দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ খাবার খাওয়ার পর পেট ভার লাগা, পেট ফাঁপা, ঢেঁকুর, বুক জ্বালা, অল্প খাবারেই পেট ভরে যাওয়া বা পেটের ওপরের অংশে অস্বস্তি- এসবকে অনেকে সাধারণ বদহজম বলে এড়িয়ে যান।

মাঝে মধ্যে হলে এটি গুরুতর নাও হতে পারে। তবে বদহজমের সমস্যা যদি বারবার হয় বা কিছুতেই কমতে না চায়, তখন বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা দরকার।
বদহজম কিংবা Dyspepsia আসলে একটি উপসর্গের সমষ্টি। অতিরিক্ত খাবার খাওয়া, খুব দ্রুত খাওয়া, অতিরিক্ত তেল-চর্বিযুক্ত খাবার, ঝাল খাবার, কফি কিংবা অ্যালকোহল কিছু মানুষের সমস্যা বাড়াতে পারে। ধূমপান, মানসিক চাপ এবং কিছু ওষুধও বদহজমের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে। তবে দীর্ঘদিনের বদহজমের পেছনে গ্যাস্ট্রাইটিস, আলসার, গ্যাস্ট্রোইসোফেজিয়াল রিফ্লাক্স বা H. pylori সংক্রমণের মতো কারণ থাকতে পারে।
প্রথম করণীয় হলো নিজের খাদ্যাভ্যাস পর্যবেক্ষণ করা। একসঙ্গে অনেক বেশি খাবার না খেয়ে খাবারের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করা যেতে পারে। খুব দ্রুত খাবার না খেয়ে ধীরে ধীরে ভালোভাবে চিবিয়ে খাওয়ার অভ্যাস করা ভালো। কোন খাবার খেলে সমস্যা বাড়ে, সেটিও লক্ষ্য করা প্রয়োজন। তবে অকারণে অনেক খাবার একসঙ্গে বাদ দেওয়া উচিত নয়।
খাওয়ার পরপরই শুয়ে পড়ার অভ্যাস থাকলে সেটি পরিবর্তন করা দরকার। বিশেষ করে রাতে বুক জ্বালা কিংবা খাবার মুখে উঠে আসার মতো সমস্যা থাকলে ঘুমানোর কয়েক ঘণ্টা আগে খাবার শেষ করার চেষ্টা করা যেতে পারে। অতিরিক্ত তেলযুক্ত এবং ঝাল খাবার, অতিরিক্ত কফি কিংবা কোমল পানীয় কিছু মানুষের উপসর্গ বাড়াতে পারে।
ধূমপান বদহজম এবং রিফ্লাক্সের সমস্যা বাড়াতে পারে। তাই ধূমপান এড়িয়ে চলা শুধু ফুসফুসের জন্য নয়, হজমতন্ত্রের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে নিয়মিত শারীরিক কর্মকাণ্ড, পর্যাপ্ত ঘুম ও মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখাও সামগ্রিক হজমস্বাস্থ্যের জন্য উপকারী।
তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো- দীর্ঘদিন ধরে সমস্যা থাকলে শুধু ঘরোয়া উপায়ে না থেকে কারণ খুঁজে বের করা। চিকিৎসক প্রয়োজন অনুযায়ী শারীরিক পরীক্ষা, H. pylori পরীক্ষা, এন্ডোস্কোপি কিংবা অন্যান্য পরীক্ষা করতে পারেন। বদহজমের চিকিৎসা নির্ভর করে এর কারণের ওপর।
কিছু লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া জরুরি। যেমন- বারবার বমি, বমিতে রক্ত, কালো পায়খানা, গিলতে কষ্ট, অকারণে ওজন কমে যাওয়া, তীব্র বা স্থায়ী পেটব্যথা, ক্ষুধা কমে যাওয়া বা রক্তস্বল্পতার লক্ষণ। এসব ক্ষেত্রে সাধারণ বদহজম ধরে নিয়ে দীর্ঘদিন অপেক্ষা করা উচিত নয়।
নিজে থেকে দীর্ঘদিন গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ খেয়ে যাওয়াও ঠিক নয়। কারণ ওষুধে সাময়িক আরাম পেলেও মূল কারণ থেকে যেতে পারে। বিশেষ করে বয়স বাড়ার সঙ্গে নতুন করে দীর্ঘস্থায়ী বদহজম শুরু হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরী।
সুতরাং বদহজম কমানোর সবচেয়ে কার্যকর পথ হলো- খাবারের পরিমাণ এবং ধরন নিয়ন্ত্রণ, ধীরে খাওয়া, প্রয়োজনীয় শারীরিক কর্মকাণ্ড, ধূমপান এড়িয়ে চলা ও দীর্ঘস্থায়ী হলে চিকিৎসকের মাধ্যমে কারণ নির্ণয় করা।
