দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ বাংলাদেশের মানুষের প্রধান খাদ্য ভাত, তবে আধুনিক সময়ে অনেকেই রুটিকে বিকল্প হিসেবে বেছে নিচ্ছেন। কেও কেও ওজন কমানোর জন্য রুটি খান, আবার অনেকেই ভাত ছাড়া খাবার অসম্পূর্ণ মনে করেন।

তবে প্রশ্ন হলো- ভাত না রুটি, কোনটি আসলে স্বাস্থ্যের জন্য ভালো? এ প্রশ্নের উত্তর নির্ভর করে ব্যক্তির শারীরিক অবস্থা, কাজের ধরন এবং খাদ্যাভ্যাসের ওপর।
ভাত মূলত কার্বোহাইড্রেটসমৃদ্ধ খাবার, যা শরীরকে শক্তি দেয়। এক কাপ সাদা ভাতে প্রায় ২০০ ক্যালরি থাকে এবং এতে চর্বি বা ফ্যাটের পরিমাণ খুবই কম। তবে সাদা ভাত অতিরিক্ত পরিমাণে খেলে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা দ্রুত বেড়ে যায়, যা ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য ক্ষতিকর। অপরদিকে, লাল চাল বা ব্রাউন রাইস তুলনামূলক বেশি পুষ্টিকর, কারণ এতে আঁশ, ভিটামিন বি এবং মিনারেল বজায় থাকে যা হজমে সাহায্য করে এবং দীর্ঘক্ষণ পেট ভরিয়ে রাখে।
অপরদিকে, রুটি সাধারণত গমের আটা থেকে তৈরি হয়, যা আঁশ, প্রোটিন এবং খনিজে সমৃদ্ধ। রুটির গ্লাইসেমিক ইনডেক্স ভাতের চেয়ে কম, যে কারণে এটি রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। যারা ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে চান বা ডায়াবেটিসে ভুগছেন, তাদের জন্য রুটি ভাতের তুলনায় ভালো বিকল্প হতে পারে।
তবে রুটিরও কিছু সীমাবদ্ধতা আছে। অতিরিক্ত রুটি খেলে শরীরে গ্লুটেনের প্রভাব বাড়তে পারে, যা কিছু মানুষের হজমে সমস্যা সৃষ্টি করে। আবার রুটি তৈরিতে অতিরিক্ত তেল বা ঘি ব্যবহার করলে ক্যালরি বেড়ে যায়, যা ওজন বাড়াতে পারে। তাই তেল ছাড়া বা হালকা তেলে তৈরি রুটি সবচেয়ে স্বাস্থ্যকর।
কাজের ধরন অনুযায়ী খাদ্য নির্বাচনও জরুরি। যাদের শারীরিক পরিশ্রম বেশি, যেমন শ্রমিক বা খেলোয়াড়, তাদের জন্য ভাত বেশি উপযোগী, কারণ এটি দ্রুত শক্তি দেয়। আর যারা অফিসকর্মী বা কম পরিশ্রম করেন, তাদের জন্য রুটি উপযুক্ত, কারণ এটি ধীরে হজম হয় এবং অতিরিক্ত ক্যালরি জমতে দেয় না।
ভাত বা রুটি- দুটিই শরীরের জন্য প্রয়োজনীয়, তবে পরিমাণ এবং প্রকারের ভারসাম্য বজায় রাখতে হবে। সাদা ভাতের বদলে লাল চাল বা ব্রাউন রাইস, আর ময়দার রুটির বদলে আটার রুটি খাওয়া সবচেয়ে ভালো।
অর্থাৎ, ভাত নয় বা রুটি নয়- স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের মূল চাবিকাঠি হলো পরিমিত খাওয়া এবং সচেতনতা। সঠিক পরিমাণে ভাত এবং রুটি উভয়ই আমাদের শরীরের শক্তি, পুষ্টি এবং সুস্থতা বজায় রাখতেও সাহায্য করে।