The Dhaka Times
তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে রাখার প্রত্যয়ে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সামাজিক ম্যাগাজিন।

আজ পবিত্র রজনী: শবে বরাতের ফযীলত ও তাৎপর্য

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ ইসলাম ধর্মে কিছু বিশেষ রাত ও দিন রয়েছে, যেগুলো আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে রহমত, মাগফিরাত ও নাজাত লাভের অনন্য সুযোগ হিসেবে বিবেচিত।

আজ পবিত্র রজনী: শবে বরাতের ফযীলত ও তাৎপর্য 1

তেমনই একটি মহিমান্বিত রাত হলো শবে বরাত। ‘শব’ শব্দের অর্থ রাত এবং ‘বরাত’ শব্দের অর্থ মুক্তি বা নাজাত। অর্থাৎ শবে বরাত হলো মুক্তির রাত। ইসলামী বর্ষপঞ্জির অষ্টম মাস শাবানের ১৪ তারিখ দিবাগত রাতকে শবে বরাত বলা হয়। এ রাতকে লাইলাতুল বরাত বা ভাগ্য নির্ধারণের রাত হিসেবেও অভিহিত করা হয়।

শবে বরাতের ফযীলত সম্পর্কে হাদিসে বিভিন্ন বর্ণনা পাওয়া যায়। হযরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) একবার গভীর রাতে জান্নাতুল বাকিতে গিয়ে উম্মতের জন্য দোয়া ও ইস্তিগফার করেন। তিনি বলেন, “আল্লাহ তাআলা শাবানের মধ্যরাতে বান্দাদের দিকে রহমতের দৃষ্টিতে তাকান এবং মুশরিক ও হিংসুক ব্যক্তি ছাড়া সবাইকে ক্ষমা করে দেন।” (ইবনে মাজাহ)। এ হাদিস থেকে বোঝা যায়, এই রাতে আল্লাহ তাআলা অসংখ্য বান্দাকে ক্ষমা করে দেন এবং তাদের গুনাহ মাফ করে দেন।

এ রাতের আরেকটি তাৎপর্য হলো, অনেক আলেমের মতে এ রাতে পরবর্তী এক বছরের ভাগ্য নির্ধারণ করা হয়—রিজিক, মৃত্যু, বিপদ-আপদসহ নানা বিষয় আল্লাহর হুকুমে নির্ধারিত হয়। তাই এই রাতে আল্লাহর কাছে ক্ষমা, কল্যাণ ও হেদায়েত কামনা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

শবে বরাতে মুসলমানদের করণীয় হলো বেশি বেশি নফল ইবাদত করা। যেমন—নফল নামাজ আদায়, কুরআন তিলাওয়াত, জিকির-আজকার, দরুদ শরিফ পাঠ, তওবা-ইস্তিগফার এবং দোয়া করা। নিজের গুনাহের জন্য অনুতপ্ত হয়ে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া এ রাতের অন্যতম আমল। পাশাপাশি আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশী ও অভাবী মানুষের খোঁজখবর নেওয়া এবং দান-সদকা করাও উত্তম কাজ।

তবে শবে বরাতকে কেন্দ্র করে কিছু কুসংস্কার বা বিদআত সমাজে প্রচলিত আছে, যা ইসলাম সমর্থন করে না। যেমন-অতিরিক্ত আতশবাজি, অপচয়, বিশেষ কোনো বাধ্যতামূলক রীতি পালন বা অপ্রমাণিত আমল করা থেকে বিরত থাকা উচিত। ইসলামে ইবাদতের ক্ষেত্রে সবসময় কুরআন ও সহিহ হাদিসের অনুসরণ করাই শ্রেয়।

শবে বরাত আমাদের আত্মশুদ্ধি ও নতুনভাবে জীবন গঠনের সুযোগ এনে দেয়। এ রাতে অতীতের ভুল-ত্রুটি থেকে শিক্ষা নিয়ে আল্লাহর পথে ফিরে আসার দৃঢ় সংকল্প করা উচিত। হিংসা-বিদ্বেষ ভুলে সবার সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা এবং মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত করা এ রাতের শিক্ষার অংশ।

