শুধু ঘি খাওয়ার কারণে মেদ কমে না; বরং মোট খাদ্যগ্রহণ, ক্যালোরির ভারসাম্য, শারীরিক কর্মকাণ্ড ও দীর্ঘমেয়াদি খাদ্যাভ্যাসের ওপর ওজন কমা কিংবা বাড়া নির্ভর করে।

ঘি মূলত চর্বি কিংবা ফ্যাটসমৃদ্ধ খাবার। তাই অল্প পরিমাণেও এতে উল্লেখযোগ্য শক্তি কিঙবা ক্যালোরি থাকে। একদিকে শরীরের জন্য কিছু ফ্যাট প্রয়োজন, অপরদিকে প্রয়োজনের তুলনায় বেশি ক্যালোরি গ্রহণ করলে শরীরে অতিরিক্ত শক্তি জমা হতে পারে। যে কারণে ঘি ‘স্বাস্থ্যকর’ মনে হলেও পরিমাণের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ।

ভাতও কার্বোহাইড্রেটের একটি প্রধান উৎস। ভাত খাওয়া নিজে থেকেই ওজন বাড়ানোর একমাত্র কারণ নয়। একজন মানুষ কতটা ভাত খাচ্ছেন, সঙ্গে কী ধরনের খাবার খাচ্ছেন, সারাদিনে মোট কত ক্যালোরি গ্রহণ করছেন ও কতটা শারীরিক পরিশ্রম করছেন- এইসব বিষয় একসঙ্গে বিবেচনা করতে হয়।

তাই কেও যদি পরিমিত ভাতের সঙ্গে অল্প ঘি খান, একইসঙ্গে মোট ক্যালোরি নিয়ন্ত্রণ করেন, পর্যাপ্ত প্রোটিন এবং শাকসবজি খান ও নিয়মিত শারীরিক কর্মকাণ্ড করেন, তাহলে তার ওজন কমানো অসম্ভব নয়। তবে এর অর্থ এই নয় যে, ঘি নিজে মেদ কমানোর কোনো বিশেষ উপাদান।

ওজন কমানোর ক্ষেত্রে সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি হচ্ছে, এমন খাদ্যাভ্যাস বেছে নেওয়া যা দীর্ঘদিন ধরে অনুসরণ করা সম্ভব। Harvard Health-ও টেকসই ওজন কমানোর ক্ষেত্রে ধীরে ধীরে জীবনযাপনে পরিবর্তন আনা ও ব্যক্তির জন্য বাস্তবসম্মত পদ্ধতি অনুসরণের ওপর গুরুত্ব দেয়।

ভাতের সঙ্গে ঘি খেতে চাইলে পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একসঙ্গে বেশি ঘি না দিয়ে অল্প পরিমাণ ব্যবহার করা যেতেই পারে। একই খাবারে যদি ঘির পাশাপাশি ভাজাপোড়া, চর্বিযুক্ত মাংস, মিষ্টি কিংবা অন্যান্য উচ্চ-ক্যালোরির খাবার থাকে, তাহলে মোট ক্যালোরি দ্রুত বেড়েও যেতে পারে।

মেদ কমাতে চাইলে প্লেটের ভারসাম্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পরিমাণমতো ভাতের সঙ্গে শাকসবজি, ডাল, মাছ, ডিম কিংবা অন্যান্য প্রোটিনের উৎস রাখা যেতে পারে। সবজি এবং আঁশযুক্ত খাবার পেট ভরা রাখতে সহায়তা করতে পারে। পাশাপাশি নিয়মিত হাঁটা, ব্যায়াম কিংবা বয়স এবং শারীরিক অবস্থার উপযোগী শারীরিক কর্মকাণ্ড চালু রাখা দরকার।

আরেকটি ভুল ধারণা হচ্ছে- কোনো একটি খাবার বাদ দিলেই কিংবা যোগ করলেই পেটের মেদ দ্রুত কমে যাবে। বাস্তবে শরীরের নির্দিষ্ট একটি অংশের চর্বি শুধু একটি খাবার খেয়ে কমানো যায় না। সামগ্রিকভাবে শরীরের অতিরিক্ত চর্বি কমানোর জন্য ধারাবাহিক খাদ্যাভ্যাস এবং শারীরিক কর্মকাণ্ড প্রয়োজন।

