The Dhaka Times
তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে রাখার প্রত্যয়ে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সামাজিক ম্যাগাজিন।

চোখ ভালো রাখতে কি কি খাবার পাতে রাখতে হবে

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ চোখ আমাদের শরীরের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অঙ্গ, যার মাধ্যমে আমরা চারপাশের পৃথিবী দেখি। কিন্তু আধুনিক জীবনে দীর্ঘক্ষণ মোবাইল, কম্পিউটার ব্যবহার, অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস এবং পর্যাপ্ত পুষ্টির অভাবে চোখের সমস্যা বাড়ছে। তাই চোখ ভালো রাখতে সঠিক খাদ্যাভ্যাস অনুসরণ করা অত্যন্ত জরুরি।

চোখ ভালো রাখতে কি কি খাবার পাতে রাখতে হবে 1

বলা যায়, ভিটামিন এ সমৃদ্ধ খাবার চোখের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ভিটামিন এ চোখের রেটিনাকে সুস্থ রাখে এবং রাতকানা রোগ প্রতিরোধ করে। গাজর, মিষ্টি কুমড়া, পালং শাক, পেঁপে এবং ডিমের কুসুম ভিটামিন এ-এর ভালো উৎস। নিয়মিত এসব খাবার খেলে দৃষ্টিশক্তি ভালো থাকে।

ভিটামিন সি এবং ভিটামিন ই চোখের কোষকে ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করে। কমলা, লেবু, আমলকি, পেয়ারা, বাদাম ও সূর্যমুখী বীজ এই ভিটামিনগুলো সরবরাহ করে। এগুলো চোখের বয়সজনিত সমস্যা কমাতেও সাহায্য করে।

ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড চোখের শুষ্কতা কমায় এবং দৃষ্টিশক্তি উন্নত করে। সামুদ্রিক মাছ যেমন ইলিশ, স্যামন, টুনা, পাশাপাশি আখরোট ও ফ্ল্যাক্সসিড ওমেগা-৩ এর ভালো উৎস। নিয়মিত এসব খাবার গ্রহণ করলে চোখের স্নায়ু শক্তিশালী থাকে।

লুটেইন ও জিয়াজ্যান্থিন সমৃদ্ধ খাবার চোখের জন্য খুব উপকারী। এগুলো চোখকে আলোর ক্ষতি থেকে রক্ষা করে এবং দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখতে সাহায্য করে। পালং শাক, ব্রকলি, করলা এবং সবুজ শাকসবজিতে এসব উপাদান পাওয়া যায়।

পর্যাপ্ত পানি পান করাও চোখের জন্য জরুরি। পানি শরীরকে হাইড্রেট রাখে এবং চোখের শুষ্কতা কমায়। অনেক সময় পানি কম পান করার কারণে চোখ জ্বালা বা অস্বস্তি দেখা দিতে পারে।

এ ছাড়াও দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার যেমন দই ও পনির চোখের জন্য উপকারী। এগুলোতে ভিটামিন এ ও জিঙ্ক থাকে, যা চোখের টিস্যু মেরামতে সাহায্য করে।

অন্যদিকে, অতিরিক্ত জাঙ্ক ফুড, অতিরিক্ত চিনি ও প্রক্রিয়াজাত খাবার এড়িয়ে চলা উচিত। এগুলো চোখের রক্তনালীতে ক্ষতি করতে পারে এবং দীর্ঘমেয়াদে দৃষ্টিশক্তি কমিয়ে দিতে পারে।

চোখের একটি সাধারণ সমস্যা হলো চোখের শুষ্কতা, যা কম্পিউটার বা মোবাইল দীর্ঘক্ষণ ব্যবহারের পাশাপাশি পুষ্টির অভাবেও হতে পারে। সঠিক খাদ্যাভ্যাস এই সমস্যার ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে।

