The Dhaka Times
তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে রাখার প্রত্যয়ে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সামাজিক ম্যাগাজিন।

লাদাখে জেন-জিদের সহিংস বিক্ষোভে চ্যালেঞ্জে মোদি সরকার?

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ ভারত-চীনের সাম্প্রতিক উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা লাদাখ হিমালয়ের উচ্চভূমি অঞ্চলটি জেন-জি প্রজন্মের তরুণদের নেতৃত্বাধীন সহিংস বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে ওঠেছে।

লাদাখে জেন-জিদের সহিংস বিক্ষোভে চ্যালেঞ্জে মোদি সরকার? 1

২৪ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী জানা যায়, বিক্ষোভকারীরা লাদাখের আঞ্চলিক রাজধানী লেহতে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দল ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) আঞ্চলিক কার্যালয়েও অগ্নিসংযোগ করেন।

বিক্ষোভের সমন্বয়কারীরা আল-জাজিরাকে জানিয়েছেন যে, এই সংঘর্ষে কমপক্ষে ৪ জন নিহত ও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষের পর সশস্ত্র বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে, সংঘর্ষে নিরাপত্তা বাহিনীর বেশ কয়েকজন সদস্যও আহত হন।

লাদাখে গত ৬ বছর ধরে স্থানীয় নাগরিক সংস্থাগুলোর নেতৃত্বে হাজার হাজার মানুষ শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ এবং অনশন চালিয়ে আসছে। তাদের মূল দাবি হলো, ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের কাছ থেকে বিস্তৃত সাংবিধানিক নিরাপত্তা (ষষ্ঠ তফসিল) ও রাজ্যের মর্যাদা লাভ করা।

২০১৯ সাল থেকে লাদাখ কেন্দ্রীয়ভাবেই শাসিত হচ্ছে। বিক্ষোভকারীরা চান, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ক্ষমতা তাদের হাতেই ফিরিয়ে দেওয়া হোক। সমাজসেবী, শিক্ষাবিদ ও পরিবেশকর্মী সোনম ওয়াংচুক, জানান, বুধবার হতাশ এবং ক্ষুব্ধ কিছু তরুণ শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ থেকে বেরিয়ে এসে সহিংস কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন। ওয়াংচুককে শুক্রবার ভারতের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গ্রেফতার করেছে।

গ্রেফতারের আগে এক ভিডিও বার্তায় সোনম ওয়াংচুক বলেন, ‘এটি ছিল তরুণদের উন্মাদনা। একধরনের জেন-জি বিপ্লব, যা তাদের রাস্তায় নামিয়ে এনেছিল।’ তিনি নেপালে চলতি মাসের শুরুতে জেন-জি’দের বিক্ষোভে প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা অলির সরকারের পতনের মতো সাম্প্রতিক গণ-অভ্যুত্থানের কথাও উল্লেখ করেন।

লেহেতে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয় বুধবার সকালবেলায়, যখন স্থানীয় অধিকারকর্মীদের ‘লাদাখ অ্যাপেক্স বডি’-এর নেতৃত্বে চলা অনশন ১৫তম দিনে প্রবেশ করেছিলো। মোদি সরকারের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের আলোচনা বিলম্বিত হওয়ায় তারা ক্ষুব্ধও ছিলেন। বুধবার সন্ধ্যায় দুই কর্মীকে হাসপাতালে ভর্তি করার ঘটনায় আয়োজকরা স্থানীয়ভাবে ‘শাটডাউনের’ ডাক দেয়।

উল্লেখ্য, ২০১৯ সালে মোদি সরকার একতরফাভাবে ভারতের সংবিধানের একটি ধারা বাতিল করে জম্মু ও কাশ্মীর রাজ্যের আধা স্বায়ত্তশাসন এবং রাজ্যের মর্যাদা কেড়ে নেয়। সেই সময় মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ কাশ্মীর উপত্যকা ও হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ জম্মু অঞ্চলের সঙ্গে প্রায় সমান মুসলিম এবং বৌদ্ধ জনসংখ্যা থাকা লাদাখকেও নিয়ে একটি অখণ্ড রাজ্য ছিল। মোদি সরকার ওই রাজ্যকে ভেঙে দুটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে ভাগ করে: জম্মু ও কাশ্মীর (যেখানে আইনসভা রয়েছে) এবং লাদাখ (যেখানে কোনো আইনসভা নেই)।

