The Dhaka Times
তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে রাখার প্রত্যয়ে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সামাজিক ম্যাগাজিন।

রোগাক্রান্ত শিশুকে সুস্থ রাখবেন যেভাবে

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ শিশু অসুস্থ হলে বাবা-মায়ের দুশ্চিন্তার শেষ থাকে না। জ্বর, সর্দি, কাশি, বমি, ডায়রিয়া কিংবা অন্য কোনো সাধারণ অসুস্থতায় শিশু খেতে না চাইতে পারে, দুর্বল হয়ে যেতে পারে বা স্বাভাবিক আচরণে পরিবর্তন দেখা দিতে পারে।

রোগাক্রান্ত শিশুকে সুস্থ রাখবেন যেভাবে 1

এই সময় পরিবারের সদস্যদের প্রধান দায়িত্ব হলো শিশুকে নিরাপদে রাখা, পর্যাপ্ত তরল এবং পুষ্টি নিশ্চিত করা এবং প্রয়োজন হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া।

প্রথমেই শিশুর অসুস্থতার লক্ষণ পর্যবেক্ষণ করা জরুরি। জ্বর কতক্ষণ ধরে আছে, শিশুর শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে কি না, প্রস্রাব স্বাভাবিক হচ্ছে কি না, বারবার বমি বা পাতলা পায়খানা হচ্ছে কি না- এইসব বিষয় খেয়াল করতে হবে। শিশুর বয়সও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নবজাতক এবং খুব ছোট শিশুর ক্ষেত্রে সামান্য অসুস্থতাও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন।

অসুস্থ শিশুকে পর্যাপ্ত তরল দেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জ্বর, বমি কিংবা ডায়রিয়ার কারণে শরীর থেকে পানি এবং লবণ কমে যেতে পারে। শিশুর বয়স ও অবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বুকের দুধ, পানি কিংবা চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওরস্যালাইন দেওয়া যেতে পারে। ডায়রিয়ার ক্ষেত্রে বিশেষ করে পানিশূন্যতার লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ প্রয়োজন।

শিশু অসুস্থ হলে অনেক বাবা-মা জোর করে খাবার খাওয়ানোর চেষ্টা করেন। এটি সবসময় প্রয়োজনীয় নয়। শিশুর ক্ষুধা কমে গেলে অল্প অল্প করে সহজপাচ্য এবং পছন্দের পুষ্টিকর খাবার দেওয়া যেতে পারে। শিশুকে একবারে অনেক খাবার খাওয়ানোর পরিবর্তে কয়েকবার অল্প পরিমাণে খাবার দেওয়া অনেক ক্ষেত্রেই সুবিধাজনক।

শিশু বুকের দুধ পান করলে অসুস্থতার সময়ও সাধারণত বুকের দুধ চালিয়ে যাওয়া গুরুত্বপূর্ণ। বুকের দুধ শিশুকে তরল এবং পুষ্টি দেওয়ার পাশাপাশি রোগপ্রতিরোধে সহায়ক উপাদানও সরবরাহ করে।

বিশ্রামও গুরুত্বপূর্ণ। অসুস্থ অবস্থায় শিশুকে অতিরিক্ত খেলাধুলা কিংবা শারীরিক পরিশ্রমে বাধ্য না করে পর্যাপ্ত ঘুম এবং বিশ্রামের সুযোগ দিতে হবে। তবে শিশুর অবস্থা কিছুটা ভালো হলে বয়স অনুযায়ী স্বাভাবিক হালকা কর্মকাণ্ডে ধীরে ধীরে ফিরতে দেওয়া যেতে পারে।

ওষুধ দেওয়ার ক্ষেত্রেও বিশেষ সতর্কতা প্রয়োজন। বড়দের ওষুধ শিশুকে নিজের সিদ্ধান্তে দেওয়া উচিত নয়। শিশুর বয়স এবং ওজন অনুযায়ী ওষুধের মাত্রা আলাদা হতে পারে। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক শুরু করা বা আগের প্রেসক্রিপশনের ওষুধ নিজের মতো করে ব্যবহার করা ঝুঁকিপূর্ণ।

শিশুর শ্বাসকষ্ট, অস্বাভাবিক ঘুমঘুম ভাব কিংবা জ্ঞান হারানোর মতো অবস্থা, খিঁচুনি, তীব্র পানিশূন্যতা, ক্রমাগত বমি, রক্তপাত, তীব্র ব্যথা কিংবা দ্রুত অবনতিশীল অবস্থা দেখা দিলে ঘরোয়া চিকিৎসায় সময় নষ্ট না করে দ্রুত চিকিৎসা নিতে হবে।

