দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ কানের ভেতরে হলুদ বা বাদামি ময়লার মতো যে পদার্থটি দেখা যায়, সেটিকে অনেকেই শুধু ‘ময়লা’ মনে করেন। তাই কেও কেও প্রতিদিন কটন বাড, কাঠি, পিন কিংবা অন্য কোনো বস্তু দিয়ে কান পরিষ্কার করেন।

তবে বিস্ময়কর সত্য হলো- কানের ময়লা কিংবা Earwax আসলে শরীরের একটি প্রাকৃতিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। এটি শুধু ময়লা নয়; কানের বাইরের নালিকে সুরক্ষিত এবং আর্দ্র রাখার পাশাপাশি ধুলা, ময়লা এবং কিছু জীবাণু আটকে রাখতে সাহায্য করে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ২০২৬ সালের কানের যত্নবিষয়ক নির্দেশনায় জানিয়েছে, কানের ভেতরের অংশ নিজে নিজেই পরিষ্কার হয়। সাধারণত কানের বাইরের অংশ নরম কাপড় কিংবা তুলা দিয়ে পরিষ্কার করাই যথেষ্ট। কানের ভেতরে কোনো বস্তু কিংবা তরল ঢোকানো উচিত নয়, যদি না কোনো স্বাস্থ্যকর্মী তা ব্যবহারের পরামর্শ দেন।
কানের মোমের একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো কানের নালিকে সুরক্ষা দেওয়া। এটি ধুলা এবং বাইরের কণাকে আটকে রাখতে পারে এবং কানের ত্বককে শুষ্ক হয়ে যাওয়া থেকে রক্ষা করে। স্বাভাবিক অবস্থায় পুরোনো মোম এবং মৃত কোষ ধীরে ধীরে কানের বাইরে চলে আসে। চিবানো এবং চোয়াল নড়াচড়ার মতো স্বাভাবিক কর্মকাণ্ডও এই প্রক্রিয়ায় সহায়তা করে।
তবে এর অর্থ এই নয় যে যত বেশি ময়লা থাকবে, কান তত বেশি সুরক্ষিত থাকবে। অতিরিক্ত কানের মোম জমে গেলে সমস্যা তৈরি হতে পারে। কানে বন্ধভাব, শ্রবণশক্তি কমে যাওয়া, কানে ব্যথা, চুলকানি কিংবা শব্দ শোনার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। তখন প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
সবচেয়ে বড় ভুল হলো কটন বাড দিয়ে কানের ভেতর পরিষ্কার করার চেষ্টা। এতে মোম বাইরে বের হওয়ার বদলে আরও ভেতরে ঠেলে যেতে পারে। একই সঙ্গে কানের নালির সংবেদনশীল ত্বকে আঘাত লাগতে পারে ও কানের পর্দার ক্ষতির ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে।
তাই গোসলের পর কানের বাইরের অংশ পরিষ্কার করা যেতে পারে, তবে কানের গভীরে কটন বাড ঢোকানো উচিত নয়। কানে মোম জমেছে মনে হলে নিজে নিজে পিন, কাঠি বা অন্য কোনো ধারালো বস্তু দিয়ে তা বের করার চেষ্টা করাও ঝুঁকিপূর্ণ।
যদি কানে হঠাৎ শুনতে কম লাগে, ব্যথা হয়, কানে দুর্গন্ধযুক্ত তরল কিংবা পুঁজ বের হয়, মাথা ঘোরে বা কান বন্ধ হয়ে থাকে, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। বিশেষ করে কানের পর্দায় ছিদ্র থাকার সন্দেহ, আগে কানে অস্ত্রোপচার হওয়া বা বারবার মোম জমার সমস্যা থাকলে নিজের মতো করে কান পরিষ্কার করা উচিত নয়।
অতএব, কানের স্বাস্থ্য রক্ষার মূলমন্ত্র হলো ‘কান যত বেশি পরিষ্কার, তত ভালো’- এমন নয়। বরং প্রয়োজন ছাড়া কানের ভেতরের স্বাভাবিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নষ্ট না করাই ভালো। সামান্য Earwax স্বাভাবিক ও উপকারী; তবে অতিরিক্ত জমে সমস্যা তৈরি করলে প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্যকর্মীর মাধ্যমে নিরাপদভাবে ব্যবস্থা নেওয়াই সবচেয়ে ভালো একটি পথ।
>>>>>>>>>>>>>>
