দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ ইন্স্যুরেন্স সুরক্ষা প্রদানের লক্ষ্যে দেশের অন্যতম শীর্ষ বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান রেকিট বাংলাদেশ পিএলসি-এর সঙ্গে একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে গার্ডিয়ান লাইফ ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড।

এই চুক্তির ফলে রেকিট বাংলাদেশ পিএলসির কর্মী এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যরা গার্ডিয়ানের আর্থিক ও স্বাস্থ্য সুরক্ষার আওতায় আসবেন। পাশাপাশি, তাঁরা খুব সহজেই মানসম্মত চিকিৎসাসুবিধা গ্রহণ করতে পারবেন।
গত ৫ মে, বুধবার, ঢাকার গুলশানে গার্ডিয়ানের প্রধান কার্যালয়ে চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়। গার্ডিয়ানের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) শেখ রকিবুল করিম, এফসিএ এবং রেকিট বাংলাদেশ পিএলসি’র কমার্শিয়াল এইচআর হেড (বাংলাদেশ) অনিন্দিতা ত্রিশা নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।
এই অংশীদারিত্ব সম্পর্কে শেখ রকিবুল করিম, এফসিএ বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি, কর্মী ও তাঁদের পরিবারের সুরক্ষা নিশ্চিত করা একটি শক্তিশালী ও দক্ষ প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। রেকিট বাংলাদেশ পিএলসি’র সঙ্গে এই অংশীদারিত্বের মাধ্যমে আমরা তাদের কর্মী ও পরিবারের সদস্যদের লাইফ ইন্স্যুরেন্স ও চিকিৎসাসুবিধা দিচ্ছি। এতে কর্মীরা মানসিক স্বস্তি পাবেন এবং নিজেদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনে আরও মনোযোগী হতে পারবেন।’
রেকিট বাংলাদেশ পিএলসি’র কমার্শিয়াল এইচআর হেড (বাংলাদেশ) অনিন্দিতা ত্রিশা বলেন, ‘ডিজিটাল প্রযুক্তির সফল ব্যবহারের মাধ্যমে ইন্স্যুরেন্স এর ক্লেইম জমা দেওয়ার প্রক্রিয়াকে আধুনিকায়ন করেছে গার্ডিয়ান। ফলে পুরো প্রক্রিয়াটি এখন আরও সহজ, দ্রুত ও গ্রাহকবান্ধব হয়েছে।’
অনুষ্ঠানে গার্ডিয়ানের চিফ এন্টারপ্রাইজ বিজনেস অফিসার সানিয়াত রহমান, সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট অ্যান্ড হেড অব গ্রুপ বিজনেস গাজী রাফি আহমেদ শামস, সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট অ্যান্ড ডেপুটি হেড অব গ্রুপ সার্ভিসেস ইফতেখার আহমেদ, সিনিয়র অ্যাসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট অ্যান্ড গ্রুপ বিজনেস লিড মোহাম্মদ শোয়েব এবং কি অ্যাকাউন্ট ম্যানেজার মুবাসসির বুশরা উপস্থিত ছিলেন।
রেকিট বাংলাদেশ পিএলসি’র পক্ষে উপস্থিত ছিলেন লিড, ওয়ার্কপ্লেস, ফ্যাসিলিটি অ্যান্ড রিয়েল এস্টেট সাইফ মুহাম্মদ আনোয়ার এবং লিড, অপারেশনস, পেরোল অ্যান্ড কমপ্লায়েন্স শাহ নাঈমুর রহমান। এ ছাড়াও দুই প্রতিষ্ঠানের আরও জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বর্তমানে গার্ডিয়ান ৫০০টির বেশি করপোরেট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করছে। পাশাপাশি দেশজুড়ে ৪৫০টির বেশি পার্টনার হাসপাতালের মাধ্যমে গার্ডিয়ানের গ্রাহকেরা নিরবচ্ছিন্ন স্বাস্থ্যসেবা পাচ্ছেন। এর মাধ্যমে দেশের ১ কোটি ৩০ লাখের বেশি মানুষ গার্ডিয়ানের ইন্স্যুরেন্স সুরক্ষার আওতায় এসেছেন।
ক্যাশলেস সুবিধার মাধ্যমে কোনো পেমেন্টের ঝামেলা ছাড়াই গ্রাহকেরা গার্ডিয়ান লাইফ অ্যাপ এবং ২৪/৭ হেল্পলাইন (১৬৬২২) ব্যবহার করে পার্টনার হাসপাতাল থেকে নির্বিঘ্নে স্বাস্থ্যসেবা নিতে পারেন। এ ছাড়া গ্রাহকদের সুবিধার কথা বিবেচনায় গার্ডিয়ানের রয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক চ্যাটবট ও টেলিমেডিসিন সেবা।
