দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ ‘অদম্য গার্ডিয়ান’ স্লোগানকে সামনে রেখে আজ ২০ আগস্ট কক্সবাজারে অনুষ্ঠিত হয়ে গেলো গার্ডিয়ান লাইফ ইন্স্যুরেন্স লিমিটেডের বার্ষিক সেলস কনফারেন্স ২০২৬।

উৎসবমুখর এই আয়োজনে গার্ডিয়ানের সেলস কমিউনিটির নিষ্ঠা, সাফল্য এবং অসামান্য অবদান উদযাপন করা হয়।
কক্সবাজারে অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ৯০০ জনেরও বেশি সেলস লিডার এবং ফাইন্যান্সিয়াল অ্যাডভাইজার অংশগ্রহণ করেন। গত বছরের অর্জন উদযাপনের পাশাপাশি গার্ডিয়ানের সেলস ফোর্সের অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি এবং পারস্পরিক সম্প্রীতি আরও দৃঢ় করার মধ্য দিয়ে দিনব্যাপী এই আয়োজন হয়ে ওঠে উৎসবমুখর। কনফারেন্সে বিগত বছরের অসামান্য অবদান এবং সাফল্যের জন্য ১৮ জন সেরা কর্মীকে পুরষ্কার ও স্বীকৃতি প্রদান করা হয়।
গার্ডিয়ানের কো-ফাউন্ডার ও স্পন্সর তপন চৌধুরী ভিডিও বার্তার মাধ্যমে সম্মেলনে অংশগ্রহণকারীদের উদ্দেশে বলেন, “গার্ডিয়ান আজকে যে অবস্থানে পৌঁছেছে সেটি সম্ভব হয়েছে আপনাদের অক্লান্ত পরিশ্রম, নিষ্ঠা, সাহস এবং স্পেশাল স্যাক্রিফাইস বা আত্মত্যাগের জন্য। আমাদের এই অর্জনে আসল মাঠের খেলোয়াড় কিন্তু আপনারাই।”
“আজ আমরা প্রায় এক কোটি ৩২ লক্ষেরও বেশি মানুষের কাছে আমাদের বিমার সুরক্ষা পৌঁছে দিতে পেরেছি এবং এ অর্জন কিন্তু আমাদের সবার অর্জন। তাই আজ আমি গর্বের সঙ্গে বলতে চাই, আপনারা গার্ডিয়ানের প্রকৃত শক্তি, আপনারা আমাদের সাফল্যের আসল নায়ক, আপনারা অদম্য গার্ডিয়ান,” যোগ করেন তিনি।
কনফারেন্সে উপস্থিত ছিলেন গার্ডিয়ানের স্পন্সর ডিরেক্টর সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর। তিনি বলেন, “আপনাদের সততা, পেশাদারিত্ব এবং নিরলস পরিশ্রমের মাধ্যমেই গার্ডিয়ান মানুষের এ আস্থা অর্জন করেতে পেরেছে। প্রিয় অদম্য গার্ডিয়ানবৃন্দ, আপনাদের এবং আমাদের সবার লক্ষ্য বাংলাদেশের প্রতিটি পরিবারকে বিমা সুরক্ষার আওতায় নিয়ে আসা। এই লক্ষ্যে পৌঁছাতে হলে প্রয়োজন আমাদের দলীয়ভাবে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে সকল বাধা এবং চ্যালেঞ্জ যথাযথভাবে মোকাবেলা করে দুর্বার গতিতে এগিয়ে যাওয়া।”
গার্ডিয়ান লাইফ ইন্স্যুরেন্স লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ রকিবুল করিম, এফসিএ, বলেন, “গার্ডিয়ানে আমাদের অগ্রগতির মূল চালিকাশক্তি প্রতিদিন নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে যাওয়া আমাদের কর্মীরা। তাদের প্রতিশ্রুতি, শৃঙ্খলা ও নিবেদনই আমাদের এ সাফল্য অর্জনে এবং গ্রাহকদেরকে করা প্রতিশ্রুতি পূরণে ভূমিকা পালন করেছে। এই আয়োজন আমাদের সেই মানুষগুলোর অবদানকে স্বীকৃতি দেওয়া এবং তাদের সাফল্য উদযাপনের দারুণ এক উপলক্ষ্য।”
অনুষ্ঠানে গার্ডিয়ানের চিফ রিটেইল বিজনেস অফিসার মাহমুদুর রহমান খান বলেন, “রিটেইল ব্যবসায় আমাদের শক্তির জায়গা হলো গ্রাহকদের সঙ্গে আমাদের সহকর্মীদের গড়ে তোলা পারস্পরিক সম্পর্ক। গ্রাহকদের চাহিদা বুঝতে পারা এবং তাদের আস্থা অর্জনের মাধ্যমে আমরা দেশের আরও বেশি মানুষের কাছে বিমা সুরক্ষা পৌঁছে দিতে পারি।”
দিনব্যাপী আয়োজনে পারফরম্যান্স রিভিউ এবং কৌশলগত ওয়ার্কশপের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীরা সাম্প্রতিক অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা করেন। পাশাপাশি, আগামী বছরের জন্য কোম্পানির অগ্রাধিকার এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে মতবিনিময় করেন তারা।
