দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ তরুণ ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য ‘বাংলালিংক পাওয়ার’ নামে নতুন একটি সোশ্যাল ডিস্ট্রিবিউশন প্ল্যাটফর্ম চালু করেছে দেশের শীর্ষ ডিজিটাল অপারেটর বাংলালিংক।

এ প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সাধারণ মোবাইল ব্যবহারকারীরা নিজেদের স্মার্টফোন ব্যবহার করে মোবাইল রিচার্জ বিক্রি করে আয় করতে পারবেন।
বর্তমানে প্ল্যাটফর্মটি অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারীদের জন্য বেটা সংস্করণে চালু রয়েছে। বিভিন্ন উদ্ভাবনী ও কমিউনিটি-ভিত্তিক উদ্যোগের মাধ্যমে মানুষকে ক্ষমতায়নের প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে এই উদ্যোগ নিয়েছে বাংলালিংক।
সম্প্রতি প্ল্যাটফর্মটির বেটা সংস্করণ চালু করা হয়েছে। বর্তমানে ‘টেস্ট অ্যান্ড লার্ন’ পদ্ধতিতে এর বিভিন্ন দিক আরও উন্নত করা হচ্ছে। পূর্ণাঙ্গ সংস্করণ উন্মুক্ত করার আগে ব্যবহারকারীদের অভিজ্ঞতা এবং মতামতের ভিত্তিতে প্ল্যাটফর্মটি আরও পরিমার্জন ও আপডেট করা হবে।
সাধারণ ব্যবহারকারীরা যেন সহজ কয়েকটি ধাপ অনুসরণ করে নিজেরাই খুচরা বিক্রেতা হতে পারেন, সেটা মাথায় রেখেই ‘বাংলালিংক পাওয়ার’ তৈরি করা হয়েছে। রিচার্জ বিক্রি করে তারা কমিশন এবং পুরস্কার পাবেন। কোনো ধরণের প্রাথমিক বিনিয়োগ ছাড়াই আয় করার সুযোগ থাকায় এটি সবার জন্য উন্মুক্ত। তরুণ, নারী কিংবা ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা, যে কেউ এতে যুক্ত হতে পারবেন।
প্ল্যাটফর্মটিতে রয়েছে সহজ নিবন্ধন প্রক্রিয়া। এতে যুক্ত করা হয়েছে ডিজিটাল কেওয়াইসি যাচাই, তাৎক্ষণিক কমিশন হিসাব দেখার সুবিধা এবং পুরস্কার পাওয়ার পুরোপুরি স্বচ্ছ একটি প্রক্তিয়া। ব্যবহারকারীদের জন্য পুরো প্রক্রিয়াটি সহজ, নির্ভরযোগ্য ও ঝামেলামুক্ত রাখতে এসব সুবিধা রাখা হয়েছে।
বেটা সংস্করণ চালুর পর থেকেই প্ল্যাটফর্মটিতে ব্যাপক সাড়া মিলেছে। অল্প সময়েই অনেক খুচরা বিক্রেতা এতে যুক্ত হয়েছেন। এতে বোঝা যায়, নমনীয় আয়ের সুযোগের প্রতি মানুষের আগ্রহ বাড়ছে। সংযোগ ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে কমিউনিটিকে ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে বাংলালিংকের অঙ্গীকারও এতে প্রতিফলিত হয়েছে।
এই বিষয়ে বাংলালিংকের সেলস অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন ডিরেক্টর মোহাম্মদ মেহেদী হাসান বলেন, “ডিজিটাল উদ্ভাবনের মাধ্যমে গ্রাহকদের জন্য অর্থবহ সুযোগ তৈরি করতে আমরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি। বাংলালিংক পাওয়ারের মাধ্যমে আর্থিক ক্ষমতায়ন এবং কমিউনিটি-ভিত্তিক উদ্যোক্তা তৈরিতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এতে আরও বেশি মানুষ বাংলাদেশের দ্রুত বিকাশমান ডিজিটাল অর্থনীতির সঙ্গে যুক্ত হতে পারবেন।”
অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারীরা গুগল প্লে স্টোর থেকে অ্যাপটি ডাউনলোড করতে পারবেন।
খবর সংবাদ বিজ্ঞপ্তির।
>>>>>>>>>>>>>>
ডেঙ্গু প্রতিরোধ করবেন যেভাবে
মশা বাহিত একপ্রকার ভাইরাস জ্বর হলো ডেঙ্গু। এই জ্বর অন্যান্য ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়াজনিত জ্বর থেকে ভিন্ন। অবশ্য এই জ্বর কোনোভাবেই ছোঁয়াচে নয়। এই ভাইরাস জ্বর এককভাবে বা অন্যান্য ভাইরাস (চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, বার্মা ফরেস্ট, ফ্লু, রেসপাইরেটরি সিনসাইটিয়াল) এবং ব্যাকটেরিয়া (নিউমোক্কাস)-এর সঙ্গেও হতে পারে।
লক্ষণ ও জ্বরের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গুজ্বরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে-
১. সাধারণ ডেঙ্গুজ্বর।
২. রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বর।
সাধারণ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে চোখে পড়ে মূলত নিচের এই লক্ষণগুলো-
১. হঠাৎ করে তীব্র জ্বর ও তা ২ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হওয়া।
২. তীব্র মাথাব্যথা হওয়া।
৩. চোখের পেছনের অংশে ব্যথা হওয়া।
৪. জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি চোখে পড়া।
৫. সম্পূর্ণ শরীরে তীব্র ব্যথা ও সেইসঙ্গে কোমরে ব্যথা।
৬. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।
৭. ত্বকে র্যাশ বা লাল দানা দানা দেখা দেওয়া।
রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে :
১. ২ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তীব্র জ্বর সঙ্গে নাক, মুখ বা বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া।
২. জ্বরের পাশাপাশি বুকে বা পেটে পানি জমে যাওয়া।
এইসব লক্ষণের যে কোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।
অপরদিকে
জ্বরের প্রথম ৩ দিন বাড়িতে অপেক্ষা করুন। অপরদিকে সারা শরীর পানি দিয়ে স্পঞ্জ করুন কিছুক্ষণ পরপর। এতে করে জ্বরের মাত্রা কমে আসবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান ও বিশ্রাম নিতে হবে। এরপরেও জ্বর না কমলে বা কিছু সময় পরপর বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়:
১. বাড়ির আশপাশ যতোটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করুন।
২. ঘরের ভেতরে থাকা ফুলের টব বা ভাঙা প্লাস্টিকের বোতল, ডাবের খোসা, টায়ার অথবা পলিথিন থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলুন ও ফুলের টব থেকে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করুন।
৩. মশা নিধনের জন্য সপ্তাহে অন্তত ৩ বার স্প্রে বা ফগিং করুন।
৪. বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় মশা নিধনে ব্যবহৃত ক্রিম সঙ্গে রাখতে পারেন।
৫. সন্ধ্যার পর বাড়ির ছোট থেকে বড় সদস্যরা মশারি ব্যবহার করুন।
৬. যেখানে-সেখানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি পরিষ্কার করে ফেলুন, কারণ এতে এডিস মশা ডিম পেড়ে থাকে এই সময়।
৭. অপরদিকে মশার প্রকোপ থেকে বাঁচতে মশারির সঙ্গে সঙ্গে ম্যাট ব্যবহার করতে পারেন।
৮. এডিস মশা যেহেতু দিনের বেলা কামড়ায় তাই দিনের বেলায় ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টানিয়ে ঘুমানোর দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সূত্র: https://dmpnews.org