দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ টানা ষষ্ঠবারের মতো বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিত (স্টেম) বিষয়ে নারীদের জন্য সম্পূর্ণ অর্থায়িত বৃত্তি দিচ্ছে ব্রিটিশ কাউন্সিল। ‘উইমেন ইন স্টেম’ শীর্ষক এই বৃত্তি কর্মসূচি ব্রিটিশ কাউন্সিলের ‘গোয়িং গ্লোবাল পার্টনারশিপস’ উদ্যোগের অংশ।

এই কর্মসূচির আওতায় নারী শিক্ষার্থীরা যুক্তরাজ্যের শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানে স্টেম–সংশ্লিষ্ট বিষয়ে এক বছর মেয়াদি মাস্টার্স (স্নাতকোত্তর) ডিগ্রি করার সুযোগ পাবেন।
বিজ্ঞান ও উদ্ভাবনে নারীদের জন্য সুযোগ বৃদ্ধি করা এবং স্টেম খাতে আরও বৈচিত্র্যময় ও লিঙ্গ-প্রতিনিধিত্বমূলক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করাই এ উদ্যোগের লক্ষ্য। এখন পর্যন্ত যুক্তরাজ্যের ৪৩টি শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয় এ কর্মসূচিতে যুক্ত হয়েছে এবং প্রায় ৫০০ জন এ সম্মানজনক বৃত্তি পেয়েছেন।
২০২৬–২৭ শিক্ষাবর্ষে প্রতিটি স্কলারশিপের ন্যূনতম আর্থিক মূল্য ৪০ হাজার পাউন্ড। সম্পূর্ণ অর্থায়নের আওতায় টিউশন ফি, থাকা-খাওয়ার ভাতা, ভ্রমণ ও ভিসা ব্যয়, স্বাস্থ্যসেবা ফি এবং ইংরেজি ভাষা সহায়তা অন্তর্ভুক্ত থাকবে। নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা যুক্তরাজ্যের বিশ্বমানের বিজ্ঞান ও গবেষণা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পড়াশোনার সুযোগ পাবেন। পাশাপাশি স্টেম খাতের বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে যোগাযোগ গড়ে তোলা এবং যুক্তরাজ্যের বৈশ্বিক অ্যালামনাই নেটওয়ার্কে যুক্ত হওয়ার সুযোগও থাকবে।
এই বছর বিশ্বব্যাপী মোট ৯০টি বৃত্তি দেওয়া হবে, যেখানে ৩০টি দেশের শিক্ষার্থীরা আবেদন করতে পারবেন। দক্ষিণ এশিয়ার জন্য বরাদ্দ ২৫টি বৃত্তির আওতায় এ অঞ্চলের শিক্ষার্থীরা যুক্তরাজ্যের পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পাবেন।
এ সম্পর্কে ব্রিটিশ কাউন্সিলের গ্লোবাল হেড অব এনাবলিং রিসার্চ অ্যান্ড সায়েন্স ড. জেন বার্ডসলি বলেন, “২০২৬–২৭ শিক্ষাবর্ষে উইমেন ইন স্টেম স্কলারশিপ কর্মসূচি চালিয়ে যেতে পেরে আমরা আনন্দিত। এই উদ্যোগ স্টেম খাতে নারীদের ক্যারিয়ার গড়ার পথে থাকা প্রতিবন্ধকতা দূর করতে সহায়তা করছে এবং বিজ্ঞানে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক ও বৈচিত্র্যময় কণ্ঠস্বর তৈরি করছে। এর ফলে বিজ্ঞান খাত আরও সমৃদ্ধ হবে এবং সবার জন্য ইতিবাচক ফলাফল নিয়ে আসবে।”
ব্রিটিশ কাউন্সিল বাংলাদেশ-এর হেড অব এডুকেশন তৌফিক হাসান বলেন, “বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিত ক্ষেত্রে নারী-পুরুষের বৈষম্য দূর করতে মেধা, সুযোগ এবং নেতৃত্বে ধারাবাহিক বিনিয়োগ প্রয়োজন। যুক্তরাজ্যের বিশ্বমানের গবেষণা ও উদ্ভাবনী জগতের সাথে উদীয়মান নারী নেত্রীদের যুক্ত করার মাধ্যমে বাংলাদেশে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও ভবিষ্যৎ-উপযোগী স্টেম পরিবেশ গড়ে তুলতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ব্রিটিশ কাউন্সিলের ‘উইমেন ইন স্টেম’স্কলারশিপ আমাদের সেই প্রতিশ্রুতিরই প্রতিফলন।”
বাংলাদেশের স্টেম স্কলার সাদিয়া জামান বলেন,“ব্রিটিশ কাউন্সিলের ‘উইমেন ইন স্টেম’ স্কলার হিসেবে আমার অভিজ্ঞতা সত্যিই জীবন বদলে দেওয়ার মতো। এতে আমার গবেষণার দক্ষতা ও নারীবাদী চর্চা আরও শক্তিশালী হয়েছে। পাশাপাশি নীতিনির্ধারণী আলোচনায় অংশ নেওয়ার আত্মবিশ্বাস পেয়েছি এবং স্টেম খাতে আগ্রহী অন্য নারীদের অনুপ্রাণিত করতে পেরেছি।”