যাদের ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, উচ্চ কোলেস্টেরল কিংবা অন্য কোনো দীর্ঘস্থায়ী রোগ রয়েছে, তাদের খাদ্যতালিকায় ঘি এবং অন্যান্য চর্বির পরিমাণ নিয়ে চিকিৎসক কিংবা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

আর তাই ভাতের সঙ্গে অল্প ঘি খাওয়া মানেই মেদ বাড়বে- এমন সরল সিদ্ধান্ত যেমন ঠিক নয়, তেমনি ঘি খেলেই মেদ কমবে- এমন দাবিও সঠিক নয়। ওজন কমানোর মূল চাবিকাঠি হলো মোট ক্যালোরির ভারসাম্য, পুষ্টিকর খাবার, পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ ও নিয়মিত শারীরিক কর্মকাণ্ড।

>>>>>>>>>>>>>>

ডেঙ্গু প্রতিরোধ করবেন যেভাবে

মশা বাহিত একপ্রকার ভাইরাস জ্বর হলো ডেঙ্গু। এই জ্বর অন্যান্য ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়াজনিত জ্বর থেকে ভিন্ন। অবশ্য এই জ্বর কোনোভাবেই ছোঁয়াচে নয়। এই ভাইরাস জ্বর এককভাবে বা অন্যান্য ভাইরাস (চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, বার্মা ফরেস্ট, ফ্লু, রেসপাইরেটরি সিনসাইটিয়াল) এবং ব্যাকটেরিয়া (নিউমোক্কাস)-এর সঙ্গেও হতে পারে।

লক্ষণ ও জ্বরের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গুজ্বরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে-

১. সাধারণ ডেঙ্গুজ্বর।

২. রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বর।

সাধারণ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে চোখে পড়ে মূলত নিচের এই লক্ষণগুলো-

১. হঠাৎ করে তীব্র জ্বর ও তা ২ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হওয়া।

২. তীব্র মাথাব্যথা হওয়া।

৩. চোখের পেছনের অংশে ব্যথা হওয়া।

৪. জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি চোখে পড়া।

৫. সম্পূর্ণ শরীরে তীব্র ব্যথা ও সেইসঙ্গে কোমরে ব্যথা।

৬. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।

৭. ত্বকে র‌্যাশ বা লাল দানা দানা দেখা দেওয়া।

রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে :

১. ২ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তীব্র জ্বর সঙ্গে নাক, মুখ বা বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া।

২. জ্বরের পাশাপাশি বুকে বা পেটে পানি জমে যাওয়া।

এইসব লক্ষণের যে কোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।

অপরদিকে

জ্বরের প্রথম ৩ দিন বাড়িতে অপেক্ষা করুন। অপরদিকে সারা শরীর পানি দিয়ে স্পঞ্জ করুন কিছুক্ষণ পরপর। এতে করে জ্বরের মাত্রা কমে আসবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান ও বিশ্রাম নিতে হবে। এরপরেও জ্বর না কমলে বা কিছু সময় পরপর বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়:

১. বাড়ির আশপাশ যতোটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করুন।

২. ঘরের ভেতরে থাকা ফুলের টব বা ভাঙা প্লাস্টিকের বোতল, ডাবের খোসা, টায়ার অথবা পলিথিন থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলুন ও ফুলের টব থেকে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করুন।

৩. মশা নিধনের জন্য সপ্তাহে অন্তত ৩ বার স্প্রে বা ফগিং করুন।

৪. বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় মশা নিধনে ব্যবহৃত ক্রিম সঙ্গে রাখতে পারেন।

৫. সন্ধ্যার পর বাড়ির ছোট থেকে বড় সদস্যরা মশারি ব্যবহার করুন।

৬. যেখানে-সেখানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি পরিষ্কার করে ফেলুন, কারণ এতে এডিস মশা ডিম পেড়ে থাকে এই সময়।

৭. অপরদিকে মশার প্রকোপ থেকে বাঁচতে মশারির সঙ্গে সঙ্গে ম্যাট ব্যবহার করতে পারেন।

৮. এডিস মশা যেহেতু দিনের বেলা কামড়ায় তাই দিনের বেলায় ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টানিয়ে ঘুমানোর দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সূত্র: https://dmpnews.org

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো
Loading...
bn_BDBengali