দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ রুক্ষ, শুষ্ক ও প্রাণহীন চুল অনেকের কাছেই বিরক্তির কারণ। চুলের স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা হারিয়ে যাওয়ার পেছনে থাকতে পারে অতিরিক্ত রোদ, ধুলোবালি, ঘন ঘন শ্যাম্পু করা, অতিরিক্ত হিট ব্যবহার, চুলে রং বা রাসায়নিক প্রয়োগ, পর্যাপ্ত যত্নের অভাব কিংবা শরীরে প্রয়োজনীয় পুষ্টির ঘাটতি।

অনেক সময় চুলের ধরন অনুযায়ী সঠিক পণ্য ব্যবহার না করলেও চুল আরও শুষ্ক এবং ভঙ্গুর হয়ে যায়। আমেরিকান একাডেমি অব ডার্মাটোলজি বা AAD-এর বিশেষজ্ঞরা চুলের ধরন অনুযায়ী পরিচর্যার ওপর গুরুত্ব দেন।
রুক্ষ চুলের যত্নের প্রথম ধাপ হলো অতিরিক্ত শ্যাম্পু করা বন্ধ করা। যাদের চুল শুষ্ক, কোঁকড়ানো কিংবা ঘন, তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী শ্যাম্পু করা উচিত। প্রতিদিন শ্যাম্পু করার অভ্যাস অনেকের চুলের প্রাকৃতিক আর্দ্রতা কমিয়ে দিতে পারে। শ্যাম্পু মূলত মাথার ত্বকে প্রয়োগ করাই ভালো; চুলের পুরো দৈর্ঘ্যে ঘষে ঘষে শ্যাম্পু করার প্রয়োজন নেই। এতে চুল অতিরিক্ত শুষ্ক হয়ে যেতে পারে। শ্যাম্পুর পর কন্ডিশনার ব্যবহার করা গুরুত্বপূর্ণ। শুষ্ক চুল হলে চুলের দৈর্ঘ্যজুড়ে কন্ডিশনার ব্যবহার করা যেতে পারে।
ভেজা চুল খুবই সংবেদনশীল। তাই গোসলের পর জোরে তোয়ালে দিয়ে ঘষে চুল শুকানোর বদলে আলতোভাবে পানি শুষে নেওয়া ভালো। ভেজা চুল আঁচড়ানোর সময় শক্ত ব্রাশের পরিবর্তে চওড়া দাঁতের চিরুনি ব্যবহার করা যেতে পারে। নিচের দিক থেকে ধীরে ধীরে জট ছাড়ালে চুল ছিঁড়ে যাওয়ার ঝুঁকি কমে।
চুলের রুক্ষতা কমাতে হিট ব্যবহারের ক্ষেত্রেও সতর্ক হতে হবে। হেয়ার ড্রায়ার, স্ট্রেইটনার এবং কার্লিং আয়রনের অতিরিক্ত ব্যবহার চুলের ক্ষতি করতে পারে। প্রয়োজন হলে কম কিংবা মাঝারি তাপমাত্রা ব্যবহার ও হিট-প্রটেকশন পণ্য নেওয়া ভালো।
খাবারের দিকেও নজর দিতে হবে। পর্যাপ্ত প্রোটিন, ডিম, মাছ, ডাল, বাদাম, শাকসবজি, ফলমূল এবং অন্যান্য পুষ্টিকর খাবার খাদ্যতালিকায় রাখা উচিত। পর্যাপ্ত পানি পান করাও সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্য জরুরি। তবে শুধু তেল বা কোনো ঘরোয়া উপাদান ব্যবহার করলেই রুক্ষ চুল স্থায়ীভাবে ভালো হয়ে যাবে- এমন নিশ্চয়তা নেই।
চুল হঠাৎ অতিরিক্ত পড়ে গেলে, মাথার ত্বকে চুলকানি বা ক্ষত হলে, খুশকি অত্যধিক বেড়ে গেলে বা দীর্ঘদিন পরিচর্যার পরও সমস্যা থাকলে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত। কারণ হলো কখনও কখনও চুলের পরিবর্তন কোনো অন্তর্নিহিত শারীরিক সমস্যার ইঙ্গিতও হতে পারে।
>>>>>>>>>>>>>>
ডেঙ্গু প্রতিরোধ করবেন যেভাবে
মশা বাহিত একপ্রকার ভাইরাস জ্বর হলো ডেঙ্গু। এই জ্বর অন্যান্য ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়াজনিত জ্বর থেকে ভিন্ন। অবশ্য এই জ্বর কোনোভাবেই ছোঁয়াচে নয়। এই ভাইরাস জ্বর এককভাবে বা অন্যান্য ভাইরাস (চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, বার্মা ফরেস্ট, ফ্লু, রেসপাইরেটরি সিনসাইটিয়াল) এবং ব্যাকটেরিয়া (নিউমোক্কাস)-এর সঙ্গেও হতে পারে।
লক্ষণ ও জ্বরের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গুজ্বরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে-
১. সাধারণ ডেঙ্গুজ্বর।
২. রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বর।
সাধারণ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে চোখে পড়ে মূলত নিচের এই লক্ষণগুলো-
১. হঠাৎ করে তীব্র জ্বর ও তা ২ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হওয়া।
২. তীব্র মাথাব্যথা হওয়া।
৩. চোখের পেছনের অংশে ব্যথা হওয়া।
৪. জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি চোখে পড়া।
৫. সম্পূর্ণ শরীরে তীব্র ব্যথা ও সেইসঙ্গে কোমরে ব্যথা।
৬. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।
৭. ত্বকে র্যাশ বা লাল দানা দানা দেখা দেওয়া।
রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে :
১. ২ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তীব্র জ্বর সঙ্গে নাক, মুখ বা বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া।
২. জ্বরের পাশাপাশি বুকে বা পেটে পানি জমে যাওয়া।
এইসব লক্ষণের যে কোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।
অপরদিকে
জ্বরের প্রথম ৩ দিন বাড়িতে অপেক্ষা করুন। অপরদিকে সারা শরীর পানি দিয়ে স্পঞ্জ করুন কিছুক্ষণ পরপর। এতে করে জ্বরের মাত্রা কমে আসবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান ও বিশ্রাম নিতে হবে। এরপরেও জ্বর না কমলে বা কিছু সময় পরপর বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়:
১. বাড়ির আশপাশ যতোটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করুন।
২. ঘরের ভেতরে থাকা ফুলের টব বা ভাঙা প্লাস্টিকের বোতল, ডাবের খোসা, টায়ার অথবা পলিথিন থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলুন ও ফুলের টব থেকে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করুন।
৩. মশা নিধনের জন্য সপ্তাহে অন্তত ৩ বার স্প্রে বা ফগিং করুন।
৪. বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় মশা নিধনে ব্যবহৃত ক্রিম সঙ্গে রাখতে পারেন।
৫. সন্ধ্যার পর বাড়ির ছোট থেকে বড় সদস্যরা মশারি ব্যবহার করুন।
৬. যেখানে-সেখানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি পরিষ্কার করে ফেলুন, কারণ এতে এডিস মশা ডিম পেড়ে থাকে এই সময়।
৭. অপরদিকে মশার প্রকোপ থেকে বাঁচতে মশারির সঙ্গে সঙ্গে ম্যাট ব্যবহার করতে পারেন।
৮. এডিস মশা যেহেতু দিনের বেলা কামড়ায় তাই দিনের বেলায় ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টানিয়ে ঘুমানোর দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সূত্র: https://dmpnews.org