দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ শরীরের সুস্থতা বজায় রাখতে ক্যালসিয়াম একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ খনিজ উপাদান। এটি হাড় ও দাঁত মজবুত রাখার পাশাপাশি পেশী সংকোচন, স্নায়ুর কার্যক্রম এবং হৃদযন্ত্রের সঠিক কাজের জন্য অপরিহার্য।

ক্যালসিয়ামের ঘাটতি হলে হাড় দুর্বল হয়ে যেতে পারে এবং অস্টিওপরোসিসের মতো সমস্যার ঝুঁকি বাড়ে। তাই দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় ক্যালসিয়ামসমৃদ্ধ খাবার অন্তর্ভুক্ত করা অত্যন্ত জরুরি।
দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার ক্যালসিয়ামের সবচেয়ে ভালো উৎস। দুধ, দই, পনির (চিজ) ইত্যাদিতে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম থাকে। প্রতিদিন এক গ্লাস দুধ পান করলে শরীরের ক্যালসিয়ামের চাহিদার একটি বড় অংশ পূরণ হয়। শিশু, কিশোর-কিশোরী এবং বৃদ্ধদের জন্য এসব খাবার বিশেষভাবে উপকারী।
সবুজ শাকসবজি ক্যালসিয়ামের একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস। বিশেষ করে পালং শাক, কলমি শাক, লাল শাক এবং ব্রকলিতে প্রচুর ক্যালসিয়াম পাওয়া যায়। এসব শাকসবজি শুধু ক্যালসিয়ামই নয়, বরং অন্যান্য ভিটামিন ও খনিজ উপাদানও সরবরাহ করে, যা শরীরের সামগ্রিক সুস্থতায় সহায়তা করে।
মাছ ক্যালসিয়ামের ভালো উৎস হিসেবে বিবেচিত হয়, বিশেষ করে ছোট মাছ যেমন- মলা, শিং, কাচকি ইত্যাদি। এসব মাছ হাড়সহ খাওয়া যায়, ফলে এতে থাকা ক্যালসিয়াম সহজেই শরীরে শোষিত হয়। নিয়মিত মাছ খাওয়ার অভ্যাস হাড়ের শক্তি বাড়াতে সহায়ক।
বাদাম ও বীজজাতীয় খাবারেও ক্যালসিয়াম থাকে। যেমন- কাঠবাদাম, তিল (সেসাম সিড), চিয়া সিড ইত্যাদি। এগুলো শুধু ক্যালসিয়ামই নয়, স্বাস্থ্যকর চর্বি ও প্রোটিনও সরবরাহ করে। প্রতিদিন অল্প পরিমাণ বাদাম খাওয়া শরীরের জন্য উপকারী।
ডাল ও শস্যজাতীয় খাবারও ক্যালসিয়ামের উৎস। ছোলা, মসুর ডাল, সয়াবিন এবং বিভিন্ন ধরনের শস্যে ক্যালসিয়াম পাওয়া যায়। এগুলো সহজলভ্য এবং নিয়মিত খাদ্যতালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা যায়।
এ ছাড়াও, কিছু ফল যেমন- কমলা, ডুমুর এবং খেজুরেও সামান্য পরিমাণ ক্যালসিয়াম থাকে, যা শরীরের প্রয়োজন মেটাতে সহায়ক। পাশাপাশি, ক্যালসিয়াম শোষণের জন্য ভিটামিন ডি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই সূর্যালোক গ্রহণ এবং ভিটামিন ডি সমৃদ্ধ খাবার খাওয়াও প্রয়োজন।
শরীরের ক্যালসিয়ামের ঘাটতি পূরণ করতে হলে সুষম ও বৈচিত্র্যময় খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। দুধ, শাকসবজি, মাছ, বাদাম ও ডাল নিয়মিত খেলে সহজেই ক্যালসিয়ামের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব। সচেতন খাদ্যাভ্যাসই পারে আমাদের হাড়কে শক্তিশালী ও শরীরকে সুস্থ রাখতে।
>>>>>>>>>>>>>>
ডেঙ্গু প্রতিরোধ করবেন যেভাবে
মশা বাহিত একপ্রকার ভাইরাস জ্বর হলো ডেঙ্গু। এই জ্বর অন্যান্য ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়াজনিত জ্বর থেকে ভিন্ন। অবশ্য এই জ্বর কোনোভাবেই ছোঁয়াচে নয়। এই ভাইরাস জ্বর এককভাবে বা অন্যান্য ভাইরাস (চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, বার্মা ফরেস্ট, ফ্লু, রেসপাইরেটরি সিনসাইটিয়াল) এবং ব্যাকটেরিয়া (নিউমোক্কাস)-এর সঙ্গেও হতে পারে।
লক্ষণ ও জ্বরের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গুজ্বরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে-
১. সাধারণ ডেঙ্গুজ্বর।
২. রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বর।
সাধারণ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে চোখে পড়ে মূলত নিচের এই লক্ষণগুলো-
১. হঠাৎ করে তীব্র জ্বর ও তা ২ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হওয়া।
২. তীব্র মাথাব্যথা হওয়া।
৩. চোখের পেছনের অংশে ব্যথা হওয়া।
৪. জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি চোখে পড়া।
৫. সম্পূর্ণ শরীরে তীব্র ব্যথা ও সেইসঙ্গে কোমরে ব্যথা।
৬. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।
৭. ত্বকে র্যাশ বা লাল দানা দানা দেখা দেওয়া।
রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে :
১. ২ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তীব্র জ্বর সঙ্গে নাক, মুখ বা বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া।
২. জ্বরের পাশাপাশি বুকে বা পেটে পানি জমে যাওয়া।
এইসব লক্ষণের যে কোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।
অপরদিকে
জ্বরের প্রথম ৩ দিন বাড়িতে অপেক্ষা করুন। অপরদিকে সারা শরীর পানি দিয়ে স্পঞ্জ করুন কিছুক্ষণ পরপর। এতে করে জ্বরের মাত্রা কমে আসবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান ও বিশ্রাম নিতে হবে। এরপরেও জ্বর না কমলে বা কিছু সময় পরপর বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়:
১. বাড়ির আশপাশ যতোটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করুন।
২. ঘরের ভেতরে থাকা ফুলের টব বা ভাঙা প্লাস্টিকের বোতল, ডাবের খোসা, টায়ার অথবা পলিথিন থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলুন ও ফুলের টব থেকে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করুন।
৩. মশা নিধনের জন্য সপ্তাহে অন্তত ৩ বার স্প্রে বা ফগিং করুন।
৪. বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় মশা নিধনে ব্যবহৃত ক্রিম সঙ্গে রাখতে পারেন।
৫. সন্ধ্যার পর বাড়ির ছোট থেকে বড় সদস্যরা মশারি ব্যবহার করুন।
৬. যেখানে-সেখানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি পরিষ্কার করে ফেলুন, কারণ এতে এডিস মশা ডিম পেড়ে থাকে এই সময়।
৭. অপরদিকে মশার প্রকোপ থেকে বাঁচতে মশারির সঙ্গে সঙ্গে ম্যাট ব্যবহার করতে পারেন।
৮. এডিস মশা যেহেতু দিনের বেলা কামড়ায় তাই দিনের বেলায় ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টানিয়ে ঘুমানোর দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সূত্র: https://dmpnews.org