স্টেম বৃত্তি সম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্য, যোগ্য দেশের তালিকা এবং এই কর্মসূচির আওতাভুক্ত যুক্তরাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর তালিকা জানতে ব্রিটিশ কাউন্সিলের গ্লোবাল ওয়েবসাইটে ভিজিট করা যাবে। বাংলাদেশে উপলব্ধ বৃত্তির বিস্তারিত জানতে ভিজিট করতে হবে ব্রিটিশ কাউন্সিল বাংলাদেশের ওয়েবসাইট। উল্লেখ্য, ‘ব্রিটিশ কাউন্সিল স্কলারশিপ ফর উইমেন ইন স্টেম’-এর জন্য আগামী ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত আবেদন করা যাবে।
খবর সংবাদ বিজ্ঞপ্তির।
>>>>>>>>>>>>>>
ডেঙ্গু প্রতিরোধ করবেন যেভাবে
মশা বাহিত একপ্রকার ভাইরাস জ্বর হলো ডেঙ্গু। এই জ্বর অন্যান্য ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়াজনিত জ্বর থেকে ভিন্ন। অবশ্য এই জ্বর কোনোভাবেই ছোঁয়াচে নয়। এই ভাইরাস জ্বর এককভাবে বা অন্যান্য ভাইরাস (চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, বার্মা ফরেস্ট, ফ্লু, রেসপাইরেটরি সিনসাইটিয়াল) এবং ব্যাকটেরিয়া (নিউমোক্কাস)-এর সঙ্গেও হতে পারে।
লক্ষণ ও জ্বরের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গুজ্বরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে-
১. সাধারণ ডেঙ্গুজ্বর।
২. রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বর।
সাধারণ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে চোখে পড়ে মূলত নিচের এই লক্ষণগুলো-
১. হঠাৎ করে তীব্র জ্বর ও তা ২ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হওয়া।
২. তীব্র মাথাব্যথা হওয়া।
৩. চোখের পেছনের অংশে ব্যথা হওয়া।
৪. জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি চোখে পড়া।
৫. সম্পূর্ণ শরীরে তীব্র ব্যথা ও সেইসঙ্গে কোমরে ব্যথা।
৬. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।
৭. ত্বকে র্যাশ বা লাল দানা দানা দেখা দেওয়া।
রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে :
১. ২ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তীব্র জ্বর সঙ্গে নাক, মুখ বা বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া।
২. জ্বরের পাশাপাশি বুকে বা পেটে পানি জমে যাওয়া।
এইসব লক্ষণের যে কোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।
অপরদিকে
জ্বরের প্রথম ৩ দিন বাড়িতে অপেক্ষা করুন। অপরদিকে সারা শরীর পানি দিয়ে স্পঞ্জ করুন কিছুক্ষণ পরপর। এতে করে জ্বরের মাত্রা কমে আসবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান ও বিশ্রাম নিতে হবে। এরপরেও জ্বর না কমলে বা কিছু সময় পরপর বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়:
১. বাড়ির আশপাশ যতোটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করুন।
২. ঘরের ভেতরে থাকা ফুলের টব বা ভাঙা প্লাস্টিকের বোতল, ডাবের খোসা, টায়ার অথবা পলিথিন থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলুন ও ফুলের টব থেকে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করুন।
৩. মশা নিধনের জন্য সপ্তাহে অন্তত ৩ বার স্প্রে বা ফগিং করুন।
৪. বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় মশা নিধনে ব্যবহৃত ক্রিম সঙ্গে রাখতে পারেন।
৫. সন্ধ্যার পর বাড়ির ছোট থেকে বড় সদস্যরা মশারি ব্যবহার করুন।
৬. যেখানে-সেখানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি পরিষ্কার করে ফেলুন, কারণ এতে এডিস মশা ডিম পেড়ে থাকে এই সময়।
৭. অপরদিকে মশার প্রকোপ থেকে বাঁচতে মশারির সঙ্গে সঙ্গে ম্যাট ব্যবহার করতে পারেন।
৮. এডিস মশা যেহেতু দিনের বেলা কামড়ায় তাই দিনের বেলায় ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টানিয়ে ঘুমানোর দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সূত্র: https://dmpnews.org