দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ ভিডিও কলের পর যোগাযোগ প্রযুক্তির পরবর্তী ধাপ হিসেবে হোলোগ্রাফিক যোগাযোগ নিয়ে গবেষণা জোরদার হয়েছে। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে দূরে অবস্থানকারী একজন ব্যক্তিকে ত্রিমাত্রিক অবয়বে দেখা সম্ভব হতে পারে।

হোলোগ্রাফিক যোগাযোগে বিশেষ ক্যামেরা, সেন্সর এবং উচ্চগতির নেটওয়ার্ক ব্যবহার করা হয়। এসব প্রযুক্তির সমন্বয়ে একজন মানুষের বাস্তবসম্মত ডিজিটাল প্রতিচ্ছবি তৈরি করা যায়।
প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ব্যবসায়িক সভা, শিক্ষা এবং চিকিৎসা খাতে এই প্রযুক্তি বিপ্লব ঘটাতে পারে। দূরবর্তী অবস্থান থেকেও মানুষ যেন একই কক্ষে উপস্থিত আছে- এমন অভিজ্ঞতা দেওয়া সম্ভব হবে।
বর্তমানে উচ্চ ব্যয় এবং জটিল অবকাঠামো এই প্রযুক্তির বড় চ্যালেঞ্জ। তবে ফাইভ জি ও ভবিষ্যতের সিক্স জি নেটওয়ার্ক উন্নত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এর ব্যবহার সহজ হতে পারে।
বিভিন্ন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে পরীক্ষামূলক হোলোগ্রাফিক যোগাযোগ ব্যবস্থা প্রদর্শন করেছে। গবেষণার অগ্রগতির কারণে প্রযুক্তিটি বাস্তব ব্যবহারের আরও কাছাকাছি চলে এসেছে।
বিশেষজ্ঞদের ধারণা, আগামী দশকের মধ্যে ভার্চুয়াল মিটিংয়ের ধারণা আমূল বদলে যেতে পারে। তখন শুধু স্ক্রিনে নয়, ত্রিমাত্রিক অবয়বে মানুষকে দেখা সম্ভব হবে।
তথ্যপ্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্বে হোলোগ্রাফিক যোগাযোগ এমন একটি প্রযুক্তি, যা ভবিষ্যতের ডিজিটাল যোগাযোগ ব্যবস্থাকে নতুন মাত্রা দিতে পারে।
>>>>>>>>>>>>>>
ডেঙ্গু প্রতিরোধ করবেন যেভাবে
মশা বাহিত একপ্রকার ভাইরাস জ্বর হলো ডেঙ্গু। এই জ্বর অন্যান্য ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়াজনিত জ্বর থেকে ভিন্ন। অবশ্য এই জ্বর কোনোভাবেই ছোঁয়াচে নয়। এই ভাইরাস জ্বর এককভাবে বা অন্যান্য ভাইরাস (চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, বার্মা ফরেস্ট, ফ্লু, রেসপাইরেটরি সিনসাইটিয়াল) এবং ব্যাকটেরিয়া (নিউমোক্কাস)-এর সঙ্গেও হতে পারে।
লক্ষণ ও জ্বরের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গুজ্বরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে-
১. সাধারণ ডেঙ্গুজ্বর।
২. রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বর।
সাধারণ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে চোখে পড়ে মূলত নিচের এই লক্ষণগুলো-
১. হঠাৎ করে তীব্র জ্বর ও তা ২ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হওয়া।
২. তীব্র মাথাব্যথা হওয়া।
৩. চোখের পেছনের অংশে ব্যথা হওয়া।
৪. জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি চোখে পড়া।
৫. সম্পূর্ণ শরীরে তীব্র ব্যথা ও সেইসঙ্গে কোমরে ব্যথা।
৬. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।
৭. ত্বকে র্যাশ বা লাল দানা দানা দেখা দেওয়া।
রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে :
১. ২ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তীব্র জ্বর সঙ্গে নাক, মুখ বা বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া।
২. জ্বরের পাশাপাশি বুকে বা পেটে পানি জমে যাওয়া।
এইসব লক্ষণের যে কোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।
অপরদিকে
জ্বরের প্রথম ৩ দিন বাড়িতে অপেক্ষা করুন। অপরদিকে সারা শরীর পানি দিয়ে স্পঞ্জ করুন কিছুক্ষণ পরপর। এতে করে জ্বরের মাত্রা কমে আসবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান ও বিশ্রাম নিতে হবে। এরপরেও জ্বর না কমলে বা কিছু সময় পরপর বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়:
১. বাড়ির আশপাশ যতোটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করুন।
২. ঘরের ভেতরে থাকা ফুলের টব বা ভাঙা প্লাস্টিকের বোতল, ডাবের খোসা, টায়ার অথবা পলিথিন থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলুন ও ফুলের টব থেকে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করুন।
৩. মশা নিধনের জন্য সপ্তাহে অন্তত ৩ বার স্প্রে বা ফগিং করুন।
৪. বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় মশা নিধনে ব্যবহৃত ক্রিম সঙ্গে রাখতে পারেন।
৫. সন্ধ্যার পর বাড়ির ছোট থেকে বড় সদস্যরা মশারি ব্যবহার করুন।
৬. যেখানে-সেখানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি পরিষ্কার করে ফেলুন, কারণ এতে এডিস মশা ডিম পেড়ে থাকে এই সময়।
৭. অপরদিকে মশার প্রকোপ থেকে বাঁচতে মশারির সঙ্গে সঙ্গে ম্যাট ব্যবহার করতে পারেন।
৮. এডিস মশা যেহেতু দিনের বেলা কামড়ায় তাই দিনের বেলায় ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টানিয়ে ঘুমানোর দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সূত্র: https://dmpnews.org