দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ উপায় গ্রাহকদের জন্যে সহজলভ্য ও সাশ্রয়ী ইন্স্যুরেন্স এবং স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সম্প্রতি ইউসিবি ফিনটেক কোম্পানি লিমিটেড (উপায়)-এর সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর করেছে গার্ডিয়ান লাইফ ইন্স্যুরেন্স লিমিটেডে।

দেশের তৈরি পোশাক খাতের কর্মীদের পাশাপাশি উপায় ইকোসিস্টেমের সঙ্গে যুক্ত এজেন্ট, ডিএসও ও পরিবেশকদের—যাদের অনেকেই এখনো প্রাতিষ্ঠানিক আর্থিক সুরক্ষা সেবার বাইরে—বিশেষ অগ্রাধিকার দিয়ে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এই অংশীদারিত্বের আওতায় গার্ডিয়ান দিচ্ছে একটি সমন্বিত সুরক্ষা প্যাকেজ, যার মধ্যে থাকছে লাইফ ইন্স্যুরেন্স, ডিসএবিলটি বা অক্ষমতা ইন্স্যুরেন্স এবং হেল্থ ইন্স্যুরেন্স কাভারেজ। এর পাশাপাশি গ্রাহকরা পাবেন প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা- ২৪ ঘণ্টা টেলি-ডাক্তার পরামর্শ, হাসপাতাল সেবায় ছাড় এবং দুর্ঘটনাজনিত কারণে হাসপাতালে ভর্তি সংক্রান্ত সুবিধা। পুরো প্যাকেজটি এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে, যাতে উপায়ের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে খুব সহজেই এ সেবা গ্রহণ করা যায়।
চুক্তিটি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষর করেন গার্ডিয়ান লাইফ ইন্স্যুরেন্স লিমিটেডের চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার শেখ রকিবুল করিম, এফসিএ, এবং উপায়ের কর্পোরেট সেলস হেড সাজ্জাদ আলম। অন্তর্ভুক্তিমূলক ইন্স্যুরেন্স সেবা বিস্তারের যাত্রায়, এই অংশীদারিত্ব গার্ডিয়ানের জন্য একটি নতুন ধাপ।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন গার্ডিয়ানের পক্ষ থেকে আব্দুল হালিম, ইভিপি ও হেড অব মাইক্রো ইন্স্যুরেন্স, ডিজিটাল চ্যানেল এবং এডিসি; মো. নওশাদুল করিম চৌধুরী, ভাইস প্রেসিডেন্ট; মো. শাহারিয়ার জামিল আবির, বিজনেস ডেভেলপমেন্ট ম্যানেজার; এবং আল-আমিন, ডেপুটি ম্যানেজার।
অন্যদিকে উপায়ের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন মো. নুরুজ্জামান তুহিন, জেনারেল ম্যানেজার, কর্পোরেট সেলস; অভিজিৎ গোপ তপু, কি অ্যাকাউন্ট ম্যানেজার; এবং ইমরান হাসান রিমন, কি অ্যাকাউন্ট ম্যানেজার, মার্চেন্ট বিজনেস।
এই অংশীদারিত্বের বৃহত্তর লক্ষ্য নিয়ে শেখ রকিবুল করিম বলেন, “আমাদের লক্ষ্য মানুষের দৈনন্দিন জীবনের বাস্তবতার সঙ্গে ইন্স্যুরেন্সকে আরও ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত করা। বিশেষ করে, তৈরি পোশাক খাতের কর্মীদের মতো সকল পরিশ্রমী মানুষের জন্য আর্থিক সুরক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। উপায়-এর সঙ্গে এই অংশীদারিত্ব আমাদেরকে আরও কার্যকরভাবে মানুষের কাছে পৌঁছাতে এবং তাদের বাস্তব চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, সাশ্রয়ী ও প্রাসঙ্গিক সমাধান দিতে সহায়তা করবে।”
গার্ডিয়ান লাইফ ইন্স্যুরেন্সের এই উদ্যোগ মূলত অংশীদারিত্ব এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বীমা সেবাকে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার একটি প্রচেষ্টা। দৈনন্দিন আর্থিক সেবার সঙ্গে বীমা সুরক্ষাকে যুক্ত করে কর্মজীবী মানুষ ও তাদের পরিবারের জন্য সহজলভ্য এবং সাশ্রয়ী সমাধান দেওয়াই প্রতিষ্ঠানটির মূল লক্ষ্য। এই পদক্ষেপটি কেবল একটি নিরাপদ ও সুরক্ষিত জনবলই তৈরি করবে না, বরং দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং ডিজিটাল অগ্রযাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
