দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ মানুষ বহু দশক ধরে সূর্যকে পর্যবেক্ষণ করলেও তার উত্তর এবং দক্ষিণ মেরু অঞ্চল এতদিন কার্যত অজানাই ছিল।

সম্প্রতি ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থার সৌর পর্যবেক্ষণ মিশন প্রথমবারের মতো সূর্যের মেরু অঞ্চলের কাছাকাছি থেকে বিস্তারিত ছবি এবং বৈজ্ঞানিক তথ্য সংগ্রহ করেছে। এটি জ্যোতির্বিজ্ঞানের ইতিহাসে একটি যুগান্তকারী সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এতদিন পৃথিবী এবং অধিকাংশ মহাকাশযান সূর্যকে বিষুবরেখার কাছাকাছি কক্ষপথ থেকে দেখেছে। ফলে সূর্যের মেরু অঞ্চলের প্রকৃত অবস্থা জানা সম্ভব হয়নি। নতুন পর্যবেক্ষণে বিজ্ঞানীরা দেখতে পেয়েছেন, মেরু অঞ্চলে চৌম্বক ক্ষেত্রের আচরণ ধারণার চেয়েও অনেক বেশি জটিল। এখান থেকেই সূর্যের চৌম্বক চক্রের সূচনা হয় এবং পরে তা পুরো সৌরজগতকে প্রভাবিত করে।
বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, এই তথ্য সৌরঝড়ের পূর্বাভাস আরও নির্ভুল করতে সাহায্য করবে। সৌরঝড়ের কারণে পৃথিবীর স্যাটেলাইট, জিপিএস ব্যবস্থা, বিদ্যুৎ গ্রিড এবং যোগাযোগ নেটওয়ার্ক ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই সূর্যের মেরু অঞ্চল সম্পর্কে নতুন তথ্য শুধু বৈজ্ঞানিক কৌতূহলই মেটাবে না, বাস্তব জীবনেও এর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব পড়বে।
বিশেষজ্ঞরা আরও জানিয়েছেন, সূর্যের মেরু অঞ্চলে গ্যাসের প্রবাহ এবং চৌম্বক রেখার বিন্যাস ভবিষ্যতের সৌরচক্র কেমন হবে, সে সম্পর্কেও ধারণা দিতে পারে। এটি মহাকাশ আবহাওয়া গবেষণায় নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে।
গবেষকদের মতে, আগামী কয়েক বছরে আরও কাছাকাছি থেকে পর্যবেক্ষণ চালানো হবে। এতে সূর্যের অভ্যন্তরীণ গঠন, শক্তি উৎপাদন এবং চৌম্বকীয় পরিবর্তন সম্পর্কে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যাবে।
মানবসভ্যতার কাছে সূর্য প্রতিদিনের একটি পরিচিত নক্ষত্র হলেও তার অনেক রহস্য এখনও অজানা। এই নতুন সাফল্য সেই রহস্য উন্মোচনের পথে একটি বড় পদক্ষেপ, যা ভবিষ্যতের মহাকাশ গবেষণাকে আরও সমৃদ্ধ করবে।
>>>>>>>>>>>>>>
ডেঙ্গু প্রতিরোধ করবেন যেভাবে
মশা বাহিত একপ্রকার ভাইরাস জ্বর হলো ডেঙ্গু। এই জ্বর অন্যান্য ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়াজনিত জ্বর থেকে ভিন্ন। অবশ্য এই জ্বর কোনোভাবেই ছোঁয়াচে নয়। এই ভাইরাস জ্বর এককভাবে বা অন্যান্য ভাইরাস (চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, বার্মা ফরেস্ট, ফ্লু, রেসপাইরেটরি সিনসাইটিয়াল) এবং ব্যাকটেরিয়া (নিউমোক্কাস)-এর সঙ্গেও হতে পারে।
লক্ষণ ও জ্বরের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গুজ্বরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে-
১. সাধারণ ডেঙ্গুজ্বর।
২. রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বর।
সাধারণ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে চোখে পড়ে মূলত নিচের এই লক্ষণগুলো-
১. হঠাৎ করে তীব্র জ্বর ও তা ২ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হওয়া।
২. তীব্র মাথাব্যথা হওয়া।
৩. চোখের পেছনের অংশে ব্যথা হওয়া।
৪. জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি চোখে পড়া।
৫. সম্পূর্ণ শরীরে তীব্র ব্যথা ও সেইসঙ্গে কোমরে ব্যথা।
৬. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।
৭. ত্বকে র্যাশ বা লাল দানা দানা দেখা দেওয়া।
রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে :
১. ২ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তীব্র জ্বর সঙ্গে নাক, মুখ বা বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া।
২. জ্বরের পাশাপাশি বুকে বা পেটে পানি জমে যাওয়া।
এইসব লক্ষণের যে কোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।
অপরদিকে
জ্বরের প্রথম ৩ দিন বাড়িতে অপেক্ষা করুন। অপরদিকে সারা শরীর পানি দিয়ে স্পঞ্জ করুন কিছুক্ষণ পরপর। এতে করে জ্বরের মাত্রা কমে আসবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান ও বিশ্রাম নিতে হবে। এরপরেও জ্বর না কমলে বা কিছু সময় পরপর বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়:
১. বাড়ির আশপাশ যতোটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করুন।
২. ঘরের ভেতরে থাকা ফুলের টব বা ভাঙা প্লাস্টিকের বোতল, ডাবের খোসা, টায়ার অথবা পলিথিন থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলুন ও ফুলের টব থেকে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করুন।
৩. মশা নিধনের জন্য সপ্তাহে অন্তত ৩ বার স্প্রে বা ফগিং করুন।
৪. বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় মশা নিধনে ব্যবহৃত ক্রিম সঙ্গে রাখতে পারেন।
৫. সন্ধ্যার পর বাড়ির ছোট থেকে বড় সদস্যরা মশারি ব্যবহার করুন।
৬. যেখানে-সেখানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি পরিষ্কার করে ফেলুন, কারণ এতে এডিস মশা ডিম পেড়ে থাকে এই সময়।
৭. অপরদিকে মশার প্রকোপ থেকে বাঁচতে মশারির সঙ্গে সঙ্গে ম্যাট ব্যবহার করতে পারেন।
৮. এডিস মশা যেহেতু দিনের বেলা কামড়ায় তাই দিনের বেলায় ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টানিয়ে ঘুমানোর দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সূত্র: https://dmpnews.org