The Dhaka Times
তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে রাখার প্রত্যয়ে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সামাজিক ম্যাগাজিন।

দুধ থেকে তৈরি পনির, ঘোল, চিজ়, দই: খাবার হিসাবে সেরা কোনটি?

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ দুধ একটি পরিপূর্ণ খাদ্য হলেও দুধ থেকে তৈরি বিভিন্ন উপাদান- পনির, ঘোল, চিজ় এবং দই- আমাদের দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় আলাদা আলাদা গুরুত্ব বহন করে।

দুধ থেকে তৈরি পনির, ঘোল, চিজ়, দই: খাবার হিসাবে সেরা কোনটি? 1

তবে প্রশ্ন হলো, স্বাস্থ্যদৃষ্টিতে খাবার হিসেবে কোনটি সবচেয়ে ভালো? পুষ্টিবিদদের মতে, এর উত্তর একক নয়; বরং ব্যক্তির শারীরিক চাহিদা, বয়স এবং জীবনযাপনের ওপর সেটি নির্ভর করে।

প্রথমেই দইয়ের কথা বলা যায়। দইয়ে রয়েছে উপকারী প্রোবায়োটিক ব্যাকটেরিয়া, যা হজমশক্তি উন্নত করে এবং অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখে। নিয়মিত দই খেলে গ্যাস, বদহজম এবং কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা কমে। এছাড়া দই রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করে এবং ক্যালসিয়াম এবং প্রোটিনের ভালো উৎস হিসেবে হাড় মজবুত রাখে। কম চর্বিযুক্ত দই ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকা মানুষের জন্য বেশ উপকারী।

ঘোল হলো দই থেকে তৈরি একটি হালকা পানীয়। এতে ক্যালোরি এবং চর্বি কম হলেও প্রয়োজনীয় ইলেক্ট্রোলাইট ও প্রোবায়োটিক থাকে। গরমে শরীর ঠাণ্ডা রাখা, পানিশূন্যতা রোধ এবং হজমে সহায়তার জন্য ঘোল অত্যন্ত উপকারী। যারা গ্যাস্ট্রিক বা অম্বলের সমস্যায় ভোগেন, তাদের জন্য ঘোল নিরাপদ এবং আরামদায়ক পানীয় হিসেবে বিবেচিত হয়।

পনির, বিশেষ করে ছানা বা কটেজ চিজ, প্রোটিনসমৃদ্ধ একটি খাদ্য। এতে ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস থাকায় হাড় ও দাঁতের জন্য ভালো। যারা শারীরিক পরিশ্রম বা ব্যায়াম করেন, তাদের জন্য পনির শক্তির ভালো উৎস। তবে পনিরে চর্বির পরিমাণ তুলনামূলক বেশি হওয়ায় অতিরিক্ত খেলে ওজন বৃদ্ধি ও কোলেস্টেরলের ঝুঁকি বাড়তে পারে।

চিজ়ের পুষ্টিগুণও কম নয়। এতে রয়েছে উচ্চমাত্রার ক্যালসিয়াম, প্রোটিন ও ভিটামিন বি১২। হাড়ের গঠন এবং স্নায়ুতন্ত্রের জন্য এটি উপকারী। তবে প্রক্রিয়াজাত চিজ়ে সাধারণত লবণ ও স্যাচুরেটেড ফ্যাটের পরিমাণ বেশি থাকে, যা নিয়মিত বেশি খেলে হৃদ্‌স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

সব দিক বিবেচনায় পুষ্টিবিদরা মনে করেন, দৈনন্দিন খাবার হিসেবে দই এবং ঘোল সবচেয়ে নিরাপদ ও উপকারী। এগুলো হজমে সহায়ক, ক্যালোরি কম এবং নিয়মিত খাওয়ার জন্য উপযুক্ত। পনির এবং চিজ়ও উপকারী, তবে সেগুলো পরিমিত পরিমাণে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী গ্রহণ করাই স্বাস্থ্যসম্মত।