অসুস্থ শিশুর চারপাশ পরিষ্কার রাখা এবং পরিবারের অন্য সদস্যদের হাত পরিষ্কার রাখাও জরুরি। সংক্রমণ ছড়ানোর সম্ভাবনা থাকলে শিশুর ব্যবহার করা কাপড়, তোয়ালে কিংবা খাবারের পাত্র আলাদা রাখার প্রয়োজন হতে পারে।

আরেকটি বিষয় মনে রাখা জরুরি- শিশুকে সুস্থ রাখার সবচেয়ে কার্যকর উপায় শুধু অসুস্থ হওয়ার পর যত্ন নেওয়া নয়। নিয়মিত টিকাদান, পুষ্টিকর খাবার, পর্যাপ্ত ঘুম, পরিচ্ছন্নতা ও বয়স অনুযায়ী শারীরিক সক্রিয়তা শিশুর সামগ্রিক স্বাস্থ্যের ভিত্তি তৈরি করে।

তাই শিশুর অসুস্থতার সময় অতিরিক্ত ভয় না পেয়ে লক্ষণ পর্যবেক্ষণ, পর্যাপ্ত তরল, পুষ্টিকর খাবার, বিশ্রাম এবং প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে। শিশুর অবস্থা নিয়ে সন্দেহ থাকলে নিজে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরিবর্তে শিশু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়াই হবে নিরাপদ।

>>>>>>>>>>>>>>

ডেঙ্গু প্রতিরোধ করবেন যেভাবে

মশা বাহিত একপ্রকার ভাইরাস জ্বর হলো ডেঙ্গু। এই জ্বর অন্যান্য ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়াজনিত জ্বর থেকে ভিন্ন। অবশ্য এই জ্বর কোনোভাবেই ছোঁয়াচে নয়। এই ভাইরাস জ্বর এককভাবে বা অন্যান্য ভাইরাস (চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, বার্মা ফরেস্ট, ফ্লু, রেসপাইরেটরি সিনসাইটিয়াল) এবং ব্যাকটেরিয়া (নিউমোক্কাস)-এর সঙ্গেও হতে পারে।

লক্ষণ ও জ্বরের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গুজ্বরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে-

১. সাধারণ ডেঙ্গুজ্বর।

২. রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বর।

সাধারণ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে চোখে পড়ে মূলত নিচের এই লক্ষণগুলো-

১. হঠাৎ করে তীব্র জ্বর ও তা ২ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হওয়া।

২. তীব্র মাথাব্যথা হওয়া।

৩. চোখের পেছনের অংশে ব্যথা হওয়া।

৪. জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি চোখে পড়া।

৫. সম্পূর্ণ শরীরে তীব্র ব্যথা ও সেইসঙ্গে কোমরে ব্যথা।

৬. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।

৭. ত্বকে র‌্যাশ বা লাল দানা দানা দেখা দেওয়া।

রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে :

১. ২ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তীব্র জ্বর সঙ্গে নাক, মুখ বা বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া।

২. জ্বরের পাশাপাশি বুকে বা পেটে পানি জমে যাওয়া।

এইসব লক্ষণের যে কোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।

অপরদিকে

জ্বরের প্রথম ৩ দিন বাড়িতে অপেক্ষা করুন। অপরদিকে সারা শরীর পানি দিয়ে স্পঞ্জ করুন কিছুক্ষণ পরপর। এতে করে জ্বরের মাত্রা কমে আসবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান ও বিশ্রাম নিতে হবে। এরপরেও জ্বর না কমলে বা কিছু সময় পরপর বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়:

১. বাড়ির আশপাশ যতোটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করুন।

২. ঘরের ভেতরে থাকা ফুলের টব বা ভাঙা প্লাস্টিকের বোতল, ডাবের খোসা, টায়ার অথবা পলিথিন থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলুন ও ফুলের টব থেকে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করুন।

৩. মশা নিধনের জন্য সপ্তাহে অন্তত ৩ বার স্প্রে বা ফগিং করুন।

৪. বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় মশা নিধনে ব্যবহৃত ক্রিম সঙ্গে রাখতে পারেন।

৫. সন্ধ্যার পর বাড়ির ছোট থেকে বড় সদস্যরা মশারি ব্যবহার করুন।

৬. যেখানে-সেখানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি পরিষ্কার করে ফেলুন, কারণ এতে এডিস মশা ডিম পেড়ে থাকে এই সময়।

৭. অপরদিকে মশার প্রকোপ থেকে বাঁচতে মশারির সঙ্গে সঙ্গে ম্যাট ব্যবহার করতে পারেন।

৮. এডিস মশা যেহেতু দিনের বেলা কামড়ায় তাই দিনের বেলায় ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টানিয়ে ঘুমানোর দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সূত্র: https://dmpnews.org

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো
Loading...
bn_BDBengali