চোখ ভালো রাখতে শুধু ভালো দৃষ্টিশক্তির জন্য নয়, বরং সামগ্রিক সুস্থতার জন্যও সুষম খাদ্য গ্রহণ জরুরি। প্রতিদিনের খাবারে ভিটামিন এ, সি, ই, ওমেগা-৩ এবং পর্যাপ্ত পানি অন্তর্ভুক্ত করলে চোখ দীর্ঘদিন সুস্থ ও সতেজ রাখা সম্ভব।

>>>>>>>>>>>>>>

ডেঙ্গু প্রতিরোধ করবেন যেভাবে

মশা বাহিত একপ্রকার ভাইরাস জ্বর হলো ডেঙ্গু। এই জ্বর অন্যান্য ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়াজনিত জ্বর থেকে ভিন্ন। অবশ্য এই জ্বর কোনোভাবেই ছোঁয়াচে নয়। এই ভাইরাস জ্বর এককভাবে বা অন্যান্য ভাইরাস (চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, বার্মা ফরেস্ট, ফ্লু, রেসপাইরেটরি সিনসাইটিয়াল) এবং ব্যাকটেরিয়া (নিউমোক্কাস)-এর সঙ্গেও হতে পারে।

লক্ষণ ও জ্বরের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গুজ্বরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে-

১. সাধারণ ডেঙ্গুজ্বর।

২. রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বর।

সাধারণ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে চোখে পড়ে মূলত নিচের এই লক্ষণগুলো-

১. হঠাৎ করে তীব্র জ্বর ও তা ২ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হওয়া।

২. তীব্র মাথাব্যথা হওয়া।

৩. চোখের পেছনের অংশে ব্যথা হওয়া।

৪. জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি চোখে পড়া।

৫. সম্পূর্ণ শরীরে তীব্র ব্যথা ও সেইসঙ্গে কোমরে ব্যথা।

৬. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।

৭. ত্বকে র‌্যাশ বা লাল দানা দানা দেখা দেওয়া।

রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে :

১. ২ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তীব্র জ্বর সঙ্গে নাক, মুখ বা বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া।

২. জ্বরের পাশাপাশি বুকে বা পেটে পানি জমে যাওয়া।

এইসব লক্ষণের যে কোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।

অপরদিকে

জ্বরের প্রথম ৩ দিন বাড়িতে অপেক্ষা করুন। অপরদিকে সারা শরীর পানি দিয়ে স্পঞ্জ করুন কিছুক্ষণ পরপর। এতে করে জ্বরের মাত্রা কমে আসবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান ও বিশ্রাম নিতে হবে। এরপরেও জ্বর না কমলে বা কিছু সময় পরপর বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়:

১. বাড়ির আশপাশ যতোটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করুন।

২. ঘরের ভেতরে থাকা ফুলের টব বা ভাঙা প্লাস্টিকের বোতল, ডাবের খোসা, টায়ার অথবা পলিথিন থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলুন ও ফুলের টব থেকে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করুন।

৩. মশা নিধনের জন্য সপ্তাহে অন্তত ৩ বার স্প্রে বা ফগিং করুন।

৪. বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় মশা নিধনে ব্যবহৃত ক্রিম সঙ্গে রাখতে পারেন।

৫. সন্ধ্যার পর বাড়ির ছোট থেকে বড় সদস্যরা মশারি ব্যবহার করুন।

৬. যেখানে-সেখানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি পরিষ্কার করে ফেলুন, কারণ এতে এডিস মশা ডিম পেড়ে থাকে এই সময়।

৭. অপরদিকে মশার প্রকোপ থেকে বাঁচতে মশারির সঙ্গে সঙ্গে ম্যাট ব্যবহার করতে পারেন।

৮. এডিস মশা যেহেতু দিনের বেলা কামড়ায় তাই দিনের বেলায় ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টানিয়ে ঘুমানোর দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সূত্র: https://dmpnews.org

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো
Loading...
bn_BDBengali