এম. এইচ. সোহেল ॥ বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন বাস্তবতা তৈরি হয়েছে- প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন তারেক রহমান। দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার পর রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পাওয়া যেমন বড় সুযোগ, তেমনি বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জও বয়ে আনে।

দেশের অভ্যন্তরীণ ও বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে তাকে যেসব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হতে পারে, সেগুলোই এখন আলোচনার কেন্দ্রে। তিনি মন্ত্রী সভায় যাদের নিয়োগ দিয়েছেন তারাও এই চ্যালেঞ্জের সঙ্গে সম্পৃক্ত।
প্রথম ও প্রধান চ্যালেঞ্জ হবে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা। মূল্যস্ফীতি, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ, জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা এবং কর্মসংস্থানের সংকট- এসব বিষয় জনগণের দৈনন্দিন জীবনে সরাসরি প্রভাব ফেলে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে কার্যকর তদারকি, রাজস্ব আহরণ বাড়ানো এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি করা তার সরকারের জন্য বড় পরীক্ষা হবে। একই সঙ্গে বৈদেশিক ঋণ ব্যবস্থাপনা ও উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে।
রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। ক্ষমতার পালাবদলের পর দেশে রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হওয়া অস্বাভাবিক নয়। বিরোধী দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ, সংসদকে কার্যকর রাখা এবং সহনশীল রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তোলা জরুরি হবে। জাতীয় ঐক্য ধরে রাখতে না পারলে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ব্যাহত হতে পারে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও বিচারব্যবস্থার প্রতি আস্থা পুনর্গঠন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। অপরাধ দমন, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি প্রতিরোধ এবং প্রশাসনকে পেশাদার ও নিরপেক্ষ রাখা সরকারের সক্ষমতার বড় পরীক্ষা। জনগণ যদি ন্যায়বিচার পায় এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়, তাহলে সরকারের প্রতি আস্থা বাড়বে।
শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে কাঙ্ক্ষিত সংস্কার বাস্তবায়ন সহজ হবে না। সরকারি হাসপাতালগুলোর সেবার মান উন্নয়ন, চিকিৎসা ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং গ্রামাঞ্চলে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া বড় কাজ। একই সঙ্গে শিক্ষাব্যবস্থায় কারিগরি ও প্রযুক্তিনির্ভর পাঠ্যক্রম চালু, শিক্ষক প্রশিক্ষণ এবং গবেষণায় বিনিয়োগ প্রয়োজন হবে। এসব খাতে দৃশ্যমান অগ্রগতি অর্জন করতে না পারলে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ কঠিন হয়ে পড়বে।
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও কূটনৈতিক ভারসাম্য রক্ষা একটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ। আঞ্চলিক শক্তি, উন্নয়ন সহযোগী দেশ এবং বৈশ্বিক সংস্থাগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রেখে জাতীয় স্বার্থ সুরক্ষা করতে হবে। বাণিজ্য, শ্রমবাজার ও জলবায়ু ইস্যুতে কার্যকর কূটনীতি প্রয়োজন হবে।
এ ছাড়াও দুর্নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া এবং প্রশাসনে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জনগণ এখন দৃশ্যমান পরিবর্তন চায়। প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে ব্যর্থ হলে জনপ্রত্যাশা দ্রুত হতাশায় রূপ নিতে পারে।
ব্যক্তিগত ভাবমূর্তি ও নেতৃত্বের ধরনও বড় ভূমিকা রাখবে। নিয়মিত জনসম্পৃক্ততা, সমালোচনা গ্রহণের মানসিকতা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে স্বচ্ছতা একজন প্রধানমন্ত্রীর বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়ায়।
প্রধানমন্ত্রী হয়ে তারেক রহমানকে অর্থনীতি, রাজনীতি, আইনশৃঙ্খলা, সামাজিক খাত ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একাধিক জটিল চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হবে। এইসব ক্ষেত্রে সফল কৌশল গ্রহণ ও বাস্তবায়নের ওপরই নির্ভর করবে তার নেতৃত্বের গ্রহণযোগ্যতা এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থান।
>>>>>>>>>>>>>>
ডেঙ্গু প্রতিরোধ করবেন যেভাবে
মশা বাহিত একপ্রকার ভাইরাস জ্বর হলো ডেঙ্গু। এই জ্বর অন্যান্য ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়াজনিত জ্বর থেকে ভিন্ন। অবশ্য এই জ্বর কোনোভাবেই ছোঁয়াচে নয়। এই ভাইরাস জ্বর এককভাবে বা অন্যান্য ভাইরাস (চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, বার্মা ফরেস্ট, ফ্লু, রেসপাইরেটরি সিনসাইটিয়াল) এবং ব্যাকটেরিয়া (নিউমোক্কাস)-এর সঙ্গেও হতে পারে।
লক্ষণ ও জ্বরের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গুজ্বরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে-
১. সাধারণ ডেঙ্গুজ্বর
২. রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বর।
সাধারণ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে চোখে পড়ে মূলত নিচের এই লক্ষণগুলো-
১. হঠাৎ করে তীব্র জ্বর ও তা ২ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হওয়া।
২. তীব্র মাথাব্যথা হওয়া।
৩. চোখের পেছনের অংশে ব্যথা হওয়া।
৪. জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি চোখে পড়া।
৫. সম্পূর্ণ শরীরে তীব্র ব্যথা ও সেইসঙ্গে কোমরে ব্যথা।
৬. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।
৭. ত্বকে র্যাশ বা লাল দানা দানা দেখা দেওয়া।
রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে :
১. ২ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তীব্র জ্বর সঙ্গে নাক, মুখ বা বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া।
২. জ্বরের পাশাপাশি বুকে বা পেটে পানি জমে যাওয়া।
এইসব লক্ষণের যে কোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।
অপরদিকে
জ্বরের প্রথম ৩ দিন বাড়িতে অপেক্ষা করুন। অপরদিকে সারা শরীর পানি দিয়ে স্পঞ্জ করুন কিছুক্ষণ পরপর। এতে করে জ্বরের মাত্রা কমে আসবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান ও বিশ্রাম নিতে হবে। এরপরেও জ্বর না কমলে বা কিছু সময় পরপর বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়:
১. বাড়ির আশপাশ যতোটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করুন।
২. ঘরের ভেতরে থাকা ফুলের টব বা ভাঙা প্লাস্টিকের বোতল, ডাবের খোসা, টায়ার অথবা পলিথিন থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলুন ও ফুলের টব থেকে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করুন।
৩. মশা নিধনের জন্য সপ্তাহে অন্তত ৩ বার স্প্রে বা ফগিং করুন।
৪. বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় মশা নিধনে ব্যবহৃত ক্রিম সঙ্গে রাখতে পারেন।
৫. সন্ধ্যার পর বাড়ির ছোট থেকে বড় সদস্যরা মশারি ব্যবহার করুন।
৬. যেখানে-সেখানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি পরিষ্কার করে ফেলুন, কারণ এতে এডিস মশা ডিম পেড়ে থাকে এই সময়।
৭. অপরদিকে মশার প্রকোপ থেকে বাঁচতে মশারির সঙ্গে সঙ্গে ম্যাট ব্যবহার করতে পারেন।
৮. এডিস মশা যেহেতু দিনের বেলা কামড়ায় তাই দিনের বেলায় ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টানিয়ে ঘুমানোর দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সূত্র: https://dmpnews.org