দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ একসময় মরুভূমিকে শুধু অনুর্বর ও বসবাসের অনুপযোগী এলাকা হিসেবে ধরা হতো। কিন্তু বর্তমানে বিশ্বের কয়েকটি দেশ মরুভূমিকে আধুনিক সবুজ শহরে রূপান্তরের কাজ শুরু করেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি হতে পারে ভবিষ্যতের অন্যতম বিস্ময়কর নগর উন্নয়ন প্রকল্প। মধ্যপ্রাচ্যের কিছু দেশে মরুভূমির বালু ব্যবহার করে নতুন ধরনের নির্মাণসামগ্রী তৈরি করা হচ্ছে। সাধারণ বালু দিয়ে সবসময় শক্ত কংক্রিট তৈরি সম্ভব হয় না। কিন্তু নতুন প্রযুক্তির মাধ্যমে মরুভূমির বালুকণাকে বিশেষ রাসায়নিক উপায়ে ব্যবহার করে শক্ত ও পরিবেশবান্ধব ব্লক তৈরি করা হচ্ছে।
এই শহরগুলোতে থাকবে সৌরবিদ্যুৎ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ন্ত্রিত পরিবহন ব্যবস্থা এবং পানির পুনর্ব্যবহার প্রযুক্তি। সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো, কিছু শহরে গাছপালার জন্য বিশেষ কৃত্রিম মেঘ তৈরির প্রযুক্তিও পরীক্ষামূলকভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিশ্বের জনসংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নতুন শহরের প্রয়োজন হবে। কিন্তু বনভূমি ধ্বংস করে নতুন শহর তৈরি করলে পরিবেশের ক্ষতি হবে। তাই মরুভূমিকে ব্যবহারযোগ্য করে তোলার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
এই প্রকল্পের আরেকটি বড় লক্ষ্য হলো জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা করা। মরুভূমিতে তাপমাত্রা অত্যন্ত বেশি থাকে। তাই সেখানে এমন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে, যা কম বিদ্যুৎ ব্যবহার করে শহর ঠান্ডা রাখতে পারে।
তবে সমালোচকরাও আছেন। তারা বলছেন, মরুভূমিতে বিশাল শহর গড়ে তুলতে প্রচুর অর্থ ব্যয় হবে। এছাড়া পানির জোগান নিশ্চিত করাও কঠিন চ্যালেঞ্জ। কিন্তু প্রযুক্তিবিদরা মনে করছেন, ভবিষ্যতের জন্য এখন থেকেই এই ধরনের উদ্যোগ প্রয়োজন।
বিশ্বজুড়ে নগর পরিকল্পনাবিদরা এই প্রকল্পগুলোর দিকে নজর রাখছেন। কারণ সফল হলে ভবিষ্যতে পৃথিবীর বহু অনুর্বর অঞ্চলকে বাসযোগ্য করা সম্ভব হতে পারে। মরুভূমির বালু দিয়েই হয়তো তৈরি হবে আগামী দিনের পরিবেশবান্ধব আধুনিক শহর।
>>>>>>>>>>>>>>
মশা বাহিত একপ্রকার ভাইরাস জ্বর হলো ডেঙ্গু। এই জ্বর অন্যান্য ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়াজনিত জ্বর থেকে ভিন্ন। অবশ্য এই জ্বর কোনোভাবেই ছোঁয়াচে নয়। এই ভাইরাস জ্বর এককভাবে বা অন্যান্য ভাইরাস (চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, বার্মা ফরেস্ট, ফ্লু, রেসপাইরেটরি সিনসাইটিয়াল) এবং ব্যাকটেরিয়া (নিউমোক্কাস)-এর সঙ্গেও হতে পারে।
লক্ষণ ও জ্বরের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গুজ্বরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে-
১. সাধারণ ডেঙ্গুজ্বর।
২. রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বর।
সাধারণ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে চোখে পড়ে মূলত নিচের এই লক্ষণগুলো-
১. হঠাৎ করে তীব্র জ্বর ও তা ২ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হওয়া।
২. তীব্র মাথাব্যথা হওয়া।
৩. চোখের পেছনের অংশে ব্যথা হওয়া।
৪. জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি চোখে পড়া।
৫. সম্পূর্ণ শরীরে তীব্র ব্যথা ও সেইসঙ্গে কোমরে ব্যথা।
৬. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।
৭. ত্বকে র্যাশ বা লাল দানা দানা দেখা দেওয়া।
রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে :
১. ২ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তীব্র জ্বর সঙ্গে নাক, মুখ বা বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া।
২. জ্বরের পাশাপাশি বুকে বা পেটে পানি জমে যাওয়া।
এইসব লক্ষণের যে কোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।
অপরদিকে
জ্বরের প্রথম ৩ দিন বাড়িতে অপেক্ষা করুন। অপরদিকে সারা শরীর পানি দিয়ে স্পঞ্জ করুন কিছুক্ষণ পরপর। এতে করে জ্বরের মাত্রা কমে আসবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান ও বিশ্রাম নিতে হবে। এরপরেও জ্বর না কমলে বা কিছু সময় পরপর বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়:
১. বাড়ির আশপাশ যতোটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করুন।
২. ঘরের ভেতরে থাকা ফুলের টব বা ভাঙা প্লাস্টিকের বোতল, ডাবের খোসা, টায়ার অথবা পলিথিন থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলুন ও ফুলের টব থেকে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করুন।
৩. মশা নিধনের জন্য সপ্তাহে অন্তত ৩ বার স্প্রে বা ফগিং করুন।
৪. বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় মশা নিধনে ব্যবহৃত ক্রিম সঙ্গে রাখতে পারেন।
৫. সন্ধ্যার পর বাড়ির ছোট থেকে বড় সদস্যরা মশারি ব্যবহার করুন।
৬. যেখানে-সেখানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি পরিষ্কার করে ফেলুন, কারণ এতে এডিস মশা ডিম পেড়ে থাকে এই সময়।
৭. অপরদিকে মশার প্রকোপ থেকে বাঁচতে মশারির সঙ্গে সঙ্গে ম্যাট ব্যবহার করতে পারেন।
৮. এডিস মশা যেহেতু দিনের বেলা কামড়ায় তাই দিনের বেলায় ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টানিয়ে ঘুমানোর দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সূত্র: https://dmpnews.org
This post was last modified on মে ১৮, ২০২৬ 4:18 pm
দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ প্রথম পাকিস্তানি মিউজিক ভিডিও হিসেবে ইউটিউবে ১০০ কোটি (১ বিলিয়ন)…
দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ নরওয়ের ওসলোতে যাওয়ার সময় ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে বহনকারী একটি…
দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ মহাকাশে এমন কিছু দৃশ্য রয়েছে, যেগুলো প্রথম দেখায় যেন কোনো…
দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ শুভ সকাল। বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ খৃস্টাব্দ, ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩…
দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ ভাতের সঙ্গে সামান্য ঘি খাওয়ার প্রচলন দক্ষিণ এশিয়ার বহু পরিবারেই…
দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ টেকসই অবকাঠামো, সম্পদের যথাযথ ব্যবহার এবং দায়িত্বশীল উৎপাদন চর্চার স্বীকৃতিস্বরূপ…