অতএব, দুধ থেকে তৈরি খাবারের মধ্যে “সেরা” বলতে একটিকে নির্দিষ্ট করা কঠিন। বরং শরীরের চাহিদা বুঝে সঠিক খাদ্য বেছে নেওয়াই সুস্থ জীবনের মূল চাবিকাঠি।

>>>>>>>>>>>>>>

ডেঙ্গু প্রতিরোধ করবেন যেভাবে

মশা বাহিত একপ্রকার ভাইরাস জ্বর হলো ডেঙ্গু। এই জ্বর অন্যান্য ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়াজনিত জ্বর থেকে ভিন্ন। অবশ্য এই জ্বর কোনোভাবেই ছোঁয়াচে নয়। এই ভাইরাস জ্বর এককভাবে বা অন্যান্য ভাইরাস (চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, বার্মা ফরেস্ট, ফ্লু, রেসপাইরেটরি সিনসাইটিয়াল) এবং ব্যাকটেরিয়া (নিউমোক্কাস)-এর সঙ্গেও হতে পারে।

লক্ষণ ও জ্বরের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গুজ্বরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে-

১. সাধারণ ডেঙ্গুজ্বর

২. রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বর।

সাধারণ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে চোখে পড়ে মূলত নিচের এই লক্ষণগুলো-

১. হঠাৎ করে তীব্র জ্বর ও তা ২ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হওয়া।

২. তীব্র মাথাব্যথা হওয়া।

৩. চোখের পেছনের অংশে ব্যথা হওয়া।

৪. জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি চোখে পড়া।

৫. সম্পূর্ণ শরীরে তীব্র ব্যথা ও সেইসঙ্গে কোমরে ব্যথা।

৬. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।

৭. ত্বকে র‌্যাশ বা লাল দানা দানা দেখা দেওয়া।

রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে :

১. ২ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তীব্র জ্বর সঙ্গে নাক, মুখ বা বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া।

২. জ্বরের পাশাপাশি বুকে বা পেটে পানি জমে যাওয়া।

এইসব লক্ষণের যে কোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।

অপরদিকে

জ্বরের প্রথম ৩ দিন বাড়িতে অপেক্ষা করুন। অপরদিকে সারা শরীর পানি দিয়ে স্পঞ্জ করুন কিছুক্ষণ পরপর। এতে করে জ্বরের মাত্রা কমে আসবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান ও বিশ্রাম নিতে হবে। এরপরেও জ্বর না কমলে বা কিছু সময় পরপর বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়:

১. বাড়ির আশপাশ যতোটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করুন।

২. ঘরের ভেতরে থাকা ফুলের টব বা ভাঙা প্লাস্টিকের বোতল, ডাবের খোসা, টায়ার অথবা পলিথিন থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলুন ও ফুলের টব থেকে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করুন।

৩. মশা নিধনের জন্য সপ্তাহে অন্তত ৩ বার স্প্রে বা ফগিং করুন।

৪. বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় মশা নিধনে ব্যবহৃত ক্রিম সঙ্গে রাখতে পারেন।

৫. সন্ধ্যার পর বাড়ির ছোট থেকে বড় সদস্যরা মশারি ব্যবহার করুন।

৬. যেখানে-সেখানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি পরিষ্কার করে ফেলুন, কারণ এতে এডিস মশা ডিম পেড়ে থাকে এই সময়।

৭. অপরদিকে মশার প্রকোপ থেকে বাঁচতে মশারির সঙ্গে সঙ্গে ম্যাট ব্যবহার করতে পারেন।

৮. এডিস মশা যেহেতু দিনের বেলা কামড়ায় তাই দিনের বেলায় ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টানিয়ে ঘুমানোর দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সূত্র: https://dmpnews.org

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো
Loading...
bn_BDBengali