শবে বরাত শুধু একটি রাত নয়; এটি রহমত, ক্ষমা ও নাজাতের বার্তা নিয়ে আসে। যথাযথভাবে ইবাদত-বন্দেগি এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা করলে এ রাত আমাদের দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণ বয়ে আনতে পারে। তাই আসুন, শবে বরাতকে আমরা আত্মশুদ্ধি ও আল্লাহর নৈকট্য লাভের এক মহাসুযোগ হিসেবে গ্রহণ করি।

>>>>>>>>>>>>>>

ডেঙ্গু প্রতিরোধ করবেন যেভাবে

মশা বাহিত একপ্রকার ভাইরাস জ্বর হলো ডেঙ্গু। এই জ্বর অন্যান্য ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়াজনিত জ্বর থেকে ভিন্ন। অবশ্য এই জ্বর কোনোভাবেই ছোঁয়াচে নয়। এই ভাইরাস জ্বর এককভাবে বা অন্যান্য ভাইরাস (চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, বার্মা ফরেস্ট, ফ্লু, রেসপাইরেটরি সিনসাইটিয়াল) এবং ব্যাকটেরিয়া (নিউমোক্কাস)-এর সঙ্গেও হতে পারে।

লক্ষণ ও জ্বরের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গুজ্বরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে-

১. সাধারণ ডেঙ্গুজ্বর

২. রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বর।

সাধারণ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে চোখে পড়ে মূলত নিচের এই লক্ষণগুলো-

১. হঠাৎ করে তীব্র জ্বর ও তা ২ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হওয়া।

২. তীব্র মাথাব্যথা হওয়া।

৩. চোখের পেছনের অংশে ব্যথা হওয়া।

৪. জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি চোখে পড়া।

৫. সম্পূর্ণ শরীরে তীব্র ব্যথা ও সেইসঙ্গে কোমরে ব্যথা।

৬. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।

৭. ত্বকে র‌্যাশ বা লাল দানা দানা দেখা দেওয়া।

রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে :

১. ২ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তীব্র জ্বর সঙ্গে নাক, মুখ বা বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া।

২. জ্বরের পাশাপাশি বুকে বা পেটে পানি জমে যাওয়া।

এইসব লক্ষণের যে কোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।

অপরদিকে

জ্বরের প্রথম ৩ দিন বাড়িতে অপেক্ষা করুন। অপরদিকে সারা শরীর পানি দিয়ে স্পঞ্জ করুন কিছুক্ষণ পরপর। এতে করে জ্বরের মাত্রা কমে আসবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান ও বিশ্রাম নিতে হবে। এরপরেও জ্বর না কমলে বা কিছু সময় পরপর বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়:

১. বাড়ির আশপাশ যতোটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করুন।

২. ঘরের ভেতরে থাকা ফুলের টব বা ভাঙা প্লাস্টিকের বোতল, ডাবের খোসা, টায়ার অথবা পলিথিন থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলুন ও ফুলের টব থেকে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করুন।

৩. মশা নিধনের জন্য সপ্তাহে অন্তত ৩ বার স্প্রে বা ফগিং করুন।

৪. বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় মশা নিধনে ব্যবহৃত ক্রিম সঙ্গে রাখতে পারেন।

৫. সন্ধ্যার পর বাড়ির ছোট থেকে বড় সদস্যরা মশারি ব্যবহার করুন।

৬. যেখানে-সেখানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি পরিষ্কার করে ফেলুন, কারণ এতে এডিস মশা ডিম পেড়ে থাকে এই সময়।

৭. অপরদিকে মশার প্রকোপ থেকে বাঁচতে মশারির সঙ্গে সঙ্গে ম্যাট ব্যবহার করতে পারেন।

৮. এডিস মশা যেহেতু দিনের বেলা কামড়ায় তাই দিনের বেলায় ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টানিয়ে ঘুমানোর দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সূত্র: https://dmpnews.org

Loading...
bn_BDBengali