ডেঙ্গু প্রতিরোধ করবেন যেভাবে
মশা বাহিত একপ্রকার ভাইরাস জ্বর হলো ডেঙ্গু। এই জ্বর অন্যান্য ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়াজনিত জ্বর থেকে ভিন্ন। অবশ্য এই জ্বর কোনোভাবেই ছোঁয়াচে নয়। এই ভাইরাস জ্বর এককভাবে বা অন্যান্য ভাইরাস (চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, বার্মা ফরেস্ট, ফ্লু, রেসপাইরেটরি সিনসাইটিয়াল) এবং ব্যাকটেরিয়া (নিউমোক্কাস)-এর সঙ্গেও হতে পারে।
লক্ষণ ও জ্বরের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গুজ্বরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে-
১. সাধারণ ডেঙ্গুজ্বর।
২. রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বর।
সাধারণ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে চোখে পড়ে মূলত নিচের এই লক্ষণগুলো-
১. হঠাৎ করে তীব্র জ্বর ও তা ২ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হওয়া।
২. তীব্র মাথাব্যথা হওয়া।
৩. চোখের পেছনের অংশে ব্যথা হওয়া।
৪. জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি চোখে পড়া।
৫. সম্পূর্ণ শরীরে তীব্র ব্যথা ও সেইসঙ্গে কোমরে ব্যথা।
৬. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।
৭. ত্বকে র্যাশ বা লাল দানা দানা দেখা দেওয়া।
রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে :
১. ২ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তীব্র জ্বর সঙ্গে নাক, মুখ বা বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া।
২. জ্বরের পাশাপাশি বুকে বা পেটে পানি জমে যাওয়া।
এইসব লক্ষণের যে কোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।
অপরদিকে
জ্বরের প্রথম ৩ দিন বাড়িতে অপেক্ষা করুন। অপরদিকে সারা শরীর পানি দিয়ে স্পঞ্জ করুন কিছুক্ষণ পরপর। এতে করে জ্বরের মাত্রা কমে আসবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান ও বিশ্রাম নিতে হবে। এরপরেও জ্বর না কমলে বা কিছু সময় পরপর বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়:
১. বাড়ির আশপাশ যতোটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করুন।
২. ঘরের ভেতরে থাকা ফুলের টব বা ভাঙা প্লাস্টিকের বোতল, ডাবের খোসা, টায়ার অথবা পলিথিন থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলুন ও ফুলের টব থেকে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করুন।
৩. মশা নিধনের জন্য সপ্তাহে অন্তত ৩ বার স্প্রে বা ফগিং করুন।
৪. বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় মশা নিধনে ব্যবহৃত ক্রিম সঙ্গে রাখতে পারেন।
৫. সন্ধ্যার পর বাড়ির ছোট থেকে বড় সদস্যরা মশারি ব্যবহার করুন।
৬. যেখানে-সেখানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি পরিষ্কার করে ফেলুন, কারণ এতে এডিস মশা ডিম পেড়ে থাকে এই সময়।
৭. অপরদিকে মশার প্রকোপ থেকে বাঁচতে মশারির সঙ্গে সঙ্গে ম্যাট ব্যবহার করতে পারেন।
৮. এডিস মশা যেহেতু দিনের বেলা কামড়ায় তাই দিনের বেলায় ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টানিয়ে ঘুমানোর দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সূত্র: https://dmpnews.org