খবর সংবাদ বিজ্ঞপ্তির।
>>>>>>>>>>>>>>
ডেঙ্গু প্রতিরোধ করবেন যেভাবে
মশা বাহিত একপ্রকার ভাইরাস জ্বর হলো ডেঙ্গু। এই জ্বর অন্যান্য ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়াজনিত জ্বর থেকে ভিন্ন। অবশ্য এই জ্বর কোনোভাবেই ছোঁয়াচে নয়। এই ভাইরাস জ্বর এককভাবে বা অন্যান্য ভাইরাস (চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, বার্মা ফরেস্ট, ফ্লু, রেসপাইরেটরি সিনসাইটিয়াল) এবং ব্যাকটেরিয়া (নিউমোক্কাস)-এর সঙ্গেও হতে পারে।
লক্ষণ ও জ্বরের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গুজ্বরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে-
১. সাধারণ ডেঙ্গুজ্বর।
২. রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বর।
সাধারণ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে চোখে পড়ে মূলত নিচের এই লক্ষণগুলো-
১. হঠাৎ করে তীব্র জ্বর ও তা ২ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হওয়া।
২. তীব্র মাথাব্যথা হওয়া।
৩. চোখের পেছনের অংশে ব্যথা হওয়া।
৪. জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি চোখে পড়া।
৫. সম্পূর্ণ শরীরে তীব্র ব্যথা ও সেইসঙ্গে কোমরে ব্যথা।
৬. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।
৭. ত্বকে র্যাশ বা লাল দানা দানা দেখা দেওয়া।
রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে :
১. ২ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তীব্র জ্বর সঙ্গে নাক, মুখ বা বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া।
২. জ্বরের পাশাপাশি বুকে বা পেটে পানি জমে যাওয়া।
এইসব লক্ষণের যে কোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।
অপরদিকে
জ্বরের প্রথম ৩ দিন বাড়িতে অপেক্ষা করুন। অপরদিকে সারা শরীর পানি দিয়ে স্পঞ্জ করুন কিছুক্ষণ পরপর। এতে করে জ্বরের মাত্রা কমে আসবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান ও বিশ্রাম নিতে হবে। এরপরেও জ্বর না কমলে বা কিছু সময় পরপর বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়:
১. বাড়ির আশপাশ যতোটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করুন।
২. ঘরের ভেতরে থাকা ফুলের টব বা ভাঙা প্লাস্টিকের বোতল, ডাবের খোসা, টায়ার অথবা পলিথিন থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলুন ও ফুলের টব থেকে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করুন।
৩. মশা নিধনের জন্য সপ্তাহে অন্তত ৩ বার স্প্রে বা ফগিং করুন।
৪. বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় মশা নিধনে ব্যবহৃত ক্রিম সঙ্গে রাখতে পারেন।
৫. সন্ধ্যার পর বাড়ির ছোট থেকে বড় সদস্যরা মশারি ব্যবহার করুন।
৬. যেখানে-সেখানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি পরিষ্কার করে ফেলুন, কারণ এতে এডিস মশা ডিম পেড়ে থাকে এই সময়।
৭. অপরদিকে মশার প্রকোপ থেকে বাঁচতে মশারির সঙ্গে সঙ্গে ম্যাট ব্যবহার করতে পারেন।
৮. এডিস মশা যেহেতু দিনের বেলা কামড়ায় তাই দিনের বেলায় ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টানিয়ে ঘুমানোর দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সূত্র: https://dmpnews.org