দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ সুস্থ থাকার জন্য সঠিক খাবারের পাশাপাশি খাবার খাওয়ার সময়ও গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে রাতের খাবার কখন খাওয়া উচিত, তা নিয়ে অনেকেরই প্রশ্ন থাকে।

অনেকেই ঘুমানোর ঠিক আগে রাতের খাবার খেয়ে থাকেন, আবার কেও কেও দীর্ঘ সময় না খেয়ে ঘুমাতে যান। চিকিৎসক ও পুষ্টিবিদদের মতে, ঘুমানোর অন্তত ২ থেকে ৩ ঘণ্টা আগে রাতের খাবার খাওয়া সবচেয়ে ভালো। এতে খাবার হজম হওয়ার জন্য শরীর পর্যাপ্ত সময় পায় এবং ঘুমও ভালো হয়।
ঘুমানোর ঠিক আগে ভারী খাবার খেলে শরীরের হজম প্রক্রিয়া ব্যাহত হতে পারে। কারণ ঘুমের সময় শরীরের বিপাকক্রিয়া ধীর হয়ে যায়। ফলে খাবার পুরোপুরি হজম হতে সময় লাগে এবং পেটে অস্বস্তি, গ্যাস, বুকজ্বালা কিংবা অ্যাসিডিটির সমস্যা দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে তেল-চর্বিযুক্ত বা অতিরিক্ত মসলাযুক্ত খাবার রাতে দেরিতে খেলে এই সমস্যা আরও বাড়তে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, রাতের খাবার খাওয়ার আদর্শ সময় হলো সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত ৯টার মধ্যে। তবে এটি একজন মানুষের জীবনযাপন ও ঘুমের সময়ের ওপরও নির্ভর করে। যদি কেউ রাত ১০টায় ঘুমাতে যান, তাহলে তার উচিত অন্তত রাত ৭টা বা ৮টার মধ্যে খাবার শেষ করা। আবার যারা একটু দেরিতে ঘুমান, তারা ঘুমানোর ২–৩ ঘণ্টা আগে রাতের খাবার খেতে পারেন।
রাতে সঠিক সময়ে খাবার খাওয়ার আরেকটি বড় উপকার হলো এটি ওজন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। অনেক গবেষণায় দেখা গেছে, রাত জেগে দেরিতে খাবার খাওয়ার অভ্যাস শরীরে অতিরিক্ত চর্বি জমাতে পারে। কারণ রাতে শরীর কম সক্রিয় থাকে এবং অতিরিক্ত ক্যালরি সহজে পোড়াতে পারে না। ফলে ধীরে ধীরে ওজন বেড়ে যেতে পারে।
ভালো ঘুমের জন্যও খাবারের সময় গুরুত্বপূর্ণ। ঘুমানোর ঠিক আগে বেশি খেলে অনেক সময় অস্বস্তি হয় এবং গভীর ঘুম ব্যাহত হতে পারে। আবার দীর্ঘ সময় খালি পেটে থাকলেও ঘুমে সমস্যা হতে পারে। তাই রাতের খাবার পরিমিত হওয়া উচিত এবং ঘুমের আগে খুব বেশি ক্ষুধা লাগলে হালকা কিছু খাওয়া যেতে পারে, যেমন ফল, দুধ বা বাদাম।
রাতের খাবারে অতিরিক্ত ভাজাপোড়া, কোমল পানীয় বা ক্যাফেইনযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলা ভালো। কারণ এগুলো ঘুমের সমস্যা তৈরি করতে পারে। এছাড়া খাবার খাওয়ার পর কিছুক্ষণ হালকা হাঁটাহাঁটি করলে হজম ভালো হয় এবং শরীরও স্বস্তি পায়।
তবে সবার শরীর একরকম নয়। কারও হজমশক্তি দ্রুত, আবার কারও ধীর। তাই ব্যক্তিভেদে সামান্য পার্থক্য থাকতে পারে। যাদের ডায়াবেটিস, গ্যাস্ট্রিক বা অন্য কোনো শারীরিক সমস্যা রয়েছে, তাদের চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী খাদ্যাভ্যাস ঠিক করা উচিত।
সুস্থ জীবনযাপনের জন্য শুধু কী খাচ্ছেন তা নয়, কখন খাচ্ছেন সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। তাই ভালো ঘুম ও সুস্থ শরীরের জন্য ঘুমানোর অন্তত ২ থেকে ৩ ঘণ্টা আগে রাতের খাবার খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা উচিত।
>>>>>>>>>>>>>>
