The Dhaka Times
তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে রাখার প্রত্যয়ে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সামাজিক ম্যাগাজিন।

ঢাকাসহ ৪ সিটিতে হামের টিকা দেওয়া হচ্ছে আজ

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ দেশে হামের ক্রমবর্ধমান প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণসহ মোট ৪টি সিটি করপোরেশন এলাকায় আজ (রবিবার) থেকে বিশেষ হাম-রুবেলা টিকাদান কার্যক্রম শুরু হচ্ছে।

ঢাকাসহ ৪ সিটিতে হামের টিকা দেওয়া হচ্ছে আজ 1

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে, রবিবার (১২ এপ্রিল) থেকে শুরু হওয়া এই কর্মসূচি আগামী ২০ এপ্রিল পর্যন্ত চলমান থাকবে।

ঢাকা ছাড়াও ময়মনসিংহ এবং বরিশাল সিটি করপোরেশন এলাকায় এই টিকাদান কার্যক্রমটি পরিচালিত হবে। মূলত ৬ মাস হতে ৫ বছর বয়সী শিশুদের এই মরণঘাতী রোগ হতে সুরক্ষা দিতেই সরকারের পক্ষ থেকে এই জরুরি উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী এই কার্যক্রমের বিস্তারিত তুলে ধরে জানিয়েছেন, ৪টি সিটি করপোরেশন এলাকায় মোট ১২ লাখ ১৯ হাজার ৯৫৭ জন শিশুকে টিকা দেওয়ার জন্য লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

সাপ্তাহিক ছুটির দিন ব্যতীত প্রতিদিন সকাল ৯টা হতে বিকেল ৫টা পর্যন্ত নির্ধারিত টিকাদান কেন্দ্রগুলোতে শিশুদের এই টিকা দেওয়া হবে। শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় এই কর্মসূচি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও অভিভাবকদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিকটস্থ কেন্দ্রে শিশুদের নিয়ে আসার জন্য অনুরোধও জানানো হয়েছে।

বর্তমান হাম পরিস্থিতির অবনতি নিয়ে স্বাস্থ্য সচিব বিগত প্রশাসনের সীমাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করেন। তিনি দাবি করেন যে, বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সময় টিকাদান কর্মসূচিতে কিছু ত্রুটি কিংবা ভুলের কারণে দেশে বর্তমানে হামের প্রকোপ বৃদ্ধি পেয়েছে। তার মতে, নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি সঠিকভাবে চলমান থাকলে আজ এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হতো না।

উল্লেখ্য যে, গত ৫ এপ্রিল থেকেই দেশে হাম প্রতিরোধে বিশেষ ক্যাম্পেইন শুরু হয়েছে ও ওই দিন থেকে ১৮টি জেলার ৩০টি উপজেলায় এমআর টিকা প্রয়োগ কার্যক্রমও চলমান রয়েছে।

নোয়াখালীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সম্প্রতি হামের প্রকোপ বাড়ার খবর পাওয়া যায় এবং অনেক শিশুকে আইসোলেশনে রাখা হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে বড় শহরগুলোতে যাতে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়তে না পারে, সেজন্যই সিটি করপোরেশন এলাকাগুলোতে বাড়তি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মীরা এই বিশেষ টিকাদান কার্যক্রম সফল করতে মাঠপর্যায়ে কাজ করে যাচ্ছেন। শিশুদের সুরক্ষায় সরকারের এই বিশেষ এমআর ক্যাম্পেইন একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।

>>>>>>>>>>>>>>

ডেঙ্গু প্রতিরোধ করবেন যেভাবে

মশা বাহিত একপ্রকার ভাইরাস জ্বর হলো ডেঙ্গু। এই জ্বর অন্যান্য ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়াজনিত জ্বর থেকে ভিন্ন। অবশ্য এই জ্বর কোনোভাবেই ছোঁয়াচে নয়। এই ভাইরাস জ্বর এককভাবে বা অন্যান্য ভাইরাস (চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, বার্মা ফরেস্ট, ফ্লু, রেসপাইরেটরি সিনসাইটিয়াল) এবং ব্যাকটেরিয়া (নিউমোক্কাস)-এর সঙ্গেও হতে পারে।

লক্ষণ ও জ্বরের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গুজ্বরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে-

১. সাধারণ ডেঙ্গুজ্বর।

২. রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বর।

সাধারণ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে চোখে পড়ে মূলত নিচের এই লক্ষণগুলো-

১. হঠাৎ করে তীব্র জ্বর ও তা ২ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হওয়া।

২. তীব্র মাথাব্যথা হওয়া।

৩. চোখের পেছনের অংশে ব্যথা হওয়া।

৪. জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি চোখে পড়া।

৫. সম্পূর্ণ শরীরে তীব্র ব্যথা ও সেইসঙ্গে কোমরে ব্যথা।

৬. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।

৭. ত্বকে র‌্যাশ বা লাল দানা দানা দেখা দেওয়া।

রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে :

১. ২ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তীব্র জ্বর সঙ্গে নাক, মুখ বা বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া।

২. জ্বরের পাশাপাশি বুকে বা পেটে পানি জমে যাওয়া।

এইসব লক্ষণের যে কোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।

অপরদিকে

জ্বরের প্রথম ৩ দিন বাড়িতে অপেক্ষা করুন। অপরদিকে সারা শরীর পানি দিয়ে স্পঞ্জ করুন কিছুক্ষণ পরপর। এতে করে জ্বরের মাত্রা কমে আসবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান ও বিশ্রাম নিতে হবে। এরপরেও জ্বর না কমলে বা কিছু সময় পরপর বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়:

১. বাড়ির আশপাশ যতোটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করুন।

২. ঘরের ভেতরে থাকা ফুলের টব বা ভাঙা প্লাস্টিকের বোতল, ডাবের খোসা, টায়ার অথবা পলিথিন থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলুন ও ফুলের টব থেকে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করুন।

৩. মশা নিধনের জন্য সপ্তাহে অন্তত ৩ বার স্প্রে বা ফগিং করুন।

৪. বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় মশা নিধনে ব্যবহৃত ক্রিম সঙ্গে রাখতে পারেন।

৫. সন্ধ্যার পর বাড়ির ছোট থেকে বড় সদস্যরা মশারি ব্যবহার করুন।

৬. যেখানে-সেখানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি পরিষ্কার করে ফেলুন, কারণ এতে এডিস মশা ডিম পেড়ে থাকে এই সময়।

৭. অপরদিকে মশার প্রকোপ থেকে বাঁচতে মশারির সঙ্গে সঙ্গে ম্যাট ব্যবহার করতে পারেন।

৮. এডিস মশা যেহেতু দিনের বেলা কামড়ায় তাই দিনের বেলায় ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টানিয়ে ঘুমানোর দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সূত্র: https://dmpnews.org

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো
Loading...
bn_BDBengali