স্থানীয় জনগণের মতে, জম্মু এবং কাশ্মীরের জনগণ অন্তত স্থানীয় নেতা নির্বাচনের সুযোগ পেলেও, লাদাখবাসীর সেই সুযোগটিও নেই। লাদাখ ভারতের প্রতিবেশী পারমাণবিক ক্ষমতাসম্পন্ন দেশ চীন এবং পাকিস্তানের সীমান্তবর্তী এক বিতর্কিত অঞ্চলে অবস্থিত। লাদাখের পূর্বে চীনের সঙ্গে ভারতের সীমান্ত প্রায় ১ হাজার ৬০০ কিলোমিটার। তথ্যসূত্র: আল জাজিরা।

>>>>>>>>>>>>>>

ডেঙ্গু প্রতিরোধ করবেন যেভাবে

মশা বাহিত একপ্রকার ভাইরাস জ্বর হলো ডেঙ্গু। এই জ্বর অন্যান্য ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়াজনিত জ্বর থেকে ভিন্ন। অবশ্য এই জ্বর কোনোভাবেই ছোঁয়াচে নয়। এই ভাইরাস জ্বর এককভাবে বা অন্যান্য ভাইরাস (চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, বার্মা ফরেস্ট, ফ্লু, রেসপাইরেটরি সিনসাইটিয়াল) এবং ব্যাকটেরিয়া (নিউমোক্কাস)-এর সঙ্গেও হতে পারে।

লক্ষণ ও জ্বরের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গুজ্বরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে-

১. সাধারণ ডেঙ্গুজ্বর

২. রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বর।

সাধারণ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে চোখে পড়ে মূলত নিচের এই লক্ষণগুলো-

১. হঠাৎ করে তীব্র জ্বর ও তা ২ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হওয়া।

২. তীব্র মাথাব্যথা হওয়া।

৩. চোখের পেছনের অংশে ব্যথা হওয়া।

৪. জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি চোখে পড়া।

৫. সম্পূর্ণ শরীরে তীব্র ব্যথা ও সেইসঙ্গে কোমরে ব্যথা।

৬. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।

৭. ত্বকে র‌্যাশ বা লাল দানা দানা দেখা দেওয়া।

রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে :

১. ২ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তীব্র জ্বর সঙ্গে নাক, মুখ বা বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া।

২. জ্বরের পাশাপাশি বুকে বা পেটে পানি জমে যাওয়া।

এইসব লক্ষণের যে কোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।

অপরদিকে

জ্বরের প্রথম ৩ দিন বাড়িতে অপেক্ষা করুন। অপরদিকে সারা শরীর পানি দিয়ে স্পঞ্জ করুন কিছুক্ষণ পরপর। এতে করে জ্বরের মাত্রা কমে আসবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান ও বিশ্রাম নিতে হবে। এরপরেও জ্বর না কমলে বা কিছু সময় পরপর বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়:

১. বাড়ির আশপাশ যতোটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করুন।

২. ঘরের ভেতরে থাকা ফুলের টব বা ভাঙা প্লাস্টিকের বোতল, ডাবের খোসা, টায়ার অথবা পলিথিন থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলুন ও ফুলের টব থেকে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করুন।

৩. মশা নিধনের জন্য সপ্তাহে অন্তত ৩ বার স্প্রে বা ফগিং করুন।

৪. বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় মশা নিধনে ব্যবহৃত ক্রিম সঙ্গে রাখতে পারেন।

৫. সন্ধ্যার পর বাড়ির ছোট থেকে বড় সদস্যরা মশারি ব্যবহার করুন।

৬. যেখানে-সেখানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি পরিষ্কার করে ফেলুন, কারণ এতে এডিস মশা ডিম পেড়ে থাকে এই সময়।

৭. অপরদিকে মশার প্রকোপ থেকে বাঁচতে মশারির সঙ্গে সঙ্গে ম্যাট ব্যবহার করতে পারেন।

৮. এডিস মশা যেহেতু দিনের বেলা কামড়ায় তাই দিনের বেলায় ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টানিয়ে ঘুমানোর দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সূত্র: https://dmpnews.org

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

bn_BDBengali