দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ যুবসমাজের নৈতিক অবক্ষয় রোধ ও সামাজিক শৃঙ্খলা রক্ষার দাবিতে প্রেমনির্ভর নাটক-সিনেমা নির্মাণ এবং সম্প্রচার বন্ধের জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট দফতরে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান মামুন।

নোটিশ পাঠানোর ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদ এবং ক্ষোভ জানিয়েছেন অভিনয়শিল্পী ও কলাকুশলীরা। এই তালিকাতে রয়েছেন ছোটপর্দার অভিনেত্রী শবনম ফারিয়া।
নোটিশের খবর প্রকাশের পরই তিনি লিখেছেন, ভাগ্যিস আমার প্রেমের নাটক করার মতো আর বয়স নাই! আমার কোনো টেনশনই নাই। এখন থেকে শুধুই পরকীয়ার নাটক হবে। অথবা এক স্বামীর চার স্ত্রী, তারা একসঙ্গে ঘুড়ে, খায় টিকটক করে এমন গল্প। কিংবা, চুরি, ডাকাতি, চাঁদাবাজি, হাইজ্যাকের গল্প, বা এখন থেকে শুধু ছেলেরাই নাটক করতে পারে।
মেয়েরা অভিনয় বাদ দিয়ে বাজার থেকে সি-ফুড কিনে রান্না করে সেটি টেবিলে ঢেলে দিবে। ওহ, ঘরে তো আবার গ্যাস নাই, তাহলে রান্না করবে কীভাবে। দুঃখিত- রান্নাও বাদ দেন। আরাম করেন।, টিভি দেখেন। ও সরি সরি, বিদ্যুও তো নাই তাহলে টিভি দেখবেন কেমনে? থাক, মোবাইলইটাই টিপেন। আমার মতো করে উল্টা পাল্টা স্টেটাস দেন। আচ্ছা, বেশি ফোন টিপলেও আবার চার্জ শেষ হয়ে যাবে। এদিকে আবার আমার মতো স্টেটাস দিলে কমেন্টও পাবেন।
তিনি আরও লিখেছেন যে, ‘লাল আপ্পি কেমন লাগছে এই নতুন স্বাধীনতা? অনেক ভেবে সমাধান বের করলাম। সব কিছু বাদ দিয়ে ঘর থেকে বের হোন, অটোরিকশায় করে ঘুরেন। এক্সিডেন্ট করে এমনিতেই মরে যাবেন। আপনার আর টেনশনের কিছুই নাই। টেনশন সবই আত্মীয় স্বজনদের। ছোট থেকে অনেক জ্বালায়েছে এরা, এখন বছর বছর কবরের চাঁদা দেখো।’
নোটিশে বলা হয়েছে, বর্তমান নাটক ও চলচ্চিত্রে মাত্রাতিরিক্ত প্রেম এবং রোমান্টিক কনটেন্টের আধিক্য দেখা যাচ্ছে। ফলে যুবসমাজ ও শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা ও ক্যারিয়ার থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। এ ছাড়াও এইসব কনটেন্টে পরকীয়া এবং বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ককে স্বাভাবিক করে তোলা হচ্ছে। যা সমাজের নৈতিক কাঠামোই ধ্বংস করছে।
সংবিধানের বিভিন্ন অনুচ্ছেদ তুলে ধরে নোটিশে বলা হয়েছে, সংবিধানের ২১(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আইন মানা ও শৃঙ্খলা রক্ষা প্রত্যেক নাগরিকেরই কর্তব্য। এ ছাড়াও সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বাকস্বাধীনতার ক্ষেত্রে শালীনতা ও নৈতিকতার বাধানিষেধ রয়েছে এবং ২৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী জাতীয় সংস্কৃতি রক্ষাও রাষ্ট্রের দায়িত্ব।
নোটিশে আরও জানানো হয়, প্রেমভিত্তিক কনটেন্ট বন্ধ করে এর পরিবর্তে বিজ্ঞান, শিক্ষা, ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধ এবং প্রতিরক্ষানির্ভর চলচ্চিত্র এবং নাটক নির্মাণে বাধ্যতামূলক নির্দেশনা দিতে হবে। আগামী ১০ দিনের মধ্যে এই বিষয়ে কার্যকর প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে জনস্বার্থে রিট পিটিশন দায়ের করা হবে।
>>>>>>>>>>>>>>
ডেঙ্গু প্রতিরোধ করবেন যেভাবে
মশা বাহিত একপ্রকার ভাইরাস জ্বর হলো ডেঙ্গু। এই জ্বর অন্যান্য ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়াজনিত জ্বর থেকে ভিন্ন। অবশ্য এই জ্বর কোনোভাবেই ছোঁয়াচে নয়। এই ভাইরাস জ্বর এককভাবে বা অন্যান্য ভাইরাস (চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, বার্মা ফরেস্ট, ফ্লু, রেসপাইরেটরি সিনসাইটিয়াল) এবং ব্যাকটেরিয়া (নিউমোক্কাস)-এর সঙ্গেও হতে পারে।
লক্ষণ ও জ্বরের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গুজ্বরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে-
১. সাধারণ ডেঙ্গুজ্বর।
২. রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বর।
সাধারণ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে চোখে পড়ে মূলত নিচের এই লক্ষণগুলো-
১. হঠাৎ করে তীব্র জ্বর ও তা ২ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হওয়া।
২. তীব্র মাথাব্যথা হওয়া।
৩. চোখের পেছনের অংশে ব্যথা হওয়া।
৪. জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি চোখে পড়া।
৫. সম্পূর্ণ শরীরে তীব্র ব্যথা ও সেইসঙ্গে কোমরে ব্যথা।
৬. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।
৭. ত্বকে র্যাশ বা লাল দানা দানা দেখা দেওয়া।
রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে :
১. ২ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তীব্র জ্বর সঙ্গে নাক, মুখ বা বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া।
২. জ্বরের পাশাপাশি বুকে বা পেটে পানি জমে যাওয়া।
এইসব লক্ষণের যে কোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।
অপরদিকে
জ্বরের প্রথম ৩ দিন বাড়িতে অপেক্ষা করুন। অপরদিকে সারা শরীর পানি দিয়ে স্পঞ্জ করুন কিছুক্ষণ পরপর। এতে করে জ্বরের মাত্রা কমে আসবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান ও বিশ্রাম নিতে হবে। এরপরেও জ্বর না কমলে বা কিছু সময় পরপর বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়:
১. বাড়ির আশপাশ যতোটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করুন।
২. ঘরের ভেতরে থাকা ফুলের টব বা ভাঙা প্লাস্টিকের বোতল, ডাবের খোসা, টায়ার অথবা পলিথিন থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলুন ও ফুলের টব থেকে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করুন।
৩. মশা নিধনের জন্য সপ্তাহে অন্তত ৩ বার স্প্রে বা ফগিং করুন।
৪. বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় মশা নিধনে ব্যবহৃত ক্রিম সঙ্গে রাখতে পারেন।
৫. সন্ধ্যার পর বাড়ির ছোট থেকে বড় সদস্যরা মশারি ব্যবহার করুন।
৬. যেখানে-সেখানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি পরিষ্কার করে ফেলুন, কারণ এতে এডিস মশা ডিম পেড়ে থাকে এই সময়।
৭. অপরদিকে মশার প্রকোপ থেকে বাঁচতে মশারির সঙ্গে সঙ্গে ম্যাট ব্যবহার করতে পারেন।
৮. এডিস মশা যেহেতু দিনের বেলা কামড়ায় তাই দিনের বেলায় ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টানিয়ে ঘুমানোর দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সূত্র: https://dmpnews.org