খবর সংবাদ বিজ্ঞপ্তির।
>>>>>>>>>>>>>>
ডেঙ্গু প্রতিরোধ করবেন যেভাবে
মশা বাহিত একপ্রকার ভাইরাস জ্বর হলো ডেঙ্গু। এই জ্বর অন্যান্য ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়াজনিত জ্বর থেকে ভিন্ন। অবশ্য এই জ্বর কোনোভাবেই ছোঁয়াচে নয়। এই ভাইরাস জ্বর এককভাবে বা অন্যান্য ভাইরাস (চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, বার্মা ফরেস্ট, ফ্লু, রেসপাইরেটরি সিনসাইটিয়াল) এবং ব্যাকটেরিয়া (নিউমোক্কাস)-এর সঙ্গেও হতে পারে।
লক্ষণ ও জ্বরের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গুজ্বরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে-
১. সাধারণ ডেঙ্গুজ্বর।
২. রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বর।
সাধারণ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে চোখে পড়ে মূলত নিচের এই লক্ষণগুলো-
১. হঠাৎ করে তীব্র জ্বর ও তা ২ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হওয়া।
২. তীব্র মাথাব্যথা হওয়া।
৩. চোখের পেছনের অংশে ব্যথা হওয়া।
৪. জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি চোখে পড়া।
৫. সম্পূর্ণ শরীরে তীব্র ব্যথা ও সেইসঙ্গে কোমরে ব্যথা।
৬. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।
৭. ত্বকে র্যাশ বা লাল দানা দানা দেখা দেওয়া।
রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে :
১. ২ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তীব্র জ্বর সঙ্গে নাক, মুখ বা বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া।
২. জ্বরের পাশাপাশি বুকে বা পেটে পানি জমে যাওয়া।
এইসব লক্ষণের যে কোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।
অপরদিকে
জ্বরের প্রথম ৩ দিন বাড়িতে অপেক্ষা করুন। অপরদিকে সারা শরীর পানি দিয়ে স্পঞ্জ করুন কিছুক্ষণ পরপর। এতে করে জ্বরের মাত্রা কমে আসবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান ও বিশ্রাম নিতে হবে। এরপরেও জ্বর না কমলে বা কিছু সময় পরপর বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়:
১. বাড়ির আশপাশ যতোটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করুন।
২. ঘরের ভেতরে থাকা ফুলের টব বা ভাঙা প্লাস্টিকের বোতল, ডাবের খোসা, টায়ার অথবা পলিথিন থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলুন ও ফুলের টব থেকে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করুন।
৩. মশা নিধনের জন্য সপ্তাহে অন্তত ৩ বার স্প্রে বা ফগিং করুন।
৪. বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় মশা নিধনে ব্যবহৃত ক্রিম সঙ্গে রাখতে পারেন।
৫. সন্ধ্যার পর বাড়ির ছোট থেকে বড় সদস্যরা মশারি ব্যবহার করুন।
৬. যেখানে-সেখানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি পরিষ্কার করে ফেলুন, কারণ এতে এডিস মশা ডিম পেড়ে থাকে এই সময়।
৭. অপরদিকে মশার প্রকোপ থেকে বাঁচতে মশারির সঙ্গে সঙ্গে ম্যাট ব্যবহার করতে পারেন।
৮. এডিস মশা যেহেতু দিনের বেলা কামড়ায় তাই দিনের বেলায় ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টানিয়ে ঘুমানোর দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সূত্র: https://dmpnews.org