দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ প্রি-ডায়াবেটিক অবস্থা হলো এমন একটি পর্যায়, যখন রক্তে শর্করার মাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থাকে, কিন্তু এখনও পূর্ণমাত্রায় ডায়াবেটিস হিসেবে চিহ্নিত হয়নি।

এই সময়টিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ সঠিক খাদ্যাভ্যাস এবং জীবনযাত্রার পরিবর্তনের মাধ্যমে ভবিষ্যতে ডায়াবেটিস হওয়ার ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব। তবে কিছু খাবার আছে, যা এই অবস্থায় অত্যন্ত বিপজ্জনক এবং রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বাড়িয়ে দিতে পারে।
এটির কথা বলতে গেলে প্রথমেই বলতে হয় অতিরিক্ত চিনি ও মিষ্টিজাতীয় খাবারের কথা। যেমন- মিষ্টি, কেক, পেস্ট্রি, চকোলেট, আইসক্রিম ইত্যাদি। এইসব খাবারে উচ্চমাত্রার চিনি থাকে, যা খুব দ্রুত রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়। প্রি-ডায়াবেটিক অবস্থায় এইসব খাবার যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলা উচিত।
পরিশোধিত কার্বোহাইড্রেট বা রিফাইন্ড কার্বোহাইড্রেটযুক্ত খাবার
পরিশোধিত কার্বোহাইড্রেট বা রিফাইন্ড কার্বোহাইড্রেটযুক্ত খাবারও বিপজ্জনক। যেমন- সাদা চাল, সাদা পাউরুটি, নুডলস, পাস্তা ইত্যাদি। এগুলোতে আঁশ কম থাকে এবং দ্রুত হজম হয়ে শরীরে গ্লুকোজের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। এর পরিবর্তে ব্রাউন রাইস, আটার রুটি বা পূর্ণ শস্যজাতীয় খাবার খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।
ফাস্টফুড ও প্রক্রিয়াজাত খাবার
ফাস্টফুড ও প্রক্রিয়াজাত খাবার প্রি-ডায়াবেটিক রোগীদের জন্য ক্ষতিকর। যেমন—বার্গার, পিজা, ফ্রাইড চিকেন, প্যাকেটজাত স্ন্যাকস ইত্যাদি। এসব খাবারে ট্রান্স ফ্যাট, লবণ এবং চিনি বেশি থাকে, যা ইনসুলিনের কার্যকারিতা কমিয়ে দেয় এবং শরীরে চর্বি জমাতে সাহায্য করে।
মিষ্টি পানীয় বা সুগারযুক্ত ড্রিংকস
মিষ্টি পানীয় বা সুগারযুক্ত ড্রিংকস যেমন- সফট ড্রিংকস, এনার্জি ড্রিংকস, প্যাকেটজাত ফলের জুসও খুবই ক্ষতিকর। এগুলোতে অতিরিক্ত চিনি থাকে এবং তৃপ্তি কম দেয়, ফলে অল্প সময়ের মধ্যেই আবার ক্ষুধা লাগে এবং অতিরিক্ত ক্যালোরি গ্রহণ হয়।
লবণযুক্ত ও তেলযুক্ত খাবার
এ ছাড়াও অতিরিক্ত লবণযুক্ত ও তেলযুক্ত খাবারও এড়িয়ে চলা উচিত। যদিও এগুলো সরাসরি রক্তে শর্করা বাড়ায় না, তবে হৃদরোগ ও উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি বাড়ায়, যা প্রি-ডায়াবেটিক অবস্থাকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।
প্রি-ডায়াবেটিক অবস্থায় সচেতনতা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সুষম খাদ্য, নিয়মিত ব্যায়াম এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন অনুসরণ করলে এই পর্যায় থেকেই ডায়াবেটিস প্রতিরোধ করা সম্ভব। তাই ক্ষতিকর খাবারগুলো এড়িয়ে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলা জরুরি।
>>>>>>>>>>>>>>
ডেঙ্গু প্রতিরোধ করবেন যেভাবে
মশা বাহিত একপ্রকার ভাইরাস জ্বর হলো ডেঙ্গু। এই জ্বর অন্যান্য ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়াজনিত জ্বর থেকে ভিন্ন। অবশ্য এই জ্বর কোনোভাবেই ছোঁয়াচে নয়। এই ভাইরাস জ্বর এককভাবে বা অন্যান্য ভাইরাস (চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, বার্মা ফরেস্ট, ফ্লু, রেসপাইরেটরি সিনসাইটিয়াল) এবং ব্যাকটেরিয়া (নিউমোক্কাস)-এর সঙ্গেও হতে পারে।
লক্ষণ ও জ্বরের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গুজ্বরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে-
১. সাধারণ ডেঙ্গুজ্বর।
২. রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বর।
সাধারণ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে চোখে পড়ে মূলত নিচের এই লক্ষণগুলো-
১. হঠাৎ করে তীব্র জ্বর ও তা ২ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হওয়া।
২. তীব্র মাথাব্যথা হওয়া।
৩. চোখের পেছনের অংশে ব্যথা হওয়া।
৪. জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি চোখে পড়া।
৫. সম্পূর্ণ শরীরে তীব্র ব্যথা ও সেইসঙ্গে কোমরে ব্যথা।
৬. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।
৭. ত্বকে র্যাশ বা লাল দানা দানা দেখা দেওয়া।
রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে :
১. ২ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তীব্র জ্বর সঙ্গে নাক, মুখ বা বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া।
২. জ্বরের পাশাপাশি বুকে বা পেটে পানি জমে যাওয়া।
এইসব লক্ষণের যে কোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।
অপরদিকে
জ্বরের প্রথম ৩ দিন বাড়িতে অপেক্ষা করুন। অপরদিকে সারা শরীর পানি দিয়ে স্পঞ্জ করুন কিছুক্ষণ পরপর। এতে করে জ্বরের মাত্রা কমে আসবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান ও বিশ্রাম নিতে হবে। এরপরেও জ্বর না কমলে বা কিছু সময় পরপর বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়:
১. বাড়ির আশপাশ যতোটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করুন।
২. ঘরের ভেতরে থাকা ফুলের টব বা ভাঙা প্লাস্টিকের বোতল, ডাবের খোসা, টায়ার অথবা পলিথিন থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলুন ও ফুলের টব থেকে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করুন।
৩. মশা নিধনের জন্য সপ্তাহে অন্তত ৩ বার স্প্রে বা ফগিং করুন।
৪. বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় মশা নিধনে ব্যবহৃত ক্রিম সঙ্গে রাখতে পারেন।
৫. সন্ধ্যার পর বাড়ির ছোট থেকে বড় সদস্যরা মশারি ব্যবহার করুন।
৬. যেখানে-সেখানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি পরিষ্কার করে ফেলুন, কারণ এতে এডিস মশা ডিম পেড়ে থাকে এই সময়।
৭. অপরদিকে মশার প্রকোপ থেকে বাঁচতে মশারির সঙ্গে সঙ্গে ম্যাট ব্যবহার করতে পারেন।
৮. এডিস মশা যেহেতু দিনের বেলা কামড়ায় তাই দিনের বেলায় ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টানিয়ে ঘুমানোর দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সূত্র: https://dmpnews.org