এম. এইচ. সোহেল ॥ গণতন্ত্রের মূল শক্তি হলো জনগণের ভোটাধিকার। বাংলাদেশে একজন সুনাগরিক হিসেবে ভোট দেওয়া শুধু অধিকার নয়, এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বও।

তবে প্রশ্ন আসে- কাকে ভোট দেওয়া উচিত? এই সিদ্ধান্ত আবেগে নয়, বরং বিবেক, যুক্তি ও তথ্যভিত্তিক বিবেচনায় নেওয়াই শ্রেয়।
সততা ও নৈতিকতা
প্রার্থীর ব্যক্তিগত সততা ও নৈতিকতা বিবেচনা করা জরুরি। যিনি জনগণের প্রতিনিধি হবেন, তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতি, সন্ত্রাস বা গুরুতর অপরাধের অভিযোগ আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। একজন সৎ ও নৈতিক প্রার্থীই জনগণের আস্থা রক্ষা করতে পারেন এবং রাষ্ট্রের সম্পদ সঠিকভাবে ব্যবহারে ভূমিকা রাখতে পারেন।
শিক্ষাগত যোগ্যতা ও দক্ষতা
প্রার্থীর শিক্ষাগত যোগ্যতা ও দক্ষতা গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষা শুধু সনদে সীমাবদ্ধ নয়; রাষ্ট্র পরিচালনা, আইন প্রণয়ন এবং জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে তাঁর জ্ঞান ও বোঝাপড়া কেমন- তা বিবেচ্য। দক্ষ ও সচেতন প্রতিনিধি জাতীয় সংসদে গঠনমূলক ভূমিকা রাখতে পারেন।
অতীত কাজ ও জনসেবার রেকর্ড
প্রার্থীর অতীত কাজ ও জনসেবার রেকর্ড দেখা উচিত। তিনি আগে কোনো জনপ্রতিনিধি হয়ে থাকলে এলাকার উন্নয়ন, জনগণের সমস্যা সমাধান ও (যারা পুরোনো) তাদের সংসদে উপস্থিতি কেমন ছিল- এইসব বিষয় গুরুত্বপূর্ণ সূচক। যারা কেবল নির্বাচনের সময় জনগণের কাছে আসেন, তাদের তুলনায় দীর্ঘদিনের জনসংযোগ ও কাজের অভিজ্ঞতা থাকা প্রার্থীরা সাধারণত বেশি দায়িত্বশীল হন।
রাজনৈতিক দল ও আদর্শ
প্রার্থীর রাজনৈতিক দল ও আদর্শও বিবেচনায় রাখতে হবে। দলটির গণতন্ত্র, মানবাধিকার, আইনের শাসন, অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও সামাজিক ন্যায়বিচার নিয়ে অবস্থান কী- তা জানা জরুরি। তবে দল নয়, ব্যক্তি ও নীতিকে প্রাধান্য দেওয়াই সুনাগরিকের পরিচয়।
নির্বাচনী ইশতেহার ও প্রতিশ্রুতি বিশ্লেষণ
প্রার্থীর নির্বাচনী ইশতেহার ও প্রতিশ্রুতি বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন। প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবসম্মত কি না, সেগুলো বাস্তবায়নের সুস্পষ্ট পরিকল্পনা আছে কি না- তা যাচাই করা জরুরি। অবাস্তব আশ্বাস বা আবেগী বক্তব্যে প্রভাবিত না হয়ে যুক্তিসংগত পরিকল্পনাকে গুরুত্ব দিতে হবে।
এ ছাড়াও, সহনশীলতা ও ঐক্যের মনোভাব থাকা প্রার্থীকেই অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত। যিনি বিভাজন নয়, বরং ধর্ম, বর্ণ ও মতের ভিন্নতা সত্ত্বেও সবাইকে নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার কথা বলেন, তিনিই দেশের জন্য বেশি কল্যাণকর হতে পারেন।
বাংলাদেশের সুনাগরিক হিসেবে ভোট দেওয়ার সময় ব্যক্তি, নীতি ও ভবিষ্যৎ প্রভাব- এই ৩টি বিষয় মাথায় রেখেই সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি। সচেতন ও দায়িত্বশীল ভোটই পারে একটি শক্তিশালী, ন্যায়ভিত্তিক ও উন্নত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে।
>>>>>>>>>>>>>>
ডেঙ্গু প্রতিরোধ করবেন যেভাবে
মশা বাহিত একপ্রকার ভাইরাস জ্বর হলো ডেঙ্গু। এই জ্বর অন্যান্য ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়াজনিত জ্বর থেকে ভিন্ন। অবশ্য এই জ্বর কোনোভাবেই ছোঁয়াচে নয়। এই ভাইরাস জ্বর এককভাবে বা অন্যান্য ভাইরাস (চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, বার্মা ফরেস্ট, ফ্লু, রেসপাইরেটরি সিনসাইটিয়াল) এবং ব্যাকটেরিয়া (নিউমোক্কাস)-এর সঙ্গেও হতে পারে।
লক্ষণ ও জ্বরের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গুজ্বরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে-
১. সাধারণ ডেঙ্গুজ্বর
২. রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বর।
সাধারণ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে চোখে পড়ে মূলত নিচের এই লক্ষণগুলো-
১. হঠাৎ করে তীব্র জ্বর ও তা ২ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হওয়া।
২. তীব্র মাথাব্যথা হওয়া।
৩. চোখের পেছনের অংশে ব্যথা হওয়া।
৪. জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি চোখে পড়া।
৫. সম্পূর্ণ শরীরে তীব্র ব্যথা ও সেইসঙ্গে কোমরে ব্যথা।
৬. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।
৭. ত্বকে র্যাশ বা লাল দানা দানা দেখা দেওয়া।
রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে :
১. ২ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তীব্র জ্বর সঙ্গে নাক, মুখ বা বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া।
২. জ্বরের পাশাপাশি বুকে বা পেটে পানি জমে যাওয়া।
এইসব লক্ষণের যে কোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।
অপরদিকে
জ্বরের প্রথম ৩ দিন বাড়িতে অপেক্ষা করুন। অপরদিকে সারা শরীর পানি দিয়ে স্পঞ্জ করুন কিছুক্ষণ পরপর। এতে করে জ্বরের মাত্রা কমে আসবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান ও বিশ্রাম নিতে হবে। এরপরেও জ্বর না কমলে বা কিছু সময় পরপর বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়:
১. বাড়ির আশপাশ যতোটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করুন।
২. ঘরের ভেতরে থাকা ফুলের টব বা ভাঙা প্লাস্টিকের বোতল, ডাবের খোসা, টায়ার অথবা পলিথিন থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলুন ও ফুলের টব থেকে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করুন।
৩. মশা নিধনের জন্য সপ্তাহে অন্তত ৩ বার স্প্রে বা ফগিং করুন।
৪. বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় মশা নিধনে ব্যবহৃত ক্রিম সঙ্গে রাখতে পারেন।
৫. সন্ধ্যার পর বাড়ির ছোট থেকে বড় সদস্যরা মশারি ব্যবহার করুন।
৬. যেখানে-সেখানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি পরিষ্কার করে ফেলুন, কারণ এতে এডিস মশা ডিম পেড়ে থাকে এই সময়।
৭. অপরদিকে মশার প্রকোপ থেকে বাঁচতে মশারির সঙ্গে সঙ্গে ম্যাট ব্যবহার করতে পারেন।
৮. এডিস মশা যেহেতু দিনের বেলা কামড়ায় তাই দিনের বেলায় ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টানিয়ে ঘুমানোর দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সূত্র: https://dmpnews.org