এম. এইচ. সোহেল ॥ ব্রিটেনের রাজনীতিতে আবারও পরিবর্তনের হাওয়া বইছে। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহে দেশটির বর্তমান প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার পদত্যাগের ঘোষণা দেওয়ার পর হতেই নতুন নেতৃত্ব নিয়ে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি আলোচিত নাম হলো অ্যান্ডি বার্নহ্যাম। রাজনৈতিক বিশ্লেষক থেকে শুরু করে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের মূল্যায়ন অনুযায়ী তিনিই এখন ব্রিটেনের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সবচেয়ে সম্ভাব্য ব্যক্তি। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে লেবার পার্টির নেতৃত্ব নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার ওপর।
অ্যান্ডি বার্নহ্যাম ব্রিটিশ রাজনীতির অত্যন্ত পরিচিত একজন মুখ। তিনি দীর্ঘদিন লেবার পার্টির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত এবং গ্রেটার ম্যানচেস্টারের মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করে ব্যাপক জনপ্রিয়তাও অর্জন করেছেন। আঞ্চলিক উন্নয়ন, গণপরিবহন, স্বাস্থ্যসেবা এবং স্থানীয় সরকারের ক্ষমতা বৃদ্ধির পক্ষে তার অবস্থান তাকে সাধারণ মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য করে তুলেছে।
সাম্প্রতিক সময় বার্নহ্যাম তার প্রথম বড় নীতিগত ভাষণে দেশের অর্থনীতি পুনর্গঠন, লন্ডনের বাইরে বিভিন্ন অঞ্চলে আরও ক্ষমতা হস্তান্তর এবং স্থানীয় প্রশাসনকে শক্তিশালী করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা অটুট রাখার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেছেন। তার বক্তব্যের মূল বার্তা ছিল- ব্রিটেনে রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক ভারসাম্য ফিরিয়ে আনা।
জনমত জরিপেও বার্নহ্যামের অবস্থান বেশ শক্তিশালী। সাম্প্রতিক একাধিক জরিপে দেখা যায়, সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি বিরোধী দলের নেতাদের তুলনায় এগিয়ে রয়েছেন। অনেক ব্রিটিশ নাগরিক মনে করছেন যে, বর্তমান রাজনৈতিক অস্থিরতা কাটিয়ে দেশকে নতুন পথে এগিয়ে নেওয়ার সক্ষমতা তার রয়েছে। যদিও সমালোচকরাও কম নন। তাদের মতে, বড় ধরনের সংস্কার বাস্তবায়ন করতে গেলে তাকে সংসদ, দল ও অর্থনৈতিক বাস্তবতার কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হবে।
তবে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, নেতৃত্বের পরিবর্তন মানেই সঙ্গে সঙ্গে নতুন নীতি কার্যকর হয়ে যাবে- এমন নয়। নতুন প্রধানমন্ত্রীকে দেশের অর্থনীতি, জীবনযাত্রার ব্যয়, স্বাস্থ্যসেবা, অভিবাসন নীতি এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো সামলাতে হবে। যে কারণে সামনে অপেক্ষা করছে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ।
তাই বর্তমান পরিস্থিতিতে অ্যান্ডি বার্নহ্যামই ব্রিটেনের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সবচেয়ে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন। তবে লেবার পার্টির নেতৃত্ব নির্বাচন সম্পন্ন হওয়ার পরই আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হবে বিষয়টি। তাই ব্রিটিশ রাজনীতির এই পরিবর্তনের দিকে এখন নজর রয়েছে শুধু যুক্তরাজ্যের জনগণের নয়, বরং পুরো বিশ্বেরই।
>>>>>>>>>>>>>>
ডেঙ্গু প্রতিরোধ করবেন যেভাবে
মশা বাহিত একপ্রকার ভাইরাস জ্বর হলো ডেঙ্গু। এই জ্বর অন্যান্য ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়াজনিত জ্বর থেকে ভিন্ন। অবশ্য এই জ্বর কোনোভাবেই ছোঁয়াচে নয়। এই ভাইরাস জ্বর এককভাবে বা অন্যান্য ভাইরাস (চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, বার্মা ফরেস্ট, ফ্লু, রেসপাইরেটরি সিনসাইটিয়াল) এবং ব্যাকটেরিয়া (নিউমোক্কাস)-এর সঙ্গেও হতে পারে।
লক্ষণ ও জ্বরের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গুজ্বরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে-
১. সাধারণ ডেঙ্গুজ্বর।
২. রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বর।
সাধারণ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে চোখে পড়ে মূলত নিচের এই লক্ষণগুলো-
১. হঠাৎ করে তীব্র জ্বর ও তা ২ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হওয়া।
২. তীব্র মাথাব্যথা হওয়া।
৩. চোখের পেছনের অংশে ব্যথা হওয়া।
৪. জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি চোখে পড়া।
৫. সম্পূর্ণ শরীরে তীব্র ব্যথা ও সেইসঙ্গে কোমরে ব্যথা।
৬. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।
৭. ত্বকে র্যাশ বা লাল দানা দানা দেখা দেওয়া।
রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে :
১. ২ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তীব্র জ্বর সঙ্গে নাক, মুখ বা বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া।
২. জ্বরের পাশাপাশি বুকে বা পেটে পানি জমে যাওয়া।
এইসব লক্ষণের যে কোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।
অপরদিকে
জ্বরের প্রথম ৩ দিন বাড়িতে অপেক্ষা করুন। অপরদিকে সারা শরীর পানি দিয়ে স্পঞ্জ করুন কিছুক্ষণ পরপর। এতে করে জ্বরের মাত্রা কমে আসবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান ও বিশ্রাম নিতে হবে। এরপরেও জ্বর না কমলে বা কিছু সময় পরপর বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়:
১. বাড়ির আশপাশ যতোটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করুন।
২. ঘরের ভেতরে থাকা ফুলের টব বা ভাঙা প্লাস্টিকের বোতল, ডাবের খোসা, টায়ার অথবা পলিথিন থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলুন ও ফুলের টব থেকে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করুন।
৩. মশা নিধনের জন্য সপ্তাহে অন্তত ৩ বার স্প্রে বা ফগিং করুন।
৪. বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় মশা নিধনে ব্যবহৃত ক্রিম সঙ্গে রাখতে পারেন।
৫. সন্ধ্যার পর বাড়ির ছোট থেকে বড় সদস্যরা মশারি ব্যবহার করুন।
৬. যেখানে-সেখানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি পরিষ্কার করে ফেলুন, কারণ এতে এডিস মশা ডিম পেড়ে থাকে এই সময়।
৭. অপরদিকে মশার প্রকোপ থেকে বাঁচতে মশারির সঙ্গে সঙ্গে ম্যাট ব্যবহার করতে পারেন।
৮. এডিস মশা যেহেতু দিনের বেলা কামড়ায় তাই দিনের বেলায় ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টানিয়ে ঘুমানোর দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সূত্র: https://dmpnews.org