>>>>>>>>>>>>>>
ডেঙ্গু প্রতিরোধ করবেন যেভাবে
মশা বাহিত একপ্রকার ভাইরাস জ্বর হলো ডেঙ্গু। এই জ্বর অন্যান্য ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়াজনিত জ্বর থেকে ভিন্ন। অবশ্য এই জ্বর কোনোভাবেই ছোঁয়াচে নয়। এই ভাইরাস জ্বর এককভাবে বা অন্যান্য ভাইরাস (চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, বার্মা ফরেস্ট, ফ্লু, রেসপাইরেটরি সিনসাইটিয়াল) এবং ব্যাকটেরিয়া (নিউমোক্কাস)-এর সঙ্গেও হতে পারে।
লক্ষণ ও জ্বরের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গুজ্বরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে-
১. সাধারণ ডেঙ্গুজ্বর।
২. রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বর।
সাধারণ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে চোখে পড়ে মূলত নিচের এই লক্ষণগুলো-
১. হঠাৎ করে তীব্র জ্বর ও তা ২ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হওয়া।
২. তীব্র মাথাব্যথা হওয়া।
৩. চোখের পেছনের অংশে ব্যথা হওয়া।
৪. জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি চোখে পড়া।
৫. সম্পূর্ণ শরীরে তীব্র ব্যথা ও সেইসঙ্গে কোমরে ব্যথা।
৬. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।
৭. ত্বকে র্যাশ বা লাল দানা দানা দেখা দেওয়া।
রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে :
১. ২ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তীব্র জ্বর সঙ্গে নাক, মুখ বা বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া।
২. জ্বরের পাশাপাশি বুকে বা পেটে পানি জমে যাওয়া।
এইসব লক্ষণের যে কোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।
অপরদিকে
জ্বরের প্রথম ৩ দিন বাড়িতে অপেক্ষা করুন। অপরদিকে সারা শরীর পানি দিয়ে স্পঞ্জ করুন কিছুক্ষণ পরপর। এতে করে জ্বরের মাত্রা কমে আসবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান ও বিশ্রাম নিতে হবে। এরপরেও জ্বর না কমলে বা কিছু সময় পরপর বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়:
১. বাড়ির আশপাশ যতোটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করুন।
২. ঘরের ভেতরে থাকা ফুলের টব বা ভাঙা প্লাস্টিকের বোতল, ডাবের খোসা, টায়ার অথবা পলিথিন থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলুন ও ফুলের টব থেকে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করুন।
৩. মশা নিধনের জন্য সপ্তাহে অন্তত ৩ বার স্প্রে বা ফগিং করুন।
৪. বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় মশা নিধনে ব্যবহৃত ক্রিম সঙ্গে রাখতে পারেন।
৫. সন্ধ্যার পর বাড়ির ছোট থেকে বড় সদস্যরা মশারি ব্যবহার করুন।
৬. যেখানে-সেখানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি পরিষ্কার করে ফেলুন, কারণ এতে এডিস মশা ডিম পেড়ে থাকে এই সময়।
৭. অপরদিকে মশার প্রকোপ থেকে বাঁচতে মশারির সঙ্গে সঙ্গে ম্যাট ব্যবহার করতে পারেন।
৮. এডিস মশা যেহেতু দিনের বেলা কামড়ায় তাই দিনের বেলায় ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টানিয়ে ঘুমানোর দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সূত্র: https://dmpnews.org