খবর সংবাদ বিজ্ঞপ্তির।
>>>>>>>>>>>>>>
ডেঙ্গু প্রতিরোধ করবেন যেভাবে
মশা বাহিত একপ্রকার ভাইরাস জ্বর হলো ডেঙ্গু। এই জ্বর অন্যান্য ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়াজনিত জ্বর থেকে ভিন্ন। অবশ্য এই জ্বর কোনোভাবেই ছোঁয়াচে নয়। এই ভাইরাস জ্বর এককভাবে বা অন্যান্য ভাইরাস (চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, বার্মা ফরেস্ট, ফ্লু, রেসপাইরেটরি সিনসাইটিয়াল) এবং ব্যাকটেরিয়া (নিউমোক্কাস)-এর সঙ্গেও হতে পারে।
লক্ষণ ও জ্বরের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গুজ্বরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে-
১. সাধারণ ডেঙ্গুজ্বর।
২. রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বর।
সাধারণ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে চোখে পড়ে মূলত নিচের এই লক্ষণগুলো-
১. হঠাৎ করে তীব্র জ্বর ও তা ২ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হওয়া।
২. তীব্র মাথাব্যথা হওয়া।
৩. চোখের পেছনের অংশে ব্যথা হওয়া।
৪. জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি চোখে পড়া।
৫. সম্পূর্ণ শরীরে তীব্র ব্যথা ও সেইসঙ্গে কোমরে ব্যথা।
৬. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।
৭. ত্বকে র্যাশ বা লাল দানা দানা দেখা দেওয়া।
রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে :
১. ২ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তীব্র জ্বর সঙ্গে নাক, মুখ বা বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া।
২. জ্বরের পাশাপাশি বুকে বা পেটে পানি জমে যাওয়া।
এইসব লক্ষণের যে কোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।
অপরদিকে
জ্বরের প্রথম ৩ দিন বাড়িতে অপেক্ষা করুন। অপরদিকে সারা শরীর পানি দিয়ে স্পঞ্জ করুন কিছুক্ষণ পরপর। এতে করে জ্বরের মাত্রা কমে আসবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান ও বিশ্রাম নিতে হবে। এরপরেও জ্বর না কমলে বা কিছু সময় পরপর বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়:
১. বাড়ির আশপাশ যতোটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করুন।
২. ঘরের ভেতরে থাকা ফুলের টব বা ভাঙা প্লাস্টিকের বোতল, ডাবের খোসা, টায়ার অথবা পলিথিন থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলুন ও ফুলের টব থেকে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করুন।
৩. মশা নিধনের জন্য সপ্তাহে অন্তত ৩ বার স্প্রে বা ফগিং করুন।
৪. বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় মশা নিধনে ব্যবহৃত ক্রিম সঙ্গে রাখতে পারেন।
৫. সন্ধ্যার পর বাড়ির ছোট থেকে বড় সদস্যরা মশারি ব্যবহার করুন।
৬. যেখানে-সেখানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি পরিষ্কার করে ফেলুন, কারণ এতে এডিস মশা ডিম পেড়ে থাকে এই সময়।
৭. অপরদিকে মশার প্রকোপ থেকে বাঁচতে মশারির সঙ্গে সঙ্গে ম্যাট ব্যবহার করতে পারেন।
৮. এডিস মশা যেহেতু দিনের বেলা কামড়ায় তাই দিনের বেলায় ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টানিয়ে ঘুমানোর দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সূত্র: https://dmpnews.org