ডেঙ্গু প্রতিরোধ করবেন যেভাবে
মশা বাহিত একপ্রকার ভাইরাস জ্বর হলো ডেঙ্গু। এই জ্বর অন্যান্য ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়াজনিত জ্বর থেকে ভিন্ন। অবশ্য এই জ্বর কোনোভাবেই ছোঁয়াচে নয়। এই ভাইরাস জ্বর এককভাবে বা অন্যান্য ভাইরাস (চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, বার্মা ফরেস্ট, ফ্লু, রেসপাইরেটরি সিনসাইটিয়াল) এবং ব্যাকটেরিয়া (নিউমোক্কাস)-এর সঙ্গেও হতে পারে।
লক্ষণ ও জ্বরের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গুজ্বরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে-
১. সাধারণ ডেঙ্গুজ্বর।
২. রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বর।
সাধারণ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে চোখে পড়ে মূলত নিচের এই লক্ষণগুলো-
১. হঠাৎ করে তীব্র জ্বর ও তা ২ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হওয়া।
২. তীব্র মাথাব্যথা হওয়া।
৩. চোখের পেছনের অংশে ব্যথা হওয়া।
৪. জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি চোখে পড়া।
৫. সম্পূর্ণ শরীরে তীব্র ব্যথা ও সেইসঙ্গে কোমরে ব্যথা।
৬. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।
৭. ত্বকে র্যাশ বা লাল দানা দানা দেখা দেওয়া।
রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে :
১. ২ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তীব্র জ্বর সঙ্গে নাক, মুখ বা বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া।
২. জ্বরের পাশাপাশি বুকে বা পেটে পানি জমে যাওয়া।
এইসব লক্ষণের যে কোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।
অপরদিকে
জ্বরের প্রথম ৩ দিন বাড়িতে অপেক্ষা করুন। অপরদিকে সারা শরীর পানি দিয়ে স্পঞ্জ করুন কিছুক্ষণ পরপর। এতে করে জ্বরের মাত্রা কমে আসবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান ও বিশ্রাম নিতে হবে। এরপরেও জ্বর না কমলে বা কিছু সময় পরপর বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়:
১. বাড়ির আশপাশ যতোটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করুন।
২. ঘরের ভেতরে থাকা ফুলের টব বা ভাঙা প্লাস্টিকের বোতল, ডাবের খোসা, টায়ার অথবা পলিথিন থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলুন ও ফুলের টব থেকে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করুন।
৩. মশা নিধনের জন্য সপ্তাহে অন্তত ৩ বার স্প্রে বা ফগিং করুন।
৪. বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় মশা নিধনে ব্যবহৃত ক্রিম সঙ্গে রাখতে পারেন।
৫. সন্ধ্যার পর বাড়ির ছোট থেকে বড় সদস্যরা মশারি ব্যবহার করুন।
৬. যেখানে-সেখানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি পরিষ্কার করে ফেলুন, কারণ এতে এডিস মশা ডিম পেড়ে থাকে এই সময়।
৭. অপরদিকে মশার প্রকোপ থেকে বাঁচতে মশারির সঙ্গে সঙ্গে ম্যাট ব্যবহার করতে পারেন।
৮. এডিস মশা যেহেতু দিনের বেলা কামড়ায় তাই দিনের বেলায় ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টানিয়ে ঘুমানোর দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সূত্র: https://dmpnews.org