দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ লিভারে অতিরিক্ত চর্বি জমাকে সাধারণভাবে ফ্যাটি লিভার বলা হয়। বর্তমানে অতিরিক্ত ওজন, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা ও বিপাকীয় সমস্যার সঙ্গে এ ধরনের লিভার সমস্যার সম্পর্ক রয়েছে।

অনেক সময় ফ্যাটি লিভারের শুরুতে তেমন কোনো লক্ষণ থাকে না। যে কারণে মানুষ বিষয়টি বুঝতে পারেন না। তবে দীর্ঘদিন অবহেলা করলে কিছু মানুষের ক্ষেত্রে লিভারে প্রদাহ ও ক্ষত তৈরি হতে পারে।
লিভারের মেদ কমানোর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপায় হলো ধীরে ধীরে ওজন কমানো, বিশেষ করে যদি কারও ওজন বেশি থাকে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের National Institute of Diabetes and Digestive and Kidney Diseases কিংবা NIDDK বলছে, শরীরের ওজনের অন্তত ৩ থেকে ৫ শতাংশ কমানো লিভারের চর্বি কমাতে সাহায্য করতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে ৭ থেকে ১০ শতাংশ পর্যন্ত ওজন কমানো লিভারের প্রদাহ এবং ফাইব্রোসিস কমাতেও সহায়ক হতে পারে।
তবে দ্রুত ওজন কমানোর চেষ্টা করা উচিত নয়। অত্যন্ত দ্রুত ওজন কমানো ও অপুষ্টি লিভারের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। তাই ধীরে ধীরে খাদ্যাভ্যাস এবং জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আনা বেশি নিরাপদ।
খাবারের তালিকায় পরিবর্তন আনা জরুরি। অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত খাবার, অতিরিক্ত ক্যালরি, পরিমাণের তুলনায় বেশি খাবার এবং অস্বাস্থ্যকর ফ্যাট কমাতে হবে। একই সঙ্গে শাকসবজি, ফল, পূর্ণ শস্য এবং অন্যান্য পুষ্টিকর খাবার বাড়ানো যেতে পারে। NIDDK কম গ্লাইসেমিক সূচকের খাবার- যেমন অধিকাংশ ফল, সবজি ও পূর্ণ শস্য- খাদ্যতালিকায় রাখার পরামর্শ দেয়।
নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রমও গুরুত্বপূর্ণ। দ্রুত হাঁটা, সাইক্লিং, সাঁতার কিংবা নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী অন্যান্য ব্যায়াম করা যেতে পারে। বিশেষ বিষয় হলো- ব্যায়ামের উপকার পেতে সবসময় ওজন কমতেই হবে এমন নয়; শারীরিক কার্যক্রম নিজেও উপকারী হতে পারে।
চিনি এবং অতিরিক্ত মিষ্টি খাবার কমানোও ভালো অভ্যাস। কোমল পানীয়, অতিরিক্ত মিষ্টি পানীয় এবং অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবারের পরিবর্তে পানি ও পুষ্টিকর খাবার বেছে নেওয়া যেতে পারে।
নিজে থেকে ‘লিভার পরিষ্কার’ বা ‘ফ্যাটি লিভার গলানোর’ নামে বিভিন্ন হারবাল এবং সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করা উচিত নয়। NIDDK সতর্ক করে যে কিছু হারবাল উপাদান উল্টো লিভারের ক্ষতি করতে পারে।
ফ্যাটি লিভার শনাক্ত হলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী পরীক্ষা এবং ফলোআপ করা জরুরি। শুধু ঘরোয়া উপায়ে চিকিৎসা করার পরিবর্তে ওজন, খাদ্যাভ্যাস, শারীরিক কার্যক্রম এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা- সবকিছুকেই সমন্বিতভাবে দেখতে হবে।
>>>>>>>>>>>>>>
ডেঙ্গু প্রতিরোধ করবেন যেভাবে
মশা বাহিত একপ্রকার ভাইরাস জ্বর হলো ডেঙ্গু। এই জ্বর অন্যান্য ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়াজনিত জ্বর থেকে ভিন্ন। অবশ্য এই জ্বর কোনোভাবেই ছোঁয়াচে নয়। এই ভাইরাস জ্বর এককভাবে বা অন্যান্য ভাইরাস (চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, বার্মা ফরেস্ট, ফ্লু, রেসপাইরেটরি সিনসাইটিয়াল) এবং ব্যাকটেরিয়া (নিউমোক্কাস)-এর সঙ্গেও হতে পারে।
লক্ষণ ও জ্বরের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গুজ্বরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে-
১. সাধারণ ডেঙ্গুজ্বর।
২. রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বর।
সাধারণ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে চোখে পড়ে মূলত নিচের এই লক্ষণগুলো-
১. হঠাৎ করে তীব্র জ্বর ও তা ২ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হওয়া।
২. তীব্র মাথাব্যথা হওয়া।
৩. চোখের পেছনের অংশে ব্যথা হওয়া।
৪. জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি চোখে পড়া।
৫. সম্পূর্ণ শরীরে তীব্র ব্যথা ও সেইসঙ্গে কোমরে ব্যথা।
৬. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।
৭. ত্বকে র্যাশ বা লাল দানা দানা দেখা দেওয়া।
রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে :
১. ২ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তীব্র জ্বর সঙ্গে নাক, মুখ বা বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া।
২. জ্বরের পাশাপাশি বুকে বা পেটে পানি জমে যাওয়া।
এইসব লক্ষণের যে কোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।
অপরদিকে
জ্বরের প্রথম ৩ দিন বাড়িতে অপেক্ষা করুন। অপরদিকে সারা শরীর পানি দিয়ে স্পঞ্জ করুন কিছুক্ষণ পরপর। এতে করে জ্বরের মাত্রা কমে আসবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান ও বিশ্রাম নিতে হবে। এরপরেও জ্বর না কমলে বা কিছু সময় পরপর বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়:
১. বাড়ির আশপাশ যতোটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করুন।
২. ঘরের ভেতরে থাকা ফুলের টব বা ভাঙা প্লাস্টিকের বোতল, ডাবের খোসা, টায়ার অথবা পলিথিন থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলুন ও ফুলের টব থেকে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করুন।
৩. মশা নিধনের জন্য সপ্তাহে অন্তত ৩ বার স্প্রে বা ফগিং করুন।
৪. বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় মশা নিধনে ব্যবহৃত ক্রিম সঙ্গে রাখতে পারেন।
৫. সন্ধ্যার পর বাড়ির ছোট থেকে বড় সদস্যরা মশারি ব্যবহার করুন।
৬. যেখানে-সেখানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি পরিষ্কার করে ফেলুন, কারণ এতে এডিস মশা ডিম পেড়ে থাকে এই সময়।
৭. অপরদিকে মশার প্রকোপ থেকে বাঁচতে মশারির সঙ্গে সঙ্গে ম্যাট ব্যবহার করতে পারেন।
৮. এডিস মশা যেহেতু দিনের বেলা কামড়ায় তাই দিনের বেলায় ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টানিয়ে ঘুমানোর দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সূত্র: https://dmpnews.org